এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন আম্পান, বড় ক্ষতির শঙ্কা

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৮:২৯, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩১, মে ২০, ২০২০

আম্ফানএক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন আম্পান। এখন পর্যন্ত যে গতি তাতে এমন কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্রমান্বয়ে আম্পান উপকূলের দিকে আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে ধেয়ে আসছে। আম্পানের ব্যাস ৭২০ কিলোমিটার, যা সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফের দূরত্বের সমান। শক্তিশালী এই ঝড়ে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি সত্ত্বেও উপকূলের জনজীবনে সাইক্লোন স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে যায়। অনেকেই প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা বয়ে বেড়ান বাকিটা জীবন। আম্পানকে সিডরের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই সিডরে ৩ হাজার ৪০৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০০৭ সালের নভেম্বরে হয়ে যাওয়া সিডর এখনও দগদগে ঘায়ের মতোই উপকূলের মানুষের মনে লেগে রয়েছে। ২০০৯ সালের আইলায় মারা যায় ১৯০ জন। ২০১৩ সালের মহাসেনে ১৮ জন। তবে গেল বছর বুলবুলে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। এর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লোক মারা যায় ১৯৭০ সালে। ওই সাইক্লোনে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। এরপর ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়।

গত শনিবার গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সৃষ্টি হয়। এরপর এটি শক্তি সঞ্চয় করতে করতে এখন সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে। সিডরের উৎপত্তি হয়েছিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে। আম্পানের উৎপত্তিও বঙ্গোপসাগরের একই জায়গায়।

আবহাওয়া অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আম্পান এখন সাগরে আছে। সাগরে এর বাতাসের গতিবেগ এখন অনেক বেশি। সিডরের চেয়েও বেশি। কিন্তু ঝড় এখনও ৭০০ কিলোমিটার দূরে আছে। আজ সারা রাতের বৃষ্টিতে আনেকখানি শক্তি হারাবে আম্পান। তবে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি হবেই। আমাদের ফসলের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে জলোচ্ছ্বাস। এ দুই মিলিয়ে ক্ষতি আকার হবে অনেক। তিনি বলেন, সিডরের মতো প্রাণহানি হবে না এটা নিশ্চিত। কারণ, আমরা এখন অনেক সংগঠিত। আশ্রয়কেন্দ্রও অনেক। আর আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রাণহানি তেমন হবে না বলেই আশা করছি। তবে আশার কথা হচ্ছে, বৃষ্টি হলে ঝড় দুর্বল হতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের জন্য বিষয়টি মঙ্গলজনক হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আম্পান মঙ্গলবার (১৯ মে) দিনগত রাত থেকে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সে সময় বাতাসের গতি কিছুটা কমে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। আম্পানের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ হচ্ছে বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হচ্ছে আম্পান। এটিকে সুপার সাইক্লোন বলার কারণ হচ্ছে, ঝড়ে বাতাসের গতি যদি ২২১ কিলোমিটারের বেশি হয় তাহলে তাকে সুপার সাইক্লোন বলে। এখন আম্পানের বাতাসের গতি আছে ২২৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর আগের সবচেয়ে বড় ঝড় ছিল সিডর। সিডরের গতি ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তবে সিডরের এই গতি ছিল যখন এটি উপকূলে আছড়ে পড়ে সেই সময়ের। আমরা আশা করছি ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার বেগের এই আম্পান যখন উপকূলে আঘাত হানবে তখন তার গতি কিছুটা কমে যাবে। এতে এটি সিডরের চেয়ে কম শক্তিশালী হতে পারে। তবে পুরোটাই আমাদের পর্যবেক্ষণ। প্রাকৃতিক বিষয় এত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

/এসএনএস/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ