লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব: সারাদেশে ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫২, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, নভেম্বর ১৯, ২০১৯





বগুড়ায় লবণ কিনতে ভিড়লবণে দাম বাড়ছে এই গুজব সৃষ্টি করে সারাদেশে বাজার অস্থির করার খবর পাওয়া গেছে। না বুঝে লবণের খুচরা ও পাইকারি বাজারে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। আর ওই গুজবকে কেন্দ্র করে মুনাফা লোটার চেষ্টা করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তবে সারাদেশে এই গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং জরিমারা করা হয়েছে। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
কুমিল্লা
গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত দরে লবণ বিক্রির অভিযোগে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৪০ ব্যবসায়ীকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কুমিল্লার রাজগঞ্জ, চকবাজার, রাণীরবাজার, নিউমার্কেট এবং নগরীর বিভিন্ন মুদি দোকানসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। ৪০টি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪০টি মামলা ও আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
টাঙ্গাইলে লবণের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিন্টু ব্যাপারী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কুমিল্লা জেলার ১৭ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৬ জন সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) এবং আট জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলে পুরো জেলায় মোট ৪১ জনের টিম অভিযান চালায়। এ সময় ৪০টি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৪০টি মামলায় আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামে একজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (অর্থ ও প্রশাসন) দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘লবণ নিয়ে যেন কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের প্রত্যকটি সদস্য সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ৮০ বস্তা লবণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও গুজব সৃষ্টিকারী কিংবা কোনও ব্যক্তি-দোকানি কিংবা ব্যবসায়ী যদি লবণ স্টক করে অধিক মুনাফা করতে চায় সেক্ষেত্রে পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।’
মুন্সীগঞ্জ
বেশি দামে লবণ বিক্রির অপরাধে মুন্সীগঞ্জ সদরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদরের রিকাবীবাজার, বাংলাবাজার, মুন্সীরহাট, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ ও বড় বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ১৭ বস্তা লবণ জব্দ করা হয়।
টাঙ্গাইলে লবণের দোকানে লাইনসদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিচুর রহমান জানান, লবনের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালায় সদর থানা পুলিশ। এ সময় আটক ১৩ জনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, গুজব ছড়িয়ে লবণের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিল একদল অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশাসনের অভিযানের পর এখন বাজার নিয়ন্ত্রণে আছে।
শেরপুর
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বেশি দামে লবণ বিক্রির অপরাধে বিভিন্ন হাট-বাজারের ১০ জন মুদি দোকানির কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে।
কালীগঞ্জে উজ্জল ট্রেডার্সের সামনে ক্রেতাদের ভিড়উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ থাকার পরও সংকট তৈরি হয়েছে এমন গুজব রটিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা সোমবার রাত থেকে বেশি মূল্যে লবণ বিক্রি করতে শুরু করে। এ খবরে মঙ্গলবার বিকালে অভিযানে নামেন নালিতাবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা শারমীন। পরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা পৌর এলাকার এক দোকান থেকে ১০ হাজার, আড়াইআনী বাজারে তিন দোকানকে ২ হাজার ৫শ’, চারআলী বাজারে ৪ দোকানকে ৬ হাজার ৫শ’ ও বারমারী বাজারের দুই দোকানকে ৪ হাজারসহ মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান জানান, দেশে কোনও লবণ সংকট নেই। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এ ধরনের গুজব রটিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঝিনাইদহ
লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হাজার হাজার মানুষ হঠাৎ করে বেশি পরিমাণ লবণ ক্রয় করেছেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


বেশি পরিমাণে লবণ কিনেছেন ক্রেতারাকালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা জানান, লবণের দাম বাড়ার গুজবের পর বাজার মনিটর করা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ এর ১৯ (২)/৬ ধারায় মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের মালিক উজ্জ্বল দত্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পুরো বাজার ঘুরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে লবণ বিক্রি বন্ধে সতর্ক করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাবাস খান নামের এক মুদি দোকানদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়শা জান্নাত তাহেরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
শাবাস খান সখীপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড এলাকার হাজী আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি পৌর শহরের রেনাজ সিনেমা হল রোডের মুদি দোকানদার।

ঝালকাঠিতে লবণ কিনছেন একজন ক্রেতাআয়শা জান্নাত তাহেরা বলেন, ‘সিন্ডিকেট করে বাজার মূল্যের চেয়ে ওই দোকানদার অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রি করছিল। তিনি লবণের ডিলার, সখীপুরের বিভিন্ন দোকানে লবণ পাইকারি দিতেন। আর গুজবকে ব্যবহার করে দোকানদার ৩০ টাকার প্যাকেট ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করছিলেন। এ কারণে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ গুজবে কান না দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গাইবান্ধা
চড়া মূল্যে লবণ বিক্রির দায়ে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর বাজারে সুমন নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সুমন সাদুল্যাপুর বাজারের সৈকত স্টোরের প্রোপাইটর।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নবীনে ওয়াজ।
গোপালগঞ্জে লবণ কিনতে দোকানে ভিড়ইউএনও জানান, ব্যবসায়ী সুমন সকালেও দোকান থেকে এক হাজার ১৫০ টাকায় প্রতি বস্তা লবণ বিক্রি করেন। কিন্তু বিকালে সুমন প্রতি বস্তা বিক্রি করেন এক হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এই অভিযোগে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে লবণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ভোক্তা অধিকার আইনে ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ ১২ জনকে ৪৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে ও বেশি পরিমাণে লবণ ক্রয়-বিক্রিয়ের দায়ে ১২ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, দেশে লবণের কোনও সংকট নেই। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলাব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
লবণ নিয়ে যাচ্ছেন দুজনএদিকে, লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও লোকমুখে রটে যায় পেঁয়াজের মতোই লবণের দাম বাড়ছে। এর পরই ভোক্তারা অধিক পরিমাণে লবণ কিনতে শুরু করেন।
যশোর
গুজবের কারণে হঠাৎ করে যশোরে লবণ বিক্রি বেড়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে লবণ বিক্রির পরিমাণ বাড়তে থাকে। যশোরের বাজারে রাতেও লবণ কিনতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে, লবণ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় দোকানিরাও ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দেয় লবণের। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত যশোরের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আদালতের পেশকার শেখ জালালউদ্দিন জানান, যশোরের এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান রাতে শহরের ষষ্টীতলা পাড়া রোডে উজ্জ্বল স্টোর, জেল রোড এলাকায় ভাই ভাই স্টোর ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারের সোহরাবের দোকানে অভিযান চালান। সেখানে লবণের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২৬ হাজার, ১০ হাজার ও এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ঝালকাঠি
ঝালকাঠির রাজাপুরে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রয়ের দায়ে ৪টি দোকানকে ২৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা সদরের বাইপাসমোড়, বাগড়িবাজার, পাকাপুল, গালুয়া বাজার ও মীরের হাট বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ হাওলাদার এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উপজেলার গালুয়া বাজারের মো. লাল মিয়াকে ১০ হাজার, মো. হারিচ মিয়াকে ১০ হাজার, পাকাপুলের মো. আলম ফরাজীকে ৫ হাজার ও সদরের বাইপাস মোড়ের মো. নূরনবীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝালকাঠিতে এক ক্রেতা লবণ কিনে নিয়ে যাচ্ছেনজানা গেছে, তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ৩০-৩৫ টাকার লবণ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার জানান, গুজবের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলায় জনসচেতনতামূলক মাইকিং করানো হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার জনকে জরিমানা করা হয়েছে। বাজার এখন স্বাবাভিক রয়েছে।
এছাড়া বরগুনা, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, নীলফামারী, বাগেরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কক্সবাজার, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, শেরপুর, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ক্রেতারা দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দোকানদাররা লবণের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়। নাটোর, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাইকিং করা হয়। জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।



/এফএস/আইএ/

লাইভ

টপ