এসএসসি পর্যন্ত বিষয় বিভাজনের দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৪১, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৪, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

নিজ কার্যালয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (ছবি: ফোকাস বাংলা)নবম শ্রেণিতে পাঠক্রমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা বিভাজনের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এটা না থাকাই ভালো। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্ত হয়, সেটাই ভালো।’

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এসএসসি পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক বিভাজন তুলে দেওয়ার পক্ষে মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের (দেশে) ক্লাস নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে সেটা ভাগ করে দেওয়া হয়। আমার মনে হয় এই বিষয়ভিত্তিক বিভাজনের কোনও দরকার নেই। কারণ, প্রত্যেকে এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয় অধ্যয়ন করতে পারে। এসএসসির পরে বিভাজন করা ভালো, কমপক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবই পড়ুক, তারপর যেখানে সে মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে সেটা করে নেবে। তাহলে অন্তত তাদের (শিক্ষার্থীদের) মেধা বিকাশের একটা সুযোগ হয়।’

প্রসঙ্গত, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণিতে এসে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে সবাইকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে এই বিষয়ভিত্তিক বিভাজন নেই। কারণ, বিজ্ঞান না পড়ার ফলে অনেক বিষয়েই শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এ পদ্ধতি চালু করেছিলেন। ‘আমি মনে করি এটা এখন না থাকাই ভালো।’

প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে এজন্য শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এখন সব সাবজেক্টই বিজ্ঞানভিত্তিক। সেটা ধীরে ধীরে চলেই এসেছে। বিজ্ঞানের বাইরে কিছু নেই।’

‘আমাদের জনসংখ্যার প্রয়োজন হবে। আমরা যদি জনগণকে যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে পারি তবে আমাদের জন্য মোটেই কোনও সমস্যা হবে না, বরং আমরা অন্যান্য দেশকে সহায়তা করতে পারি। আমরা সেভাবেই কাজ করতে চাই,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘শিক্ষার বিকাশ এবং একটি শিক্ষিত জাতি হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করবো’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি ও শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন।

পদক বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ইউএনবি, বাসস

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ