ঝুলে আছে ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক’ গঠন

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ০৮:১২, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩১, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

বিধিমালার কারণে এখনও গঠন করা যায়নি ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক’। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সংগঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় এর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত অক্টোবরেও এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করতে নিবন্ধিত সব এনজিওকে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের জানমালের সুরক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’কে সামনে রেখেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। গত ৯ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নিতে বলা হয়। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র উপযোগী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির সমন্বয়ের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক’ সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা সবার কাজের সমন্বয় করবে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’-এর অধীনে খসড়া বিধিমালা অনেক আগেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পর্যালোচনা শেষে বিধিমালা জারির আদেশ জারি করা হলে এই সংগঠনের কাজ শুরু হবে। তখন দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও পৌরসভা বা ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইউনিটের মাধ্যমে এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিটে দুর্যোগ বার্তা প্রচার গ্রুপ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার গ্রুপ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রুপ, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা গ্রুপ, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা গ্রুপ থাকবে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও থাকবে এই সংগঠনে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই সংগঠনের সর্বশেষ অবস্থা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলতে পারবেন। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নানা কমিটি আছে। আমরা জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে কাজ করে থাকি। এবারের দুর্যোগ বুলবুলের ক্ষেত্রেও সেভাবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।’ তবে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার সুবাস চন্দ্র সাহা এই সংগঠনের বিষয়ে এখনও পুরোপুরি অবহিত নন বলে জানান তিনি। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক ভলান্টিয়ার সিস্টেমে একটা অরগানাইজেশন হবে, যা হবে আমব্রেলা ইউনিট। এখানে স্কাউটস, গার্লস গাইড ও যুব রেডক্রিসেন্টসহ সবাই থাকবে, যা ন্যাশনাল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। এজন্য বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে।’ এর অনুমোদন হয়ে গেলেই সংগঠনের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ