মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পাল্টাবে অনেক দেশের আচরণ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১১, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৫, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: আবদুল আজিজ)রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের মামলায় আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কারণে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং বাংলাদেশসহ অনেক দেশের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো এম শহীদুল হক এ মন্তব্য করেন। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে তিনি একথা বলেন।

এম শহীদুল হক বলেন, ‘এই আদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কোর্ট রোহিঙ্গাদেরকে একটি পৃথক জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে অনেক দেশ যারা রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে চায় না, তাদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব

শহীদুল হক বলেন,‘এই সিদ্ধান্তের ফলে দুটি জিনিস মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। একটি হচ্ছে মিয়ানমারের সঙ্গে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ অন্য দেশগুলো তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনও পরিবর্তন আনছে কিনা। আরেকটি হচ্ছে বাংলাদেশ তার নিজস্ব কৌশলে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করছে, সেটির কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। কোর্টের সিদ্ধান্তের পরে এখন আর কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয় এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বা মিয়ানমার তার নিজস্ব পদ্ধতিতে বিষয়টি সমাধান করবে। কারণ, এ বিষয়ে মামলার শুনানি করার এখতিয়ার কোর্টের আছে। এটির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন,‘রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার জন্য সরকারের একটি কৌশল আছে এবং ওই কৌশলের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত ওই ভারসাম্য আছে এবং ভবিষ্যতেও যেন থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মিয়ানমারই কোর্টের রাডারে চলে আসেনি, বাংলাদেশও এসেছে।’

রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে বাংলাদেশ অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যে কেউ বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার করার আগে তিন বার চিন্তা করবে।’

পরবর্তী পদক্ষেপ

সাবেক সচিব বলেন,‘এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে আদেশের কপি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পৌঁছামাত্র সেটি নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার জন্য তিনি পাঠাবেন।’

ইতোমধ্যে জাতিসংঘ আদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং মহাসচিব ঘোষণা দিয়েছেন আদেশের কপি পাওয়া মাত্রই সেটি নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেবেন।

তিনি বলেন,‘এখন নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খেয়াল রাখতে হবে মিয়ানমার যেন কোর্টের সিদ্ধান্ত পালন করে। এক্ষেত্রে মিডিয়ারও একটি ভূমিকা আছে।’ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করেছে ও অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটি খেয়াল করবে বলে তিনি জানান।

গাম্বিয়া কেন মামলা করলো

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়া কেন মামলা করলো এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি আছে এবং একইসঙ্গে প্রতিবেশীর প্রতিও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। গাম্বিয়া এই মামলা করতে রাজি ছিল এবং তাদের আইনমন্ত্রীর এই ধরনের মামলা করার অভিজ্ঞতা আছে।’

নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত এই মামলায় চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে। আদেশগুলো হলো- গণহত্যা কনভেনশনের ২ ধারা অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি না করা এবং সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনও ক্ষতি করবে না; দ্বিতীয় আদেশটি হচ্ছে মিয়ানমার মিলিটারি বা অন্য কোনও ধরনের বাহিনী গণহত্যা করবে না, গণহত্যা করার ষড়যন্ত্র করবে না বা গণহত্যাকে উৎসাহিত করে এমন কোনও ঘৃণা বক্তব্য দেবে না; তৃতীয় হচ্ছে গণহত্যা সংক্রান্ত কোনও প্রমাণাদি নষ্ট বা ধ্বংস করা যাবে না এবং চতুর্থ হচ্ছে চার মাস পরে মিয়ানমার এগুলো পালনের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে,সেটির বিষয়ে রিপোর্ট দেবে এবং মামলা চলাকালীন সময়ে প্রতি ছয় মাস পরপর রিপোর্ট দেবে। কোর্ট আরও বলেছে মিয়ানমারের রিপোর্টের ওপর গাম্বিয়া মন্তব্য করতে পারবে।

 

/এসএসজেড/এনআই/টিএন/

লাইভ

টপ