অনেকেই আমাদের উন্নয়নের রোল মডেল ঘোষণা করে: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউনের ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৪৭, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০২, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

1

আগে অবহেলার চোখে দেখলেও এখন অনেকেই বাংলাদেশকে রোল মডেল ঘোষণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকায় বিশ্বে বাংলাদেশ একটা মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এক সময় সকলেই আমাদের অবহেলার চোখে দেখতো। বাংলাদেশ নাম শুনলেই বলে উঠতো-ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দরিদ্রের দেশ। এখন আর কেউ তা বলতে পারবে না। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন একটা জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে সারাবিশ্বে একটা সম্মানিত জাতি হিসেবে আমরা একে গড়ে তুলে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি ২০২১ সালের মধ্যেই প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। আর একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছি বাংলাদেশের একটা মানুষও আর যেন গৃহহীন না থাকে। প্রতিটি গ্রামে খোঁজ নিতে বলেছি। নদী ভাঙনে যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছে তাদের আমরা ঘর করে দেব। আর যারা ভূমিহীন, গৃহহীন প্রত্যেককেই আমরা ঘর-বাড়ি করে দেব। প্রত্যেকটি মানুষের একটা ঠিকানা হবে

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল আর যাদের পদাংক অনুসরণ করেই আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই ত্যাগ কখনও বৃথা যাবে না। বৃথা যেতে আমরা দেব না, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে মোস্তাক-জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। কিন্তু স্বাধীনতার পর পরাজিত শত্রুরা এদেশীয় দালালদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল। জাতির পিতার খুনিদের অনেকেই পরিচিত মুখ, যে বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘খুনিদের মধ্যে অনেকেই ছিল যারা আমাদের বাড়িতে নিয়মিত আশা-যাওয়া করতো। আমার মা (বঙ্গমাতা বেগম মুজিব) যাদের রান্না করে খাওয়াতেন- তারাও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার ভূমিকা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এই উপমহাদেশে বাংলাদেশই হচ্ছে একটি মাত্র দেশ, যেটা একটা ভাষাভিক্তিক রাষ্ট্র। যা প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ সাল থেকে জাতির পিতা মাতৃভাষার জন্য যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, সেই সংগ্রামের ধারবাহিকতায় তার (বঙ্গবন্ধু) লক্ষ্যই ছিল এই ভূখণ্ডকে স্বাধীন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ফজলুল হক হলে (এফএইচ) অনুষ্ঠিত এক সভায় বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ, তমুদ্দীন মজলিস এবং আরও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন মিলে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় এবং ১১ই মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ জনগণকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করে।

ভাষা আন্দোলন চলাকালে জাতির পিতার বারংবারের কারাবরণের প্রসংগ টেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১১ই মার্চ সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয় এবং সাধারণ ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে মুসলিম লীগ সরকার ১৫ই মার্চ বন্দিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, ১৬ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় রাষ্ট্রভাষার দাবিতে যে সভা অনুষ্ঠিত হয় তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সভাপতিত্ব করেন।

তিনি ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানতে জাতির পিতা রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং বঙ্গবন্ধু বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিতব্য ১৪ খণ্ডের সিরিজ ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টালিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ সকলকে পড়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবথেকে বড় পাওয়া আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করতে যাচ্ছি। ১৭ই মার্চ আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। যার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। সেই ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পর্যন্ত সময়কে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা দিয়েছি। রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার সরকার জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনা সভার শুরুতেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আলোচনা সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ