অজয় রায়ের নামে সড়কের নামকরণের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১৬, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৭, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অজয় রায়ের নামে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর এই দাবি জানান তিনি।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি চলতে পারে না এই কথাটি অজয় রায় বহুবার বলে গেছেন। তার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা জানাবো হবে যদি দ্রুত অভিজিৎসহ ব্লগার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম অজয় রায়ের নামে নামকরণ করতে হবে।’

এ সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আরও অনেকেই অজয় রায় সম্পর্কে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘তিনি বিশ্বমানের একজন বৈজ্ঞানিক, নৃতত্ত্ববিদ ছিলেন। আমাদের যে বাংলা সাল চালু হয়েছে, তার ইতিহাস রচনা ও প্রবর্তনে তার অবদান রয়েছে। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস তিনি ও আমি বাংলা একাডেমি থেকে ৪ খণ্ড সম্পাদনা করেছি।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘অজয় রায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান চর্চায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। বাংলা একাডেমি বিশেষভাবে তার অভাব অনুভব করবে, তার বিকল্প নেই।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘তিনি আপাদমস্তক একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। সমাজতন্ত্রে, মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করতেন। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের তিনি প্রতিবাদ করতেন।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম বলেন, ‘আমি অজয় স্যারের প্রত্যক্ষ ছাত্রী। দীর্ঘ ৫০ বছর তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ষাটের দশকে আমরা যখন আইয়ুব-মোনায়েম খানদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতাম, তখন যে কয়জন মানুষ আমাদের প্রেরণা জোগাতেন, অজয় স্যার তাদের মধ্যে অন্যতম।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘অজয় রায় তার লেখায় বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার কথা বলতেন। তিনি বাঙালির ইতিহাসে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বভৌমত্বের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি তার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের একজন।’

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এ দেশে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যারা জ্ঞানের সাধনা করেছেন, তাদের অনেকে সমাজ নিয়ে মাথা ঘামাননি। কিন্তু অধ্যাপক অজয় রায় জ্ঞানের সাধনাও করেছেন, আবার মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজনে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক অজয় রায় সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান। এর পরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে অজয় রায়ের মরদেহ নিয়ে আসা হয় তার সিদ্ধেশ্বরীর বাসভবনে। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় অজয় রায়ের মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শুরুতেই সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর শহীদ মিনার থেকে তার মরদেহ প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ এবং জগন্নাথ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দুপুর পৌঁনে দুইটায় অজয় রায়ের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার জন্য তার মরদেহ বারডেম কর্তৃপক্ষকে দান করা হয়।

আরও পড়ুন: 

অধ্যাপক অজয় রায় আর নেই

অজয় রায়ের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী মরদেহ দান করা হবে

‘ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি অজয় রায়, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য’

শেষবারের মতো বাড়িতে নেওয়া হলো অজয় রায়কে

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অজয় রায়ের মরদেহ বারডেমে

/এসও/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ