বাজেট অধিবেশন: কোয়ারেন্টিনে থাকবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ০১:০৭, জুন ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৩, জুন ০৫, ২০২০

 

সংসদ অধিবেশন (ফাইল ফটো)

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে যারা করোনাভাইরাস নেগেটিভ প্রমাণিত হবেন— কেবল তারাই আসন্ন বাজেট অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অধিবেশনের পুরো সময়টা সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। যাতে তারা কোনও আক্রান্তের সংস্পর্শে না আসেন, সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোথায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিয়োজিত এসএসএফের সুপারিশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষা এবং করোনা নেগেটিভ হওয়া ব্যক্তিদের সংসদ চলাকালে কোয়ারেন্টিনে রাখাসহ ১২ দফা সুপারিশ করেন। এসব সুপারিশ এবং সংসদ সচিবালয় তাদের নিজস্ব কিছু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাজেট অধিবেশনকালে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা গেছে, এসএসএফের সুপারিশভুক্ত ভিভিআইপিদের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ছাড়াও সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অধিবেশনে অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

এরই অংশ হিসেবে গত দুই দিনে ৯৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।  এদের মধ্যে চার জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।  আগামী দু-একদিনের মধ্যে বাকিদেরও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, টেস্টে নেগেটিভ আসা সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে না যান, সে জন্যেই তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাদের বাসায় থাকার সুযোগ রয়েছে, তাদের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং যাদের এ সুযোগ নেই, তাদের জন্য সংসদ সচিবালয় ব্যবস্থা করছে।

এদিকে, করোনা সংকটকালে অনুষ্ঠেয় এই বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক এমপিদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। রোস্টার করে এমপিদের অধিবেশনে যোগদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিদিনের উপস্থিতিতে কোরামপূর্ণ হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনের উপস্থিতি দুই অঙ্কের মধ্যে রাখার ওপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।

অধিবেশন চলাকালে কক্ষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টেও পরিবর্তন আনা হবে। সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরও এক সারি পেছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনে সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরও কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে ইতোমধ্যে পাঁচ জন সংসদ সদস্য করোনা পজিটিভ হওয়ায় উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি এমপিদেরও করোনাভাইরাস পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনা জোরালো হয়েছে। বেশ কয়েকজন হুইপসহ বড় একটি অংশ এমপিদের করোনা পরীক্ষার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে স্পিকারসহ আরেক অংশ এমপিদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার বিষয়টি বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছাধীন রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে চাইলে কেউ নিজের ইচ্ছায় পরীক্ষা করাতে পারবেন।

জানা গেছে, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং উপস্থিতির বিষয়ে চিফ হুইপের নেতৃত্বে হুইপরা একদফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কোন দিন কোন কোন সদস্য অংশ নেবেন, তার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে স্পিকারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে পরামর্শ নেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে রোস্টার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই রোস্টার অনুযায়ী কে কোনদিন অধিবেশনে অংশ নেবেন সেটা হুইপদের পক্ষ থেকে আগেই তাদেরকে মোবাইলে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

সংসদ অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে হুইপ ইকবালুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ডিজি- এসএসএফ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমরা তা বিবেচনায় নিয়েছি।’

তিনি জানান, অধিবেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। এমপিদের করোনা পরীক্ষার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।

ইকবালুর রহিম জানান, তারা সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ জনের  মধ্যে সীমিত রাখতে চান। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংসদ কক্ষে প্রয়োজন হলে আনঅফিসিয়ালি সিট রি-অ্যারেঞ্জ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যতদূর সম্ভব সিট ফাঁকা রাখা হবে।

দায়িত্ব পালনকারীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাসায় কোয়ারেন্টিনের পরিবেশ রয়েছে, তারা সেখানেই থাকবেন। আর  অন্যদের জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ব্যবস্থা করা হবে।

চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যতদূর সম্ভব সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। আমরা প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি রাখছি না।’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি এখনও জানেন না বলে জানান।

সংসদ সদস্যদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে কেউ আক্রান্ত হতেই পারেন। এটা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা করছি না। তবে যিনি ঝুঁকিপূর্ণ, তিনি অধিবেশনে যোগ দেবেন না।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত পাঁচ জন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাই সরকারি দল আওয়ামী লীগের এমপি। এদের তিন জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাকি দুজনের একজন হাসপাতালে এবং আরেকজন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আগামী ১০ জুন একাদশ সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন শুরু হবে। ১১ জুন বিকাল তিনটায় অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংসদের কার্যকম সংক্ষিপ্ত করলেও বাজেট ৩০ জুনেই পাস হবে বলে জানা গেছে।

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ