রাঙ্গার বক্তব্যে সংসদে ক্ষোভ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪৩, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৮, নভেম্বর ১২, ২০১৯





জাতীয় সংসদনব্বইয়ের স্বৈরাচার আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। বিতর্কিত এই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন তারা। এসময় জাতীয় পার্টির দুই সংসদ সদস্যও রাঙ্গার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ওই বক্তব্য রাঙ্গার ব্যক্তিগত। জাতীয় পার্টি ওই বক্তব্য সমর্থন করে না।’ এ সময় তারা পার্টির পক্ষে দুঃখও প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের তাহজীব আলম সিদ্দিকী দুদিন আগে মশিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্যের প্রসঙ্গটি তোলেন। পরে দলটির সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও মজিবুল হক চুন্নু বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। তবে, মশিউর রহমান রাঙ্গা অনুপস্থিত ছিলেন অধিবেশনে।
আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য শুনেছি। কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন। একজন সুস্থ মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় এই বক্তব্য দিতে পারেন না। তার এই বক্তব্য সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে ব্যথা দিয়েছে। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বক্তব্যের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি। তিনি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও খারাপ মন্তব্য করেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তোফায়েল বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না হলে তিনি বিজয়ী হতে পারতেন কি না, তা বলতে চাই না। একজন সুস্থ মানুষ হলে, স্বাভাবিক থাকলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে এমন সমালোচনা করতো না। এ জন্য তার দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত।
রাঙ্গার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, কোনও সুস্থ লোক এ ধরনের কথা বলতে পারে না। কোনও বিবেকবান লোক এটা বলতে পারে না।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করে সেলিম বলেন, রাঙ্গাকে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। এসব কথা সুস্থ লোক বলতে পারে না। এত বিপ্লবী যদি হতেন, তবে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে চলে যেতেন। রাঙ্গার এ ধরনের বক্তব্য রাজনীতি, গণতন্ত্রের জন্য দুঃখজনক; তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। এসময় জাতীয় পার্টি এ নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
আমির হোসেন আমু বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো এইচএম এরশাদের কুকীর্তি ঢাকতে মশিউর রহমান অবান্তর কথা বলেছেন। নূর হোসেনকে যখন হত্যা করা হয় তখন ফেনসিডিল, ইয়াবা—এসব শব্দের সঙ্গেও মানুষ পরিচিত ছিল না।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রাঙার বক্তব্যের সমালোচনা করে আমু বলেন, যার নেতৃত্বে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তার বিরুদ্ধে এতবড় ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, রাঙ্গা অর্বাচীন চিফ হুইপ। নিঃশর্তভাবে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে।
গণফোরামের সুলতান মনসুর বলেন, রাঙ্গা সাহেব সংসদকে অবমাননা করেছেন। স্বৈরাচারের পতন না হলে রাঙ্গা সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। রাঙ্গার এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে—স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের চরিত্র, প্রেতাত্মার পরিবর্তন হয়নি। রাঙ্গার গণবিরোধী, সুবিধাবাদী চরিত্রও স্পষ্ট হয়েছে। রাঙ্গার অবশ্যই সংসদে ক্ষমা চাইতে হবে।
নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, রাঙ্গা শুধু নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নয়; স্বাধীনতা, সংসদ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, সবাইকে অপমান করেছেন। তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব থেকে রাঙ্গাকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন।

 

/ইএইচএস/আইএ/ টিএন/

লাইভ

টপ