ইসির অভ্যন্তরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: মাহবুব তালুকদার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:১২, জানুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০১, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারনিজের সঙ্গে কোনও দলের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’
আপনি একটি দলের বা বিএনপির পারপাস সার্ভ করার জন্য এখানে বসেছেন এবং আপনার পদত্যাগ করা উচিত−আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘যে কেউ যেকোনও কিছু বলতে পারেন। যেকোনও তকমা আমার পেছনে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু আমার অতীত ইতিহাস যারা জানেন তারা কখনও বলবেন না আমি কোনও নির্দিষ্ট দলের। আর আমি যে মুহূর্ত থেকে এ চেয়ারে বসেছি সেসময় থেকে আমি কোনও দলের নই।’
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কথা উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কমিশন সভায় আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। আমাদের কর্মকাণ্ডে তা দৃশ্যমান হওয়া দরকার।’
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগ্রাহ্য হয়। আমার ধারণা, কমিশনে আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে তিনটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এর কোনোটিতেই নির্বাচনের আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। এছাড়া কোনও কমিশন সভায় এসব বিষয় এজেন্ডাভুক্ত হয়নি। আগামী ২৮ জানুয়ারি যে নির্বাচন কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও ঢাকা সিটি করপোরেশন সম্পর্কে কোনও বিষয় এজেন্ডাভুক্ত নয়।’
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে আমি বিগত ৯, ১৩, ১৬ ও ২০ জানুয়ারি যে ৪টি ইউও নোট দিয়েছি, তা রীতিমতো উপেক্ষা করা হয়েছে। আমলে নেওয়া হয়নি। এসবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনও আলোচনা হয়নি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি। যদি আমার বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য হয়, তাহলেও আমাকে তা জানানো উচিত ছিল।’
ইউও নোটের মাধ্যমে দুই সিটির প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যাদি জানাতে চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ২০ জানুয়ারির মধ্যে আমার কাছে পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে। কোনও তথ্যই আমাকে সরবরাহ করা হয়নি।’
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে যেসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনে কোনও ধরনের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এসব অভিযোগের পেছনে যে অসন্তোষ আছে, তা বিস্ফোরিত হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথোপযুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।’

/ইএইচএস/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ