এসব ‘বিপজ্জনক’ তথ্য

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৯:৫৯, নভেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৮, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

তথ্য কমিশন তথ্য চেয়ে না পাওয়ায় অভিযোগ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জমিজমার তথ্য জানতে চেয়েছিলেন সাইফুল হক (ছদ্মনাম)। কিন্তু তাকে তথ্য দেওয়া  হয়নি। কেন তথ্য দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য জানতে চেয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব বিপজ্জনক তথ্য, দেওয়া যাবে না।’ শুধু সাইফুল না, তার মতো ভুক্তভোগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। এ বিষয়ে কমিশন অফিস বলছে, কোন তথ্য দেওয়া যাবে সেটা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় এ  ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেক সময়  দুর্নীতি থাকলেও তথ্য দিতে চায় না।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাধারণত যেসব তথ্য না পেয়ে এখন পর্যন্ত কমিশনে হাজির হতে দেখা গেছে সেগুলো তেমন স্পর্শকাতর বা একান্ত ব্যক্তিগত নয়।

তথ্য অধিকার আইন  অনুযায়ী, কোনও বিষয়ে তথ্য চেয়ে না পাওয়া গেলে তার জন্য আবেদন করা যায়। এরপরও প্রতিষ্ঠান তথ্য না দিলে তথ্য কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া যায়। গত ৯ বছরে তথ্য কমিশনে জমা হওয়া ও নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,  ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাওয়া তথ্যগুলো ‘অতি সাধারণ’। ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্যও সরবরাহ করা হয় না।

কমিশন সূত্র বলছে, ২০১০ সালের  পর কমিশনে ৩ হাজার ৩৩৬টি তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ লিপিপদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৯৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমিশন তথ্য দিতে আদেশ দিয়েছেন।

কমিশন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চাওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি, কোন মৌজায় খাস জমি আছে, মেডিক্যালে কোন কোন সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয় বা কোন মূল্য তালিকা আছে কিনা, কোন এলাকার বয়স্ক ভাতার নামের তালিকা, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রাপ্ত নম্বর, উন্নয়নমুলক কাজের বিবরণ, রাস্তার নামফলকের তথ্যের উৎস, কোন এলাকায় মন্ত্রণালয় থেকে কী পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দ গেছে, কোনও একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিষ্ঠান নাকি নিজেরা তদন্ত করেছে, প্রকাশিত ধর্ষণ সংবাদের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এমন সব জানতে চাওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খানের মতে, এসবের কোনোটিই কমিশন পর্যন্ত অভিযোগ আকারে যাওয়া উচিত নয়।স্পর্শকাতর বা একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।যেসব প্রাথমিক তথ্য দিলে ক্ষতি নেই তা প্রতিষ্ঠানকে জানতে হবে। সেটা যখন দেয় না, তখন বোঝা যায় সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সেখানে তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। কমিশনগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলেও তিনি মনে করেন।

কমিশনে প্রথম অভিযোগ হিসেবে জমা পড়ে, আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিজিএমইএ ভবনের নির্মাণ অনুমোদন সম্পর্কিত তথ্য জানতে চেয়ে করা আবেদন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন,  ‘প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য একটি প্রতিষ্ঠান না দেওয়ায় কমিশন পর্যন্ত যেতে হলে অযথা কালক্ষেপণ হয়। মহেশখালী সংরক্ষিত বনের  পাহাড় কাটাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ প্রতিবেদন (ইআইএ) দেখতে চাইলে তাকে সেটা সরবরাহ করা হয়নি। এটি এমন কোনও বিপজ্জনক নথি নয়। এটি পাবলিক ডকুমেন্ট।’

কয়েকবার কমিশনের অভিযোগ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘তথ্য কমিশনের ওরিয়েন্টিশন থাকতে হবে। কেবল তথ্য দেওয়া না, সময়ের মধ্যে দিতে পারাটা জরুরি। তথ্য কমিশন যাতে সময়ের মধ্যে তথ্য  মানুষের হাতে দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমাদের হাইকোর্টে যাওয়ার সময় হয়েছে।’

প্রধান তথ্য কমিশনার অসুস্থ থাকায় জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামানিক তথ্য না দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্নীতি থাকলে তথ্য দিতে চায় না। এছাড়া জনবল কম, দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি এ কাজ করতে হয়। তাই অনেকে তথ্য দিতে চায় না। তথ্য অধিকার আইন নিয়েও অনেকের ধারণা নেই।সেক্ষেত্রে তথ্য দিতে চায় না।’

 

 

/ইউআই/এসটি/

লাইভ

টপ