ভবিষ্যতে রেল দুর্ঘটনা এড়াতে সচেষ্ট থাকার অঙ্গীকার রেলমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৬, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৮, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনভবিষ্যতে সব ধরনের রেল দুর্ঘটনা এড়াতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সচেষ্ট থাকবে বলে জাতীয় সংসদে অঙ্গীকার করেছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিবৃতিতে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘১২ নভেম্বর মন্দবাগ স্টেশনে রাত ২টা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তুর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিকে মন্দবাগ স্টেশনে ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। উদয়ন এক্সপ্রেস ১৬টি কোচসহ মন্দবাগ স্টেশনের ৩ নম্বর লুপ লাইনে গমন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ট্রেনটি লাইনে প্রবেশ করছিল। ১৬টি কোচের মধ্যে ১২টি কোচ ওই লাইনে প্রবেশ করে। অন্যদিকে ঢাকাগামী তুর্ণা এক্সপ্রেস ২ নম্বর মেইন লাইনের আউটার সিগন্যালে অপেক্ষায় থাকার কথা। সংকেত দেওয়া হয়েছিল। তুর্ণা এক্সপ্রেসের লোকমাস্টার ওই সংকেত অমান্য করে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। ৩ নম্বর লাইনে প্রবেশরত উদয়ন এক্সপ্রেসের ১৩তম কোচে তুর্ণা এক্সপ্রেসটি আঘাত করলে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়।’

মন্ত্রী বলেন, তুর্ণার লোকমাস্টার সংকেত অমান্য করায় এ দুর্ঘটনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার জন্য কর্তব্যরত তিন জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— লোকমাস্টার তাসির উদ্দিন, সহকারী লোকমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমান। ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

দুর্ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় ১৬ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। ৫৪ জন আহত হন। আহত ও নিহতরা সবাই উদয়নের যাত্রী ছিলেন। লোকমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রেলওয়ের প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে আখাউড়া ও লাকসাম থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রিলিফ ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়। ১০টা ২৫ মিনিটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করে।’

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার সংবাদ ভোর রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি দুর্ঘটনাস্থলে যান। ভোর ৬টা নাগাদ তিনি রওনা হন। এর আগে রাত ৪টার দিকে রেল সচিব, ডিজি ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রওনা হন। র‍্যাব, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণ উদ্ধারকাজে অংশ নেন।’ তিনি এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

 

/ইএইচএস/এনআই/

লাইভ

টপ