সিটি নির্বাচনের দিন ঢাকার ‍বায়ুদূষণের মাত্রা ৬ গুণ কম ছিল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২১, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০

বায়ুদূষণের সূচকসিটি নির্বাচনের দিন ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কম ছিল। গবেষকরা বলছেন, কেবল গাড়ি বন্ধ থাকায় অন্যসময়ের তুলনায় ওই দিন দূষণের মাত্রা ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ছয় গুণ কম। বিষয়টি আগেও লক্ষ্য করা গেছে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের সময়টায় রাজধানী ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা থাকে প্রায় অর্ধেকের চেয়েও কম।

এয়ার ভিজ্যুয়ালের সূচক অনুযায়ী, বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৭৫। যা খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনের আগের কয়েক দিনে যা ৩৫০-এ গিয়ে ঠেকেছিল। নির্বাচনের সময় তিন দিন মোটরসাইকেল বন্ধ এবং নির্বাচনের দিন সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় ঢাকার কোথাও কোথাও মাত্রা ৫০ এর নিচেও ছিল।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, যেহেতু  দু’দিনের ভিন্ন পরিস্থিতিতেই বায়ুমান বাড়ানো সম্ভব হয়, সেহেতু দীর্ঘমেয়াদে এটি কীভাবে কার্যকর করা যায় সেই পরিকল্পনা করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বায়ু দূষণকবলিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা যায় বায়ুদূষণের কারণে। ৬৫ লাখ মানুষ গুরুতর ও ৮৫ লাখ মানুষ ভোগেন কম গুরুতর অসুস্থতায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার বায়ুদূষণ কমাতে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ২০১৯ এর নভেম্বরে পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন হাইকোর্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বায়ুর ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে পিএম ২.৫। সিটি নির্বাচনের সময় ট্রান্সপোর্ট বন্ধ ছিল। ওই সময়ে পুরো শীতকালের মধ্যে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে নিচে ছিল। কোনও কোনও জায়গায় এই মাত্রা ৫০ পিএম-এর নিচে ছিল, যা কিনা তার ঠিক আগের সময়ে সাড়ে ৩০০ কাছাকাছি  উঠেছিল। এমনিতেই ঢাকায় সবসময় ২০০ কাছাকাছি থাকে।’

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের কর্মী ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘সপ্তাহ জুড়েই ঢাকায় বাতাস অস্বাস্থ্যকর থাকে।  ধুলোবালি কমাতে রাস্তাঘাটে পানি ছিটানোর মতো উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু সেটি আসলে কার্যকর হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে এটি কার্যকর হবে সেই পরিকল্পনা জরুরি। ফিটনেসবিহীন গাড়ি না নামতে দেওয়া, ধোঁয়া ঠেকানো, ভারসাম্য নষ্ট করে এমন গাড়ি না নামিয়ে গণপরিবহনের মান বাড়ানোসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

/ইউআই/এসটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ