গার্মেন্টস কর্মীদের প্রশ্ন, ‘আমরা এখন কী করবো’

Send
সাজ্জাদ হোসেন
প্রকাশিত : ১১:৩৩, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৪, এপ্রিল ০৫, ২০২০

মাইকিং করে কারখানার গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো শ্রমিকদের‘আমাদেরকে আরেকটু আগে জানালে কী হতো? কষ্ট করে কিছু পথ পায়ে হেঁটে, কিছু পথ ট্রাকে করে এসেছি, যাতে চাকরিটা থাকে। এখন আমরা ১১ তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় কী করবো? ঘরে থাকাও তো আমাদের জন্য বিপদ। যে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। করোনাভাইরাসের জন্য টেলিভিশনে যে দূরে দূরে থাকার কথা বলছে সেটা আমাদের এখানে ঘরে থেকে সম্ভব না। আমাদের বাঁচার জন্য এখন রাস্তাই ভালো।’ কথাগুলো বলছিলেন কারখানা খুলবে ভেবে কাজে আসা শ্রমিকেরা। তাদের কেউ বিমর্ষ, কেউ ক্ষুব্ধ। ছুটি কাটিয়ে ৫ এপ্রিল কারখানা খোলা হবে শুনে ঢাকায় এসেছেন তারা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যে যেভাবে পেরেছেন ঢাকায় এসেছেন। অনেক হয়রানির মধ্য দিয়ে গভীর রাতে ঢাকায় পৌঁছে শোনেন কারখানা ১১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও বিশ্বাস না হওয়ায় সকালেই কারখানা গেটে হাজির হতে দেখা যায় অনেক শ্রমিককে।

কারখানার গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো শ্রমিকদেরনাম প্রকাশ না করা শতে এক নারী শ্রমিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘সময় মতো না আসলে আমাদের বেতন কাটবে, আমরা এখন খাবো কী? খাবার নেই ঘরে, বেতনও পাই নাই। বেশি ভাড়া দিয়ে আসছি ঢাকায়।  এখন আমরা ঢাকায় কী করবো?’ ত্রাণের বিষয়ে শুনেছেন কিন্তু ঢাকায় না থাকায় তেমন কিছু জানেন না উল্লেখ করে বলেন,  ‘সরকার নাকি খাবার দিবে সে খাবার কী আমরা পাবো?’

কারখানার গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো শ্রমিকদের

মিরপুর ব্যাবিলন গার্মেন্টসের সামনে রাসেল (ছদ্মনাম) নামের একজন শ্রমিক বলেন, ‘গতকাল (শনিবার, ৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার মধ্যে ঢাকা আসছি কাজে যোগদানের জন্য। যদি যোগদান না করি বেতন কাটবে, চাকরিও চলে যেতে পারে। এখন এসে শুনি গার্মেন্টস বন্ধ। আমাদেরকে আগে জানাতে পারতো, ঘরে থাকার চেয়ে রাস্তায় থাকা ভালো। কারণ এক ঘরে আমরা অনেকে থাকি। একসঙ্গে থাকতে অনেক কষ্ট হয় দিনের বেলা। গার্মেন্টসে কাজ করি, কোনোমতে রাতে বাসায় গিয়ে থাকি। এখন দিনে আমরা বাসায় কী করে থাকবো? এর চেয়ে রাস্তায় থাকা ভালো।  গ্রামে ছিলাম ভালো ছিল, ঢাকা শহরও ফাঁকা থাকতো। এখন তো ঢাকায় মানুষ বেড়ে গিয়েছে। এ রোগ আরও বেশি ছড়াতে পারে।’

কারখানার গেট টানানো নোটিশ

গার্মেন্টেসের গেটে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কাজ আসা শ্রমিকদের মাইকেবলা হচ্ছে ১২ তারিখ আসতে। তারপরও বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। চোখেমুখে অনিশ্চয়তা নিয়ে রাবেয়া বলেন,  ‘আমাদের বেতন কবে হবে সেই নিশ্চয়তা নাই। ঢাকা শহরে ঘরভাড়া দেওয়া, খাওয়া খরচ চালানো কীভাবে সম্ভব হবে? ১১ তারিখও যে খুলবে তাইবা নিশ্চিত করে বলছি কী করে?’

 

/ইউআই/এসটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ