’৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবর প্রকাশেও ছিল বাধা

Send
আজমল হোসেন ও সাঈদ উল আবেদীন
প্রকাশিত : ০৪:০০, মার্চ ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, মার্চ ১৭, ২০২০

পত্রিকার পাতায় বঙ্গবন্ধুবাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে। দেশজুড়ে গণমাধ্যমের পাতায় পাতায় বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নানান আয়োজন। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর পত্রিকায় পাতায় বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়াও যেন কঠিন হয়ে পড়েছিল। ১৭ মার্চের এই দিনের পত্রিকাগুলো ’৭৫ পরবর্তী সময় থেকে বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়—মহান এই নেতার জন্মদিনে খবর প্রকাশ করার ওপরেও ছিল একটি মহলের খড়্‌গ। কখনও খবরই প্রকাশিত হতো না, কখনও খবর হলেও নাম নেওয়া যেতো না, আবার নাম নেওয়া গেলেও ‘স্বাধীনতার স্থপতি’, ‘জাতির জনক’, ‘বঙ্গবন্ধু’ এসব বিশেষণ যুক্ত করা যেতো না।

আজ যারা তরুণ, তাদের হয়তো বুঝতে কষ্ট হবে—১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে কতটা প্রতিকূলতার মধ্যে ছিল সংবাদপত্র। বঙ্গবন্ধু দূরে থাক, শেখ মুজিব নামটা নেওয়াই যেন ছিল অপরাধ।

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবর প্রকাশের চিত্র তুলে আনতে বাংলা ট্রিবিউন ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৭ মার্চ ও ১৮ মার্চের পত্রিকা পর্যালোচনা করে দেখেছে। তৎকালীন পাঁচটি পত্রিকা—দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দৈনিক আজাদ ও বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেছে—সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁকে পত্রিকার পাতা থেকেও মুছে দেওয়ার জন্য সচেতনভাবেই ষড়যন্ত্র করা হয়।

১৯৭৬-১৯৮০ সাল পর্যন্ত ১৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবেদনগুলোর ধরন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে এই ষড়যন্ত্র ও তৃতীয় কোনও পক্ষের অদৃশ্য প্রভাবের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের বছর ১৯৭৬ সালে তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোনও খবর প্রকাশ করেনি। তবে ১৯৭৭ সালে ১৭ মার্চ সংবাদ প্রকাশ করতে না পারলেও ১৮ মার্চের পত্রিকায় জন্মদিন পালনের খবর ঠিকই প্রকাশ করে। যদিও ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন’ হিসেবে খবর প্রকাশ করে ইত্তেফাক ও সংবাদ। কোথাও বঙ্গবন্ধু তো দূরে থাক, শেখ মুজিব নামটিরও উল্লেখ ছিল না।

১৯৭৮ সালের ১৭ মার্চেও কোনও খবর প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু ১৮ মার্চ ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক শেখ মুজিবের জন্ম দিবস পালন’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে দৈনিক সংবাদ। অন্যদিকে ইত্তেফাক ‘ছাত্র সংগঠন সংবাদ’ শিরোনামে জন্মদিন পালনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে ইনভার্টেড কমার মধ্যে বঙ্গবন্ধু বিশেষণটি উল্লেখ করা হয়।

এরপর ১৯৭৯ সালে প্রথম ১৭ মার্চ ছবিসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবর প্রকাশ করে দৈনিক সংবাদ। শিরোনামে দেওয়া হয় ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’। প্রথম লাইনে লেখা হয়—‘আজ ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন।’ বলা যেতে পারে, সপরিবারে হত্যার পর এই প্রথম সংবাদে ছবিসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি পড়ে দেখা যায়— এ বছরে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যার বিচার দাবি করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার তখনও বঙ্গবন্ধুর ছবি পত্রিকার পাতায় প্রকাশের আগ্রহ দেখায়নি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, দৈনিক সংবাদ এবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবরে অন্তত ২০ বার বঙ্গবন্ধু উপাধিটির উল্লেখ করেছিল। আগের বছরগুলোর তুলনায় এটি ছিল সংবাদের জন্য সাহসী পদক্ষেপ। তাদের প্রতিবেদনের লেখা ও পরিবেশনের ধরনে সকল বাধার শেকল ছেঁড়ার প্রমাণ মেলে।

এরপর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে দৈনিক সংবাদ পত্রিকা যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের খবর প্রকাশ করতে থাকে। অন্যদিকে ইত্তেফাকেও প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টার প্রমাণ মেলে। দৈনিক বাংলাও সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে প্রতিবেদন প্রকাশ করার।

এই গবেষণায় বাংলা ট্রিবিউন পাঁচটি পত্রিকা হতে যে তথ্য পেয়েছে, তা বছর অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো।

১৯৭৬: জন্মদিনে নেই কোনও সংবাদ

এই বছর দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলা, আজাদ ও অবজারভার পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন বিষয়ক কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি।

১৯৭৭: প্রতিবেদন হলেও বলা হলো ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা’

দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক ইত্তেফাকে এ বছর ১৭ মার্চ কোনও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবে ১৮ তারিখ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দৈনিক সংবাদে নাম উল্লেখ না করে কেবল ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উল্লেখ করা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাকে ১৮ মার্চ ‘ছাত্রলীগ সংবাদ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ পায়। যেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের ছাত্রলীগ জাতীয় কার্যকরী সংসদের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।’ এই সংবাদে বঙ্গবন্ধুর নাম কোথাও নেই। এমনকি কোথাও আওয়ামী লীগের নামও উল্লেখ ছিল না।

অন্যদিকে, দৈনিক বাংলায় ১৮ মার্চ সাত নম্বর পৃষ্ঠায় ছবি ছাড়া বঙ্গবন্ধু বা শেখ মুজিবের নাম উল্লেখ ছাড়াই গুরুত্বহীনভাবে ছোট করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দৈনিক আজাদ ও বাংলাদেশ অবজারভার ১৭ ও ১৮ মার্চ কোনও খবর প্রকাশ করেনি।

১৯৭৮: বলা হলো বঙ্গবন্ধু, তবে...

দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার এবছরেও ১৭ মার্চ কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে ১৮ মার্চ দৈনিক সংবাদে ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক শেখ মুজিবের জন্ম দিবস পালন’ ও দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ছাত্র সংগঠন সংবাদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে পত্রিকাটি, যেখানে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি তারা উল্লেখ করে। তবে বঙ্গবন্ধু শব্দটিকে কোটের মধ্যে (‘বঙ্গবন্ধু’) রেখে দেওয়া হয়। এ প্রতিবেদনও ছাত্রলীগের কর্মসূচির বরাত দিয়ে করা হয়। এই প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু উপাধি উচ্চারিত হলো।

দৈনিক বাংলায় ১৮ মার্চ শেষ পৃষ্ঠায় (পৃষ্ঠা নম্বর ১২) ছবি ও শিরোনাম ছাড়া (ঘরোয়া রাজনীতি এই শিরোনামে ছোট এক প্যারায়) শেখ মুজিবুর রহমান নাম তিনবার উল্লেখ করে সংক্ষেপে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আজাদ ও বাংলাদেশ অবজারভারে কোনও প্রতিবেদনই প্রকাশ হয়নি।

১৯৭৯: ছবিসহ পত্রিকায় ফিরলেন বঙ্গবন্ধু, সাহসী ছিল দৈনিক সংবাদ

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এবছরই প্রথম দৈনিক সংবাদ ছবিসহ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করে। খবরের প্রথম লাইনেই বলা হয় ‘আজ ১৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন’। এ বছরে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। সেই সঙ্গে হত্যার বিচার দাবি করা হয়। এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম করা হয়েছে এমনটি উল্লেখ করা হয়। এবছর ১৮ মার্চেও যথাযোগ্য মর্যাদাসহকারে প্রথম পাতায় দুই কলামের বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের খবর প্রকাশিত হয়। তবে এদিন বঙ্গবন্ধু শব্দটিকে ইনভার্টেড কমার মধ্যে দিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ১৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী কর্মসূচির প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী’। এই প্রতিবেদনে একটি কর্মসূচিতে বোস অধ্যাপক ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর একটি বক্তব্য থেকে নেওয়া হয় এই শিরোনাম। বোস অধ্যাপক ড. আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বযুগের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী’। এই প্রথম ইত্তেফাক পরোক্ষভাবে কারও বরাতে বঙ্গবন্ধুকে প্রতিবেদনের ভেতরে জাতির জনক হিসেবে উল্লেখ করে। একই প্রতিবেদনে মওলানা আবদুর রশীদ ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক উকিলের বক্তব্যেও জাতির জনক শব্দ দুটি ছিল। এছাড়া আবু জাফর শামসুদ্দিনের একটি বক্তব্যে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী কোনও দলীয় উদ্যোগে পালন হওয়া উচিত ছিল না। কারণ, বঙ্গবন্ধু না জন্মাইলে বাংলাদেশ হইতো না, বাংলাদেশ না হইলে আজ সবাই বুক ফুলাইয়া স্বাধীন দেশের নাগরিক বলিয়া পরিচয় দিতে পারিতো না।’

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি মারা গেলে তাহার প্রতি আর কোনও বিদ্বেষ রাখা উচিত নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় যিনি দেশের স্বাধীনতা, পতাকা, সংগীত দিলেন সেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হাসপাতালের কাপড় দিয়ে নির্জনে দাফন করা হইয়াছে।’

আগের মতোই ১৭ মার্চ কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি দৈনিক বাংলা। তবে, ১৮ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনামে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে গুরুত্ব দিয়ে এক কলামের একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান, তাঁর নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করা হয় বক্তাদের বরাত দিয়ে। বাকশাল গঠনের প্রয়োজনীয়তা বক্তাদের কথার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোথাও বঙ্গবন্ধু বা জাতির জনক শব্দের উল্লেখ নেই, প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনও ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়নি।

আগের মতোই দৈনিক আজাদ ১৭ বা ১৮ তারিখে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary observed’ শিরোনামে আবদুল মালেক উকিলের বক্তৃতার একটি ছবিসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে আবদুল মালেক উকিলের বরাত দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ (মিজান), দলীয় নানা অঙ্গ সংগঠনের নানা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।

১৯৮০: সাহস নিয়ে এবারও দৈনিক সংবাদ

এবছরেও ১৭ মার্চে ছবিসহ খবর প্রকাশ করে দৈনিক সংবাদ। বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন দেশ বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে আরও বলা হয়—তাকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

একইভাবে ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের খবর তিন কলামজুড়ে প্রথম পাতায় সবিস্তারে প্রকাশিত হয়। খবরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবিও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক আগের বছরগুলোর মতোই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য ছিল এই প্রতিবেদনে। তবে ১৮ মার্চ কোনও প্রতিবেদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ কোনও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ১৮ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনামে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে ছোট করে এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান, তাঁর নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করা হয়, সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষে তাঁর অবদানের কথাও বক্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনের কোথাও বঙ্গবন্ধু বা জাতির জনক শব্দের উল্লেখ নেই, প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনও ছবিও ছিল না।

দৈনিক আজাদে এবছরেও ১৭ মার্চে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। তবে ১৮ মার্চ ‘শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশু সমাবেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ (মালেক উকিল) এর বরাত দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এর নাম এবং ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা’র কথা উল্লেখ করা হয়।

অবজারভার: ১৯৮০ সালে পত্রিকা পাওয়া যায়নি।

১৯৮১: আবারও যেন পিছু হটা

দৈনিক সংবাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এই প্রতিবেদনের কোথাও জাতির জনক শব্দের উল্লেখ ছিল না। প্রতিবেদনটি মূলত কোন কোন সংগঠন কী কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তার বর্ণনা দিয়ে লেখা। ১৮ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল শোষণহীন সমাজবাদী বাংলাদেশ গড়ে তোলা’— এই শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি ছাড়া এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে মূলত বক্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজ গড়া তথা সমাজতন্ত্রের প্রতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও নিষ্ঠার প্রতি আলোকপাত করা হয়।

এ বছর কোনও সংবাদ প্রকাশ করেনি ইত্তেফাক।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ‘আজ শেখ মুজিবের জন্মদিন’ শিরোনামে ছবি ছাড়া এক প্যারার ছোট একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রতিবেদনের কোথাও বঙ্গবন্ধু বা জাতির জনক শব্দের উল্লেখ নেই, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব ও অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়নি। ১৮ মার্চ ‘বাকশালী কর্মসূচী প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগের (হাসিনা) শপথ’ এই শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনের সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে বক্তাদের বক্তব্যের বিবরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি গঠনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের, তাঁর নীতি ও আদর্শের ভূয়সী প্রশংসা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি তুলে ধরা হয় বাকশাল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা। তবে এই প্রতিবেদনের সঙ্গেও সভার কিংবা বঙ্গবন্ধুর কোনও ছবি জুড়ে দেওয়া হয়নি।

দৈনিক আজাদ এবছরেও ১৭ মার্চে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে ১৮ মার্চ ‘শেখ মুজিব ছিলেন গণতন্ত্র ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ আন্দোলনের মহান নেতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া ‘পিছন দরজা দিয়া ক্ষমতা লাভের চেষ্টা ত্যাগ করুন’ শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ (হাসিনা) আয়োজিত সভার কথা বলা হয়েছে।

অবজারভারে ১৭ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ তারিখে ‘AL workers urged to work for BAKSAL’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ (হাসিনা) ও দলীয় নানা অঙ্গ-সংগঠনের নানা কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে।

১৯৮২: ফের সাহসী হয়ে উঠলো দৈনিক সংবাদ

দৈনিক সংবাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তবে এই বছরের এই প্রতিবেদনে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বলে উল্লেখ করা হয়! প্রতিবেদনটি মূলত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলো এবং অন্যান্য সংগঠন কী কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, তার বর্ণনা দিয়ে লেখা।

দৈনিক ইত্তেফাকও জন্মদিনকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণই দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ‘শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচী’—এই শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় মূলত আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বর্ণনা দিয়ে ছোট করে একটা প্রতিবেদন ছাপা হয়। ১৮ মার্চ ‘শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, বাকশাল কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালনের সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো এই পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু উপাধির উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি তুলে ধরা হয় বাকশাল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা ও বাকশাল বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকারের কথা। তবে এই প্রতিবেদনের সঙ্গেও সভার কিংবা বঙ্গবন্ধুর কোনও ছবি জুড়ে দেওয়া হয় নি।

দৈনিক আজাদ এবছরের ১৭ তারিখে ‘আজ শেখ মুজিবের ৬৩তম জন্মদিন’ শিরোনামে একটি ছোট খবর প্রকাশিত হয়। এছাড়া ‘আওয়ামী লীগে গণতন্ত্রমনা ও বামপন্থীদের প্রাধান্য বৃদ্ধির আহবান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভার কথা উল্লেখ রয়েছে। সভায় প্রফেসর কবীর চৌধুরী বরাত দিয়ে ‘১৯৬৯, ৭০, ও ৭১-এ বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’র কথা এবং ড. মোশাররফ হোসেনের বরাত দিয়ে ‘গণতন্ত্র ও দেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের’ কথা উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ তারিখে ‘Anniversary of Mujib’s birth today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ তারিখে ‘Sheikh Mujib’s birthday observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

১৯৮৩: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি

দৈনিক সংবাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি মূলত কোন কোন সংগঠন কী কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তার বর্ণনা দিয়ে লেখা। ১৮ মার্চ ছবিসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের একটি প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়। এই প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানো হয় ও তাঁর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদান, নেতৃত্ব ও বাঙালি জাতির মানস গঠনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার অলোচনা বক্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়!

এবছরও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে প্রতিবেদন করেছে ইত্তেফাক। তবে এবছর প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের যৌথ বিবৃতি উল্লেখ করে ১৫ আগস্টের প্রসঙ্গে বলা হয়, স্বাধীনতার শোষিত গণমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের প্রারম্ভে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন।

দৈনিক বাংলা ১৭ মার্চ পত্রিকা পাওয়া যায়নি। ১৮ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্তভাবে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

দৈনিক আজাদে ১৭ তারিখে ‘আজ শেখ মুজিবুর রহমানের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ (হাসিনা) ও দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নানা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। ১৮ তারিখে ‘শেখ মুজিবের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

১৯৮৪: প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতির জনক বলল দৈনিক ইত্তেফাক

দৈনিক সংবাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি সহ এক কলামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তবে এই বছরের এই প্রতিবেদনে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বলে উল্লেখ করা হয়! প্রতিবেদনটি মূলত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলো এবং অন্যান্য সংগঠন কী কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, তার বর্ণনা দিয়ে লেখা। ১৮ মার্চ ছবিসহ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের একটি প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক বঙ্গবন্ধুর ৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে প্রথমবারের মতো সরাসরি সংক্ষেপে তার জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজ (শনিবার) ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬৫তম জন্মদিন। ১৯২০ সনের এইদিনে তিনি ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় হইতে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি এ দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করিয়া যান এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই তাঁহাকে কারাভোগ করিতে হয়। এইভাবে তিনি এদেশের জনগণের বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনক হন। এবং ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন।

১৮ মার্চ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রতিবেদন করে ইত্তেফাক।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ১৮ মার্চ ছবি ছাড়া প্রথম পৃষ্ঠায় এক কলামের একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

দৈনিক আজাদে ১৭ তারিখে ‘শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ আলোচনা সভা’ শিরোনামে একটি ছোট খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ তারিখে ‘শেখ মুজিবের ৬৫তম জন্মদিন পালিত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল এবং ওসমানী সংসদ কর্তৃক আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল ও অন্যান্য দলীয় অঙ্গ-সংগঠনের নানান কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ১৮ তারিখে ‘Mujib’s birth day observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশালও ছাত্রলীগের নানা অনুষ্ঠান পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৯৮৫: আবার যেন পিছু হটলো ইত্তেফাক

দৈনিক সংবাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর ৬৫তম জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি যুক্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরা হয়েছে।

১৮ তারিখে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে মিলাদ মাহফিল ও প্রতিকৃতিতে মাল্যদান’ শিরোনামে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের একটি ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়, এখানে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ও বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, ওসমানী সংসদসহ অনান্য সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা বলে হয়েছে।

দৈনিক ইত্তেফাক আগের বছর কিছুটা সাহস দেখালেও এবছর কেন যেন ইত্তেফাক আবার পিছু হটে আসলো বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশে। অত্যন্ত সংক্ষেপে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের সংবাদ প্রকাশ করে ইত্তেফাক।

তবে ১৮ মার্চ সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন থাকলেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার একটি ছবি দুই কলামে দেয় তারা।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় নিচের দিকে ছবি ছাড়া কয়েক লাইনের একটি অতি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন ছাপা হয়। ১৮ মার্চ ছবি ছাড়া জন্মদিন পালনের এক কলামের অতি সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দৈনিক আজাদ ১৭ বা ১৮ তারিখে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশ অবজারভারে এবছরের ১৭ ও ১৮ তারিখে কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি।

১৯৮৬

দৈনিক সংবাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল, জাতীয় যুবলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসহ নানান সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

দৈনিক ইত্তেফাক এবারও আগের বছরের মতোই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ছবিসহ সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার ছবিসহ জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সংক্ষিপ্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়!

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ১৮ মার্চের পত্রিকা পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আজাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর ৬৬তম জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে ও বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, বাকশাল ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ তারিখে কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি। ১৮ তারিখে ‘Sheikh Mujib’s birthday observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

১৯৮৭: নিয়মিত জন্মদিনের সংবাদ প্রকাশ

দৈনিক সংবাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়, এখানে আওয়ামী লীগ, বাকশালসহ বিভিন্ন শ্রমিক, ছাত্র, গণ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।

১৮ তারিখে ‘প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাসের চাকাকে পিছনে ঘুরিয়ে দিয়েছে: সাজেদা’ শিরোনামে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শিশুদের মাল্যদানের ছবিসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়, এছাড়া বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আওয়ামী লীগ কর্তৃক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক ১৭ মার্চ এবারও আগের বছরের মতোই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ছবিসহ সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৮ মার্চ ছবি ছাড়া ছোট করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠানে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর অবদান উল্লেখ পূর্বক তাঁর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার বিষয়ে জোর দেন।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। মূলত কোন কোন সংগঠন কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, সেই বর্ণনা দিয়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ১৮ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম পৃষ্ঠায়।

দৈনিক আজাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস’ শিরোনামে ও বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে আওয়ামী লীগ ও দলীয় অঙ্গ-সংগঠনের নানা কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ১৮ তারিখে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিকৃত করা যাইবে না’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আওয়ামী লীগ কর্তৃক একটি সভার আয়োজন করা হয়, এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক একটি শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ অবজারভার ১৯৮৭ সালে পত্রিকা পাওয়া যায়নি।

১৯৮৮

দৈনিক সংবাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নানান কর্মসূচির কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৮ তারিখে ‘স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার আহবান’ শিরোনামে ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এবং দলীয় অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নানান কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে।

দৈনিক ইত্তেফাক ১৭ মার্চ এবার ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৮ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করিয়াই সত্যিকার শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা সম্ভব’ শিরোনামে ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্তভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। মূলত কোন কোন সংগঠন কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেই বর্ণনা দিয়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন ছাপা হয় ছবি ছাড়া। বক্তাদের বক্তব্যের বর্ণনা দিয়ে বাঙালি জাতির উত্থানে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও তাঁর আদর্শের কথা লেখা হয় প্রতিবেদনটিতে।

দৈনিক আজাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শিরোনামে ও বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সাজেদা চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও জাতীয় ছাত্রলীগের নানা কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

১৮ মার্চ ‘৭২ সালের শাসনতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার উপর গুরুত্বারোপ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, আদমজী, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধুর ন্যায় আপোষহীন চরিত্র গড়িয়া তুলুন—মহিউদ্দীন’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে বাকশাল কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাকশাল চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন আহমদ বক্তব্য দান করেন উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ মার্চ ‘Sheikh Mujib’s anniversary of birth today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল, দলীয় অঙ্গ-সংগঠনসহ অন্যান্য বিভিন্ন দলের নানা কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ১৮ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা কর্তৃক নানা অনুষ্ঠান পালনের কথা জানা যায়।

১৯৮৯

দৈনিক সংবাদে ১৭ তারিখে ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়, এখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানা যায়।

১৮ মার্চ ‘জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে: হাসিনা’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শেখ হাসিনার মাল্যদানের ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সভায় তিনি বক্তৃতা দান করেন, এছাড়া দলীয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নানা অনুষ্ঠান পালনের কথা জানা যায়।

দৈনিক ইত্তেফাক ১৭ মার্চ এবারও আগের অন্যান্য বছরের মতোই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ছবিসহ সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

১৮ মার্চ এবছর জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানের একটি ছবিসহ মুক্তিযুদ্ধে ও বাঙালি জাতির উত্থানে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উল্লেখপূর্বক, তাঁর নেতৃত্ব, স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতি আলোকপাত করে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। মূলত কোন কোন সংগঠন কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, সেই বর্ণনা দিয়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

১৮ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় এক কলামের একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদনে মূলত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনে আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যের বিবরণ দেওয়া হয়। সেখানে বক্তারা ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দৈনিক আজাদের ১৯৮৯ সালের কোনও পত্রিকা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় ১৭ মার্চ কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি। ১৮ তারিখে ‘Mujib’s birth anniversary observed’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৯৯০

দৈনিক সংবাদে ১৭ মার্চ ‘আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ একটি খবর প্রকাশিত হয়, এখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বাকশাল, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

১৮ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করুন: হাসিনা’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়, এখানে বঙ্গবন্ধুর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশু-কিশর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধনকালীন কবি সুফিয়া কামালের ছবি রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তৃতা দানের কথা জানা যায়।

দৈনিক ইত্তেফাকের ১৭ মার্চের পত্রিকা পাওয়া যায়নি। ১৮ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পালিত’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের ছবি প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও তাঁর অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পূর্বক তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে শিশু কিশোরদের ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করা হয়। এরপরে মূলত কোন কোন সংগঠন কী কী কর্মসূচি পালন করেছে সেই বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেদন শেষ করা হয়।

দৈনিক বাংলায় ১৭ মার্চ ছবি ছাড়া সংক্ষিপ্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। মূলত কোন কোন সংগঠন কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, সেই বর্ণনা দিয়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠায় এক কলামের একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় ছবি ছাড়া। এই প্রতিবেদনে মূলত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনে আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যের বিবরণ দেওয়া হয়। সেখানে বক্তারা বাঙালি জাতির উত্থানে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও তাঁর অবদান উল্লেখপূর্বক ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দৈনিক আজাদের ১৯৯০ সালের কোনও পত্রিকা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৭ মার্চ ‘Mujib’s birth anniversary today’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। ১৮ মার্চ ‘Hasina’s call to write nation’s true history’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

তথ্য সংগ্রহ: বাংলাদেশ ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

 

 

 

 

/এমএমআর/এসএএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ