ইতালিতে বৈধ পথে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১১:১০, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৬, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: পিআইডি)

যুক্তরাজ্যের পর ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছে। এ সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি। তাদের সুরক্ষা এবং বৈধপথে সেদেশে কীভাবে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠানো যায়, তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই না, বৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য আইনি কাঠামো কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়েও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ও জিউসেপ কোঁতের মধ্যে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রোমে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে এই বিষয়টি আলোচিত হয়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে শেখ হাসিনা ইতালি পৌঁছান।

বুধবারের বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইতালিতে অবস্থিত প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশির একটি বড় অংশ ওই দেশের সমাজে মিশে গেছে। অভিবাসন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংহত করার পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন উভয় নেতা। বৈধপথে অভিবাসন এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর জন্য একটি সম্ভাব্য আইনি কাঠামো নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেন।’

উল্লেখ্য, আগে ইতালিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক পাঠানোর একটি চুক্তি ছিল। ওই চুক্তির অধীনে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি সেদেশে গেলেও মেয়াদ শেষে ফেরত এসেছে ১০০ জনেরও কম শ্রমিক। এরপর ২০১২ সালে কৃষি শ্রমিক নেওয়ার চুক্তিটি বন্ধ করে দেয় রোম।

সম্ভাব্য চুক্তি

উভয় দেশ সামরিক সহযোগিতাসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। এরমধ্যে আরও সংস্কৃতি বিনিময় চুক্তি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনীতিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেসব চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী কোঁতে উৎসাহিত করেন।’

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজারে প্রবেশাধিকার

২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে বাংলাদেশ। এরপর মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরও বাংলাদেশ যেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবেশাধিকারের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নীত হওয়ার পরও ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার সুবিধা যেন অব্যাহত থাকে, সেটির জন্য ইতালির সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।’

২০০ কোটি ইউরোর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন, শ্রমাধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন উভয় নেতা বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। 

মুজিববর্ষের আমন্ত্রণ

বিবৃতিতে বলা হয়, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এছাড়া, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২২ ঢাকা ও রোমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

/এসএসজেড/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ