পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:২৮, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৩, নভেম্বর ২১, ২০১৯

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন আসাদুজ্জামান খান কামালদাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত একটার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দেয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে যে কয়টি ধারা নিয়ে তারা আবেদন করেছেন, সেগুলো সংশোধনের জন্য আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ আকারে পাঠাবো। আর তাদের যেসব কাগজপত্রে সমস্যা আছে, সেগুলো সংশোধন করে নেওয়ার জন্য জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবিগুলো আমরা মেনে নিয়েছি।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘তাদের ৯ দফা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যে দাবিগুলো সঙ্গত মনে হয়েছে, সেগুলো পূরণের জন্য সময় নেওয়া হয়েছে, তাদেরও কাগজপত্র ঠিক করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে একটা অসঙ্গতি ছিল। আমরা তাদের লাইসেন্স সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে পারছিলাম না। এই অবস্থায় এখন তারা যেই ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, সেই ইন্সট্রুমেন্ট দিয়েই আগামী জুন পর্যন্ত চালাবেন। জুনের মধ্যে বিআরটিএ’র মাধ্যমে তারা গাড়ির লাইসেন্স ঠিক করে নেবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেছে বিভিন্ন প্রকার গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে গিয়ে জরিমানা চার গুণ বেড়েছে। তারা সময়ে তা পরিশোধ করতে পারেননি বলে জরিমানা হয়েছে। তারা এ জরিমানা প্রত্যাহার চেয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা বলেছি, মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী সেগুলো বিবেচনা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেনে নেবেন।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির বিভিন্ন দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নিয়েও বিভিন্ন কথা হয়েছে। সেগুলো আগামী জুনের মধ্যে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে তারা ঠিক করে নেবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের ৯টি দাবির মধ্যে তারা কিছু আইনের ধারা সংশোধনের জন্য বলেছেন। সেগুলো আমরা যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে সুপারিশসহ পাঠিয়ে দেবো। যাতে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। আমি মনে করি, এখন তারা কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি তারা এখানে দিয়েছেন।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘চালকদের লাইসেন্সগুলোর মধ্যে লাইট, মিডিয়াম, হ্যাভি ও লার্নার—এই চার ক্যাটাগরির লাইসেন্স বিআরটিএ দিয়ে থাকে। তারা সময় মতো লাইসেন্সগুলো বড় করেনি। অর্থাৎ লাইট থেকে মিডিয়াম, মিডিয়াম থেকে হ্যাভিতে নিতে পারেনি। এ কারণেই জটিলতা দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধ লাইসেন্সের প্রশ্নই আসে না। যেগুলো অবৈধ রয়েছে, সেগুলো দিয়েও তারা কাজ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই জায়গায় কঠিন থাকবেন। অবৈধ লাইসেন্স ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আইনের পরিপন্থী কিছুই হচ্ছে না। তারা আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। এখানে সেগুলোর পর্যালোচনা হয়েছে। অসঙ্গতিগুলো আমরা যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ আকারে পাঠিয়ে দেবো। পুরো আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন নিয়ে কথা হয়েছে। বাকি ধারাগুলোর বাস্তবায়ন চলবে।’

এ সময় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান বলেন, ‘আমরা প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা করেছি। আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলাম।’

এর আগে রাত ৯টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মুগবুল আহমেদ, সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদারসহ ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের শ্রমিক-মালিক নেতারাও এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, নতুন সড়ক আইন কার্যকরের পর তা সংশোধনের দাবিতে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ট্রাক ও পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন বন্ধ রাখেন তারা। 

 

 

 

/এসএস/আইএ/

লাইভ

টপ