বিমানে আনা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪০, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৫, নভেম্বর ১৯, ২০১৯





বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন টিপু মুনশিকয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘মিসর থেকে কার্গো ও যাত্রীবাহী বিমানের কার্গোতে বুধবার (২০ নভেম্বর) পেঁয়াজের বড় চালান আসবে। তুরস্ক থেকে বিমানে টিসিবির মাধ্যমে ২১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পেঁয়াজ আনা হবে। সামুদ্রিক জাহাজে ৩০ নভেম্বর পেঁয়াজ আসবে। এসব পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।’
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় লবণের দাম বাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে। আমি পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি।’
টিপু মুনশি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের দাম কমে এসেছে। এখন ১২০-১৪০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাবনায় এখনও ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমে আসবে বলে আমার ধারণা।’
তিনি বলেন, ‘ভারত ও মিয়ানমারে পেঁয়াজের দাম বেশি। মিয়ানমারে ৬০ টাকা ও ভারতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ীদের চাপে রাখছি। ইতোমধ্যে আড়াই হাজার ব্যবসায়ীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দেশেও বেড়ে গেছে।’
দেশে চলমান পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে কীভাবে পেঁয়াজ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘সব সমস্যা আমার একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলবো।’
পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য ভারতকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত প্রতিটন পেঁয়াজ আড়াইশ’ থেকে ৮৫০ ডলার করার পর হঠাৎ আমাদের বাজারে কয়েকগুণ দাম বেড়ে গেলো। ২৯ সেপ্টেম্বর তারা রফতানি বন্ধ করে দিলো। ২৪ অক্টোবর এই রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিলো। ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা অন্য কোনও বাজারে না গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু ২৪ তারিখ পেরিয়ে গেলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো না ভারত। এতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়লেন। পরে মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে শুরু করলেন তারা। নতুন মার্কেট থেকে একবারে বেশি পেঁয়াজ আনা যায় না, ফলে সংকট থেকেই গেলো।’
তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের বিভিন্ন ধারনের সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তাদের ঋণ ও বিভিন্ন ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। কৃষকরা যেন পেঁয়াজের দাম পান এ জন্য বাজার মনিটরিং করা হবে।’
টিপু মুনশি বলেন, ‘সরকার পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলু বা অন্যান্য পণ্যের মতো পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে এবং গৃহীত প্রকল্প সফল হলে দেশে আর পেঁয়াজের সংকট থাকবে না।’
পেঁয়াজ সংকটের সমাধান হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও কিছু করতে গেলে সময় লাগে। রাতারাতি কিছু করা যায় না। আমাদের দেশে উৎপাদনের পরও প্রয়োজনের তুলনায় ৬-৭ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে। এ ঘটতি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
পেঁয়াজের বাজারের এই অবস্থার কারণে মন্ত্রীর ‘অনভিজ্ঞতা’ দায়ী কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি বলেন, ‘ভারত রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েও যদি তা না করে এবং তার জন্য যদি আমাকে দায়ী করা হয়, তবে কিছু করার থাকে না।’
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়ায় আমার উদ্ধৃতি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার বরাত দিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে—পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার নিচে নামবে না। কিন্তু আমি বলেছিলাম মিয়ানমারে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকারও বেশি।’
চামড়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গতবার ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেনি। আগামীবার থেকে সরকার চামড়া কিনবে।’

/জিএম/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ