বিধ্বস্ত ৮ ইউনিয়ন, জরুরি ত্রাণ তৎপরতার ডাক বঙ্গবন্ধুর

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৩:৫৯, এপ্রিল ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৮, এপ্রিল ০২, ২০২০

১৯৭২ সালের ১ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ি উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে স্তব্ধ গ্রামবাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য পৌঁছে গেলেও তা ছিল অপ্রতুল। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গ্রামগুলোর ছবি প্রকাশ হয় ডেইলি অবজারভারের প্রথম ও শেষ পাতাজুড়ে।

দুর্যোগপূর্ণ ময়মনসিংহের এই এলাকা বঙ্গবন্ধু পরিদর্শনে যাবেন বলে জানানো হয়। ঘটনার তিন দিন পরে বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার দিন নির্ধারিত হয়। সেখানে পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন যেন জনসভায় পৌঁছাতে পারে সে জন্য ঢাকা, ভৈরব, সুনামগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৭২ সালের ১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ফুলবাড়ি উপজেলায় টর্নেডোর তাণ্ডবে ১৫০ জন নিহত এবং ৩৬০ জন আহত হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বয়ে যাওয়া এ টর্নেডোর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ মাইল। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই প্রথম।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে  সর্বাধিক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। কয়েক লাখ গবাদি পশু মারা যায়। এজন্য স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। যেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরও ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় এগুলো নির্মিত হয়েছিল বলে এগুলোর নাম মুজিব কিল্লা রাখা হয়। সেসময় বাংলাদেশের মানুষকে দুর্যোগ সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল অবজারভারে প্রকাশিত ছবি

সরেজমিনে ময়মনসিংহের আক্রান্ত আট ইউনিয়নে গিয়ে প্রতিবেদকের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। একে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তার ওপর এ ধরনের দুর্যোগে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে গ্রামবাসী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘটনার পরের দিন ২ এপ্রিল গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক শোকবার্তায় বঙ্গবন্ধু বলেন, যারা বেঁচে গেছেন তাদের প্রতি আমার সরকারের সহমর্মিতা রয়েছে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ দেওয়া হবে। যেকোনও ধরনের ত্রাণ তৎপরতায় সক্ষম ব্যক্তিদের আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু যুগোস্লাভিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন

সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই যুগোস্লাভিয়া সফরে যেতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন বঙ্গবন্ধু।যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি মার্শাল টিটো ও প্রধানমন্ত্রী জে জি বিজডিকের আমন্ত্রণ নিয়ে আসা অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দলকে বঙ্গবন্ধু এই বার্তা দেন। দুইদেশের মধ্য অগ্রগামী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরেকটু এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগগুলো নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধি দল।

 

 

/এমআর/

লাইভ

টপ