স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট, নতুন কর নেই

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, জুন ৩০, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৩০ জুনের ঘটনা।)

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বাজেট উত্থাপন হয় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে নতুন করে কোনও কর আরোপ করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন তাই বাজেটকে বলেছেন, উন্নয়ন এবং পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন বাজেট। যাতে রাজস্ব খাতে উদ্বৃত্ত হয়েছে ৬৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এদিকে অতিরিক্ত কাজের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শুক্রবারের সাপ্তাহিক সাক্ষাত পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাসসের সংবাদে জানানো হয়। এদিকে ১৯৭২ সালের এইদিন বঙ্গবন্ধু তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ন্যাপ নেতা মহিউদ্দিনকে দেখতে যান।

প্রথম বাজেট

প্রথমবার স্বাধীন দেশের বাজেট নিয়ে বেশ উৎসাহ ছিল। তাজউদ্দিন আহমদ তার বাজেট কতিপয় ক্ষেত্রে কল্পনার ঘোষণা করেন। এতে করে কিছু পণ্যের দাম কমবে বলে উল্লেখও করা হয়। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, এবারের বাজেটে পাকিস্তানি আমলের দুঃস্বপ্ন পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় শিক্ষা ও কৃষি খাতে। প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৪৩ কোটি টাকা।

এই বাজেটের অংকের মাত্রা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন বাজেটের পরিমাণ যে সরকারের নিজস্ব সম্পদ পরিধির বাইরে সে সম্পর্কে আমরা সচেতন। কিন্তু আমরা সারা পৃথিবী থেকে উদার সাহায্য পাচ্ছি। সেই কারণেই উল্লেখিত অংকের সংখ্যা স্থির করতে মনস্থির করেছি।

চলছে সিমলা বৈঠক

গুরুত্বপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ইস্যু প্রশ্নের মতভেদ দূর করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ১৯৭২ সালের ৩০ জুন সন্ধ্যায় রাজভবনে ৪৫ মিনিট ধরে আলোচনা করেন। এই আলোচনায় তাদের কোনও সাহায্যকারী ছিল না। এদিকে কর্মকর্তারা তাদের বৈঠকে মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দৈনিক বাংলায় খবর প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতা সম্ভবত আবারও ১ জুলাই সন্ধ্যায় আলোচনায় বসবেন। ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় শুরুর পর থেকে এটা দুই নেতার তৃতীয় বৈঠক। প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক এবং ভোজসভায় দুই নেতা কথা বলেছিলেন।

রাজভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আলোচনা কক্ষে প্রবেশের সময় দুজন হাসিমুখে ঢুকলেও, গোমড়া মুখে বের হয়ে আসেন। দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করেছেন বলে জানা গেলেও ঠিক কী নিয়ে আলোচনা চলছে তা জানা যায়নি। আলোচনায় ভালোভাবে চলছে কিনা বৈঠকে বসার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আমি তেমনটাই মনে করি। ভুট্টোকে প্রশ্ন করা হয় কেমন বোধ করছেন, তিনি জবাব দেন, খুব সুন্দর। বৈঠক শেষে ইন্দিরা গান্ধি সাংবাদিকদের বলেন সম্মেলনে কিছুটা অগ্রগতি ঘটেছে আমরা আবার বসবো।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ বর্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের মুক্তির দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বাসসের খবরে প্রকাশ সিমলা সম্মেলনে যোগদানের আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির দানের জন্য পুরনো যে কথা বলেছেন তোফায়েল আহমেদ তার জবাব দেন। তোফায়েল আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশ মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ