দুর্নীতি শতভাগ নির্মূলে পদক্ষেপ নিয়েছি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৭, আগস্ট ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৬, আগস্ট ৩০, ২০১৯

নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের করণীয় শীর্ষক এক সেমিনারস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হয়েছে। আমরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না, দুর্নীতিকে শতভাগ নির্মূল করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকারের সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছি। প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীতা দেখা দিচ্ছে। আমাদের সক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী তারা পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। আমি মনে করি না, কোথাও সমন্বয়হীনতা আছে। যেখানে সমস্যা আছে, সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। যদি সমন্বয়হীনতা থাকে, সেটিকে আমরা সমন্বয় করবো।
ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এমপিদের ভূমিকা নেই−সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আসলে বিষয়টি এমন মনে করছি না। এখানে নির্বাহী দায়িত্বটা হয়তো সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের ওপর বার্তায়। আর সংসদ সদস্যরা সমন্বয় করেছেন বলে আমি জানি। এখন কোথায় সমন্বয় করেন, সেটি আমি বলতে পারবো না। এমন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। মন্ত্রী বলেন, নগর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এটা ঠিক হতে সময় লাগবে। সবকিছুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া সবকিছুর জন্য দরকার জনসচেতনতা।
অনুষ্ঠানে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সরকারব্যবস্থা একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা। নগর ভবনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, গণপূর্তমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি সভা হয়। সেখানে ঢাকা শহরের জলজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ঠেলাঠেলি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওয়াসাকে দ্বিখণ্ডিত করে সেটি সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন হয়নি। এ সময় নাগরিক সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর কাছে ৬টি দাবি তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার ওপর একটি কি নোট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মাদ খান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। আমাদের স্থানীয় সরকারে যে বাজেট দেওয়া হয়, তা দিয়ে নাগরিকরা সর্বোত্তম সেবা পাচ্ছে কিনা সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। বর্তমান সময়ে আমাদের জনস্বার্থের বিষয়টি বেশি আলোচিত। বিশেষ করে ডেঙ্গুর কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। এসব মোকাবিলায় আমরা কীভাবে বছরব্যাপী কাজ করতে পারি, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর নাগরিকদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা কীভাবে স্থানীয় সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়টি নজরে দেওয়া।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, সেবা প্রদান ও গ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। অর্থ ও জনবলের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা যদি ভালো সেবা দিতে চাই, সেবার মান বাড়াতে চাই, তাহলে এই জায়গাটিতে আরও বেশি উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য রিসোর্স থাকতে হবে এবং সেই রিসোর্সগুলোকে একেবারে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সুতরাং জনগণের কাছে তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও বেশি। ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান প্রমুখ। 

/এসএস/ওআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X