পিলখানা হত্যাকাণ্ড: মামলার রায় নিয়ে বিপাকে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ

Send
বাহাউদ্দিন ইমরান
প্রকাশিত : ০৯:৫৩, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৩, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

 

ছবি: সংগৃহীতপিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় (ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর) প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। তিন বিচারপতির বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে সম্পন্ন এ রায়টি বিশ্বে বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রায় হিসেবেও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু রেকর্ড সংখ্যক আসামির মৃত্যুদণ্ড, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং হাইকোর্টের রায়ের পৃষ্ঠা সংখ্যাসহ বেশি হওয়ায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তবে প্রতিকারের আশায় বিকল্প চিন্তা করছেন মামলা সংশ্লিষ্ট সবাই।




মামলার বিশালতা, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বিশেষ করে দণ্ড ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহজে উপলব্ধির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে যুগান্তকারী এই রায়টি আংশিক মাতৃভাষা বাংলায় লেখা হয়। সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেন। এই বেঞ্চে আরও দুই বিচারপতির মধ্যে ছিলেন—বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।
২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর টানা দুই দিনে পিলখানা হত্যকাণ্ডের মামলায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়। একইসঙ্গে আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে, এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু হাইকোর্টে বিচার চলাকালীন মারা যান।
পাশাপাশি বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জন আসামির মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে দুই জন আসামির মৃত্যু এবং ১২ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া, জজ আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জন আসামির মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ মামলায় চারজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনকে খালাসে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। মোট ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের মধ্যে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বাংলায় ১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠার রায় লেখেন। রায়ের মাতৃভাষা অংশে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত পোষণ করেন।
এদিকে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হলেও নতুন বিপত্তি শুরু হয়েছে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়া সাপেক্ষে এর বিরুদ্ধে আপিল করার। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও বেকায়দায় পড়েছেন।
রায়টি নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ মামলায় ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠায় রায় প্রকাশিত হয়েছে। এখন আসামিদের সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি নিতে অনেক টাকা খরচ করতে হবে।’ সেক্ষেত্রে এ মামলায় একটি অচল অবস্থা তৈরি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতোই হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়েও যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেসব আসামির খালাস চেয়ে আপিল করা হবে। বিশ্বে এত বড় ফৌজদারি মামলার রায় আগে কখনও হয়নি। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে সমস্যা হবে। তাই আপিলের মেয়াদ বাড়াতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।’
তবে মামলাটির আপিল শুনানি নিয়ে যেন কোনও অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রতিকার খুঁজতে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ