প্রকল্পের গাড়ির গন্তব্য জানে না বিদ্যুৎ বিভাগ

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২২:৫৮, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১২, নভেম্বর ২০, ২০১৯




বিদ্যুৎ বিভাগশেষ হয়ে যাওয়া প্রকল্পের গাড়ি কোথায় যাবে সে বিষয়ে কিছুই জানে না বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিষয়ে ‘সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা’ না থাকায় বিভিন্ন সময়ে শেষ হওয়া প্রকল্পের ৩৮০টি গাড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাব-কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কোন কোন কর্মকর্তার নির্দেশে গাড়িগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারের বিধানসহ সাব-কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে শেষ হওয়া প্রকল্পের গাড়ির বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

এদিকে বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানবাহন ব্যবহারে অনিয়ম হলে দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতেও সুপারিশ করেছে কমিটি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের কোনও মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোনও প্রকল্প শেষ হলে ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পে ব্যবহৃত যানবাহন পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে। কোনও কারণে বা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে ৬ মাস আগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে অনেক সময় গাড়ি ফেরত দেওয়া হয় না। এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উষ্মা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ৫৪টি প্রকল্পের ৩৮০টি সচল গাড়ি বিদ্যুৎ বিভাগ ও তার অধীনস্থ সংস্থাগুলো ব্যবহার করছে। এরমধ্যে কয়েকটি গাড়ি নতুন শুরু হওয়া প্রকল্পের পরিচালককেও দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ৩৮০টি গাড়ির মধ্যে দেড়শতাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে। ফোর হুইলারের মধ্যে শতাধিক পিকআপ ও একশ’র কাছাকাছি জিপ রয়েছে। এছাড়া ৫টি কার, ২টি অ্যাম্বুলেন্স ও ৯টি মাইক্রোবাস রয়েছে।

জানা গেছে, গাড়িগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিরো) ১০টি প্রকল্পের ৫৭টি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) ১২টি প্রকল্পের ২২৫টি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজিকো) ৭টি প্রকল্পে ৩০টি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিডেটের (পিজিসিবি) ৭টি প্রকল্পের ১৫টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ৩টি প্রকল্পে ২২টি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ৯টি প্রকল্পের ১৬টি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি) ৫টি প্রকল্পের ১৪টি এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) একটি প্রকল্পের একটি গাড়ি রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পের গাড়িগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দফতরে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কমিটিকে অবহিত করা হয়। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের যানবাহন যথাযথভাবে ব্যবহারের সুপারিশ করে এবং যানবাহনগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তাও তদন্ত করে আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২০ সালের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মো. আবু জাহিরকে আহ্বায়ক করে সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাব-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মো. আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তদন্তে যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলেরও কমিটি সুপারিশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্প শেষ হওয়ার পরে গাড়িগুলো কোথায় যাবে তা জানতে চেয়েছিলাম। উনাদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা নেই। সুস্পষ্ট নির্দেশনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে তারা চিঠিও দেয়নি। আর গাড়িগুলো উনারা ব্যবহার করছেন।’
তিনি বলেন, আমরা পাঁচটি বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাব-কমিটি গঠন করেছি। এগুলো হলো- সমাপ্ত প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার বৈধ কিনা? প্রকল্প শেষে গাড়ি ফেরত দেবে না ব্যবহার করবে? বৈধ না হলে এই গাড়িগুলো সরকারের গোচরে হচ্ছে না অগোচরে ব্যবহার হচ্ছে? কোন কোন কর্মকর্তার নির্দেশে এই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোন কোন কর্মকর্তা ব্যবহার করছেন? এছাড়া এই গাড়িগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে।

এদিকে বৈঠকে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ২৩ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সভাপতি বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ২৩ হাজার কিলোমিটার করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা এর কতটা অর্জন করতে পেরেছি তা জানতে চেয়েছি। তারা অর্জনের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বাস্তব কিছু কারণে কাজের কিছু ঘাটতি আছে। তারা ২৩ সালের মধ্যে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। গ্রেস পিরিয়ড পেলে সেই সময়ের মধ্যে করতে পারবে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছি।
এদিকে বৈঠকে কমিটি বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে রূপান্তরিত করতে ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আবু জাহরি, মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান অংশ নেন।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ