আমার ওপর ‘প্রেশার’ আছে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০৮, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১০, নভেম্বর ১২, ২০১৯

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীঅভিবাসন খাতের উন্নয়নে ও বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, অভিবাসন খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে এবং শূন্য অভিবাসন খরচসহ নানা পদক্ষেপ নিতে গিয়ে চাপের মুখে আছি। আমার ওপর প্রেশার আছে। তবে আমার কাঁধ একটু বড়, আমি ওজন নিতে পারবো। আমার ভরসার স্থল হলো প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমার সঙ্গে আছেন। যতদিন তার সমর্থন পাবো, আমি যা কিছুর মুখোমুখি হওয়ার হবো।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘অভিবাসন ব্যবসার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ অনেক ব্যবসায়ী জড়িত। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে এবং শূন্য অভিবাসন খরচসহ নানা পদক্ষেপ নিতে গিয়ে কোনও চাপের মুখে আছেন কিনা’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা’র পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার একটি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বায়রা সব রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন। যেহেতু তারা রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন আমি সিদ্ধান্ত নেই তাদের সঙ্গে মেলামেশা বাড়াবো। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুন্দরভাবে এগিয়েও যাচ্ছিলাম। তবে কোনও এক জায়গায় হয়তো বায়রা চিন্তা করা শুরু করলো যে- তারা সরকারের একটি অঙ্গ হয়ে গেছে। কিন্তু এটা তাদের ভুল ধারণা।

তিনি বলেন, তাদের কোনও অধিকার নেই, কোনও কিছু বলার। আর বিশেষ করে বিদেশি আরেকটি সরকারের মন্ত্রীকে তারা পরামর্শ দিতে পারে না। তারা বলতে চাইলে আমাকে বলবে, খারাপ-ভালো যাই পরামর্শ আমি শুনতে রাজি আছি। তবে বিদেশে আমারই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেবেন, এটা তো হতে পারে না। তারা কি মন্ত্রণালয়কে রিপ্রেজেন্ট করছে? আমি এ বিষয়ে জারতে তাদের চিঠি দিয়েছি। তবে তারা চিঠির কোনও জবাব দেয়নি, তারা দেবেও না। কারণ, তাদের সেই সৎ সাহস নেই।

‘মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে বাংলাদেশ থেকেই সিন্ডিকেটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে’- সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানে না থাকলে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তার বক্তব্য রাখতে পারেন। সেই অধিকার ওনার আছে। কিন্তু অসৎ তথ্য রাখার অধিকার কারও নেই। উনি ৩৫ জনের সিন্ডিকেটের কথা বলেছেন, এটা উনি কোথায় পেলেন, আমি কিন্তু জানি না। আমরা যারা মালয়েশিয়ায় বৈঠকে ছিলাম তারা জানে যে, ওখানে কোনও সিন্ডিকেটের কথা হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের জয়েন্ট স্টেটমেন্ট আছে।

তিনি আরও বলেন, আমার টার্গেট হলো স্বল্প খরচে আমাদের শ্রমিকদের বাইরে পাঠানো। যাতে তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের উন্নয়ন হয়।

মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন করে ডেটাব্যাংক তৈরি করা হচ্ছে এমনটি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজার খোলার টার্গেট আমরা অনেকবার নিয়েছি। তবে ২০১৩ সালের ডেটাবেজ আর এখনকার ডেটাবেজ সম্পূর্ণ আলাদা। ওটা এককালীনভাবে মালয়েশিয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেটা মেয়াদোত্তীর্ণ। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল কর্নার থেকেই শ্রমিকদের ডেটাবেজবুক্ত করার জন্য কাজ করছি।

এসময় সচিব সেলিম রেজা জানান, আগামী ২৪-২৫ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অমীমাংসিত কিছু বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পুনরায় শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব নাজীবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব শহীদুল আলম, যুগ্ম সচিব নাসরিন জাহানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসও/টিটি/

লাইভ

টপ