জেলায় জেলায় পেঁয়াজ পাঠানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫০, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৭, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

পেঁয়াজ (ফাইল ছবি)বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৫০ হাজার মেট্রিন টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এই পেঁয়াজ চলে এলে টিসিবির মাধ্যমে তা জেলায় জেলায় পাঠানো হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কথা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে পেঁয়াজের কেজি ৮-১০ টাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি মাত্র একটি রাজ্যে। তারা অন্য কোথাও পেঁয়াজ যেতে দিচ্ছে না বলেই কম দাম। আর ভারতবর্ষে পেঁয়াজ বর্তমানে একশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাদেরই পেঁয়াজের অভাব। তারা বিদেশ থেকে আমদানি করছে।’

বাংলাদেশের পেঁয়াজের পরিস্থিতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে পেঁয়াজ কিন্তু আছে। দেখা যাচ্ছে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, কিন্তু বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। দাম বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজ পাঠিয়েছি, ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসছি। পৃথিবীর আর কোথায় পেঁয়াজ পাওয়া যায়, সেটার খোঁজ নিয়ে আনার ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টনের এলসি খোলা হয়ে গেছে। সেখানে লোকও চলে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে চলে আসবে। আমি নির্দেশ দিয়েছি, এগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গেই টিসিবি সেটা নিয়ে নেবে, সব জেলায় জেলায় ট্রাকে করে এই পেঁয়াজ চলে যাবে। সেই আয়োজন আমরা করে ফেলেছি। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন আছি; যাতে এই সমস্যাটা না হয়।’

দেশে একটা সিজনে পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের গবেষকরা বারোমাসী পেঁয়াজের বীজ উদ্ভাবন করেছেন। এটা ভবিষ্যতে আমরা বাজারজাত করবো। তখন কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। আমাদের নিজেদের চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারবো।’

খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে যতই বলি, মানুষের চরিত্র বদলায় না। তবে সরকার অভিযান চালাচ্ছে বলেই মানুষ এই ভেজালের বিষয়টি জানতে পারছেন। কেবল খাদ্যে কেন, কসমেটিকসহ অনেক কিছু নকল করে ফেলছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং এটা থাকবে। ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ভেজাল খেয়ে খেয়ে আমরা বোধ হয় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ভেজাল খাচ্ছি, আবার আমরা বেঁচেও আছি; আমাদের গড় আয়ুও বাড়ছে।’ পণ্য পরীক্ষার জন্য বন্দর এলাকায় বিএসটিআই ল্যাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড আপগ্রেড করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। আর এখন বেতন কিন্তু তারা বেশিই পান। আমরা সরকারে আসার পর যত বেতন বাড়িয়েছি, কোনও সরকার তা পারেনি। শ্রমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে ব্যাপকভাবে বেতন বাড়িয়েছি। প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। বাকি যারা আছে, তারা শর্তগুলো পূরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে এমপিও হয়ে যাবে।’

আরও একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দ্বীপ খোঁজা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের পাশাপাশি ভারতেও এখন হচ্ছে। অল্প খরচে এখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পরমাণু বিদ্যুতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও আমাদের চুক্তিতে আছে। তারা এই বর্জ্য রাশিয়ায় নিয়ে যাবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আমাদের জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছি। দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পর আমরা আরও একটি পরামাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করবো। এজন্য আমরা দক্ষিণে দ্বীপ খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমরা দক্ষিণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি করবো। কারণ, দক্ষিণের জনগণ বেশি বঞ্চিত।’

আন্দোলন করা শিক্ষকদের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষক আছেন, যিনি ভিসি হচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। একজন ভিসিকে তাড়ানোর পর যে ভিসি আসেন, তাকে তাড়াতে আগের ভিসিও যুক্ত হন। একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন ভিসিকে অপমান করে তাড়ানো হলো। কয়েকজন আছেন, অনবরত এই আন্দোলন করেন। এই একটাই তাদের দায়িত্ব। শিক্ষকরা তাদের স্বার্থের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করবেন কেন? আর আমরা ব্যবস্থা নিলে তারপরও কেন আন্দোলন হয়? এই আন্দোলনে সীমিত কয়েকজন ছাত্রছাত্রী থাকে। কিন্তু বাকিদের তো পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে আমরা যেখানে সেশনজট দূর করছি, সেখানে তারাই সেশনজট সৃষ্টি করাচ্ছে। কী অভিযোগে আন্দোলন তা বলে দিতে হবে। আইনেরই একটি ধারা আছে, কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তা প্রমাণিত না হলে ওই অভিযোগকারীর শাস্তি হবে। এটা আইনের ব্যাপার। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। হাতেগোনা কয়েকজনের জন্য আমরা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেবো না।’

হত্যাকারী-সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কোন দল করে, সেটা দেখতে চাই না। অপরাধীর কোনও দল নেই। তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে। আমি দলটল কিছু দেখবো না। অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। সমাজটাকে দুষ্টদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছি। কিছু লোকের তা পছন্দ হয় না। দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করতে পারলেই তারা খুশি হয়—এমন একটি চক্র আছে। না হলে পদ্মা সেতুর মতো প্রজেক্টের টাকা বিদেশে গিয়ে যারা বন্ধ করে, তারা দেশের কত বড় শত্রু তা বিবেচনা করতে হবে। তারা জনগণের স্বার্থ দেখে না। নিজেদের স্বার্থটা দেখে। তবে সব চক্রান্ত ভেদ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এগিয়ে যাবো।’

/ইএইচএস/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ