লাশের অপেক্ষায় ছিল সুমনের পরিবার

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ০৩:১১, জুলাই ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৩, জুলাই ০১, ২০২০

হাসপাতালে সুমন বেপারীমর্নিং বার্ড লঞ্চটি যখন ডুবে যায় তখন আধো ঘুমে ছিলেন ফল ব্যবসায়ী সুমন বেপারী (৩৩)। তার সঙ্গে থাকা কর্মচারী এক কিশোর মাসুম লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে বেঁচে গেলেও সুমন বেপারী আটকা পড়েন লঞ্চে। যখন লাশের পর লাশ বের হচ্ছিল, তখন তার স্বজনরা সব আশা ছেড়ে দিয়ে লাশের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে অলৌকিকভাবে সুমন বেপারী ভেসে ওঠেন, যখন লঞ্চটি টেনে উপরের দিকে আনা হয়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা তিনি লঞ্চটির ভেতরে ছিলেন। উদ্ধারের পর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ‍ছুটি পেয়ে মুন্সীগঞ্জের নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন তিনি।

এই ১৩ ঘণ্টা ডুবন্ত লঞ্চের ভেতরে সুমন কীভাবে ছিলেন, ঘটনার সময় সাঁতরে বেঁচে যাওয়া সুমনের কর্মচারী এবং নদীর তীরে উৎকণ্ঠায় থাকা তার তিন ভাই, ভাতিজা ও ব্যবসায়িক পার্টনাররা সে সময় কী করেছিলেন, বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে তা তুলে ধরা হলো:

মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে ফজল বেপারীর আট ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা হলেন—আব্দুল হাই বেপারী, কাইয়ুম বেপারী, সেলিম বেপারী, চান মিয়া বেপারী, শাহীন বেপারী, শাহজাহান বেপারী, হুমায়ুন বেপারী ও সুমন বেপারী। মেয়ের নাম পারুল আক্তার।  ছেলেদের মধ্যে আব্দুল হাই বেপারী আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়র্ডের নির্বাচিত মেম্বার। সেলিম, শাহীন ও সুমন বেপারী প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে ব্যবসা করেন। চান মিয়া ফলের ব্যবসা করেন, শাহজাহান জায়গা জমি বিক্রির দালালি করেন। হুমায়ুনের বড়ভাই আব্দুল হাইয়ের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। এদের মধ্যে শাহজাহান, হুমায়ুন ও সুমন বেপারী অবিবাহিত। তবে তারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে থাকেন। তাদের মা সেজো ছেলে চান মিয়ার সঙ্গে থাকেন।

সুমন বেপারীর বাড়িফজরের নামাজ পড়ে কর্মচারী মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সুমন

সুমন বেপারীর ইমিডিয়েট বড়ভাই হুমায়ুন বাংলা ট্রিবিউনকে মঙ্গলবার বলেন, ‘আমাদের সবার ছোটভাই সুমন বেপারী। সে কাতারে ছিল। কিন্তু টাকা পয়সা মাইর খেয়েছে। তিন বছর আগে দেশে আসে। প্রথম দুই বছর বসে ছিল। এক বছর ধরে ফলের ব্যবসা করে। আমাদের এলাকার অনেক মানুষ বাদামতলীতে ফলের ব্যবসা করে। আড়ত থেকে ফল কিনে টার্মিনালে বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে বিক্রি করায়, নিজেও বিক্রি করে।’

তিনি বলেন, ‘সোমবার (২৯ জুন) সকালে ফজরের নামাজ পড়ে সুমন। নামাজের কিছুক্ষণ পর আমাদের বাড়ির পাশের মাসুম (১৭) নামে এক ছেলে সুমনকে ডাক দেয়। তারা একসঙ্গে ঢাকায় যাবে। মাসুম আমাদের সম্পর্কে ভাগ্নে লাগে। সে সুমনের ফল বিক্রি করে দেয়, তার বাবা নান্নু মিয়া বেঁচে নেই। তারা দু'জনে একসঙ্গে চলে যায়। তাদের সাড়ে ৭টার ফার্স্ট ট্রিপ লঞ্চে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা লঞ্চটি মিস করে। এরপর সেকেন্ড ট্রিপ লঞ্চ ‘মর্নিং বার্ডে’ ওঠে। দুজনেই লঞ্চের নিচে বসেছিল। সকাল ১০টার দিকে আমাকে আমাদের এক চাচাতো ভাই ঢাকা থেকে জানায়, ওরা যে লঞ্চে ছিল, সেই লঞ্চ সদরঘাট গিয়ে ডুবে গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। প্রথমে লঞ্চে উঠি, এরপর লঞ্চে বসে দেখি আমাদের এলাকার মানুষ একটা বড় ট্রলার নিয়ে সেখানে যাচ্ছে। আমরা লঞ্চ থেকে ট্রলার ইশারা দিই। তারপর ট্রলারে উঠি। ট্রলার দিয়ে আমরা লঞ্চের আগে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সুমনের সঙ্গে লঞ্চে থাকা মাসুম ঘটনার সময় সাঁতরে তীরে ওঠে। তাকে মাঝিরা উদ্ধার করে। সে তীরে এসে সুমনের পার্টনারদের জানায় সুমনের বিষয়। তখন সবাই খোঁজ শুরু করে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ডুবুরিরা কাজ করেছে, সেখানে তখন পুলিশ ও প্রশাসনের লোক ছিল না। কেবল তিনটা লাশ তুলে ট্রলারের ওপর রাখছে, কিন্তু সুমনের লাশ নেই। এরপর পুলিশ এসে আমাদের সবাইকে সরিয়ে দিলো। একে একে বিকালের মধ্যে ৩০টি লাশ উঠালো। সব লাশ মিটফোর্ড আনলো, আমরাও মিটফোর্ডে আসলাম। সেখানে আমাদের লাশ দেখালো, কিন্তু সুমনের লাশ নেই। এরপর সন্ধ্যায় আমরা আবার সদরঘাট গিয়ে লঞ্চডুবির এলাকায় গিয়ে টার্মিনাল ও লঞ্চে বসে অপেক্ষা করি। পরে বাড়ি থেকে আমাদের কাছে ফোন আসে সুমনকে টিভিতে দেখা যায়। তখন আমরা ট্রলার নিয়ে নদীতে যেতে থাকি, এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস সুমনকে নিয়ে তীরে আসে। তখন দেখতে পাই আমার ভাইকে।’

লাশের অপেক্ষায় ছিল পরিবার

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যখন একে একে ৩২টি লাশ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা, তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিল তার পরিবার। তারা লাশের অপেক্ষায় ছিল। সুমন বেপারীর বড়ভাই ও আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল হাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘সুমন বাদামতলী আড়ত থেকে ফল কিনে সেগুলো আবার টার্মিনালে বিক্রি করে। আমাদের এলাকার অনেকেই এই ব্যবসা করেন। রবিবার সকালে সে ঢাকা গিয়েছিল। ওই দিন কিছু ফল কিনে হাবীব নামে একজনের কাছে রেখে আসে। হাবীবের সঙ্গে একত্রে ব্যবসা করে সুমন। মাসুম ও সুমন সোমবার সকালে একসঙ্গে বের হয়ে যায়। কিছু কম্বল নিয়ে বের হয়েছিল তারা। কারণ আম কম্বলের ভেতরে রাখলে তাড়াতাড়ি পেকে যায়। তাছাড়া ওরা লঞ্চে কম্বল বিছিয়েও ঘুমায়। সোমবার সকালে আমাকে সুমনের পার্টনার জয়নাল ফোন দিয়ে জানায় লঞ্চ ডুবেছে। সুমনের সঙ্গে থাকা মাসুম জীবিত ওপরে উঠলেও সুমন উঠতে পারেনি। এরপর আমি এলাকার সবার সঙ্গে ঢাকায় যাই। রাত পর্যন্ত যখন দেখলাম ৩২ লাশ, তখন আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। সন্দেহ ছিল লাশ পাবো কিনা। লাশের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। এরপর সুমনের বিষয়ে রাত ১০টার দিকে শুনলাম।’

বুড়িগঙ্গা থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছেসুমনের মাকে লঞ্চডুবির খবর দিয়েছিল নাতি তুহিন

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনা সুমন বেপারীর বৃদ্ধা মাকে জানিয়েছিল পাশের বাড়ির এক তরুণ। তার নাম তুহিন। তুহিন সুমনের দূর সম্পর্কের ভাগ্নে হয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে দৌড়ে সুমন বেপারীর মাকে নানি সম্বোধন করে বলে, ‘নানি নানি সুমন মামা যে লঞ্চে ছিল, সেই লঞ্চ ডুবে গেছে।’ তুহিনকে সদরঘাট থেকে তার এলাকার লোকজন ফোনে জানিয়েছিল। এরপর সুমনের ভাই শাহীন বেপারীও তার কাছ থেকে ঘটনা শুনে ঢাকা চলে আসেন।   

সুমনের কর্মচারী মাসুম সাঁতরে তীরে ওঠে

লঞ্চটি যখন পোস্তগোলা ব্রিজ অতিক্রম করে, তখন সুমন লঞ্চের নিচতলায় তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। মাসুম তাকে ডাক দেয়, নামার প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু সুমন তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন, ঢুলছিল। মাসুম বলে, ‘আমি সুমন চাচাকে ঘুম থেকে উঠে রেডি হতে বলি, সে তখনও ঘুমে ঢুলছিল। আমি কথা বললেও চাচা সেভাবে কথা বলছিল না। এর কিছুক্ষণ পরই লঞ্চ ডুবে যায়। আমি লাফিয়ে পড়ি। সাঁতরাতে থাকি। কিছুক্ষণ সাঁতরানোর পর একটা ট্রলারে আমাকে নদী থেকে ওঠায়। সবাইকে তীরে নিয়ে আসা হয়। তবে সুমন চাচা সেখানে ছিল না।’

ট্রলারে তোলার সময় মাসুমের পরনে কোনও কাপড় ছিল না। পরে এক মাঝি তাকে একটি গামছা দেয়। সেটি পরে ট্রলার থেকে টার্মিনালে ওঠে দৌড়ে সুমনের পার্টনার হাবীবের কাছে আসে। হাবীবের বাড়িও মুন্সীগঞ্জে সুমনের এলাকায়। হাবীবকে সুমন ডুবে যাওয়ার ঘটনার কথা জানায় মাসুম। হাবীব তখন ১৩ নম্বর পন্টুনে ফল বিক্রি করতেছিল। এরপর হাবীব নৌকা নিয়ে সুমনের খোঁজে নদীতে যায়।

সোমবার দিনভর সুমনের পরিবার ও ব্যবসায়িক পার্টনাররা ছিলেন নদীতে

বুড়িগঙ্গার শ্যামবাজার এলাকায় যখন মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়, তখন সুমনের ব্যবসায়িক পার্টনার হাবীব ছিলেন টার্মিনালেই। দূর থেকে ঘটনা দেখে তিনি  কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তবে ওই লঞ্চে যে সুমন ও মাসুম আছেন, তা তিনি জানতেন না। সকালে তাদের মধ্যে কোনও কথাও হয়নি। যখন সুমনের কর্মচারী মাসুম এসে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘটনা বলে, তখন তিনি নৌকা নিয়ে সুমনকে খুঁজতে বের হন। কিন্তু কোথাও সুমনকে পাননি তিনি।

বুড়িগঙ্গা থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে

দুইবার ইশারায় অজু করে ইশারাতেই নামাজ পড়েন সুমন

মঙ্গলবার রাতে দুই দফায় সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। তবে তার মাথা ব্যথা করায় তিনি বেশি কথা বলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমার মাথা ব্যথা। এখন কথা বলতে পারছি না।’ পরে সুমন ব্যবসায়িক পার্টনার হাবীবকে পুরো ঘটনা বলেছেন। ঘটনার শুরু থেকে সুমন বাড়ি যাওয়া পর্যন্ত সদরঘাটেই ছিলেন হাবীব। সুমন উদ্ধার হওয়ার পর তার সঙ্গে হাসপাতালেও ছিলেন তিনি। হাবীব সুমনের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লঞ্চটি যখন উল্টে যায়, তখন সুমন মুহূর্তেই মানুষের ধাক্কায় ইঞ্জিনের ভেতরে চলে যান। সেখানে তার গলা পর্যন্ত পানি উঠেছিল। ওভাবেই তিনি ভেসে থাকেন। অন্ধকার, কিন্তু শ্বাস নিতে পারছিলেন। একটা রড ধরে ছিলেন। তিনি দোয়া পড়ছিলেন। দুইবার প্রস্রাব করেছেন, দুইবার ইশারায় অজু করে ইশারায় নামাজ পড়েছেন। তার পরনে লুঙ্গি ছিল। কিন্তু পরে লুঙ্গি খুলে যায়। কেবল গেঞ্জি গায়ে ছিল। সুমন বের হবার চেষ্টা করেননি। তিনি মাথা উঁচু করে ছিলেন। আশায় ছিলেন, লঞ্চ ওপরে তোলার। চুপচাপ ছিলেন। যখন রাতে লঞ্চটি জাগানোর জন্য উদ্ধারের কাজ শুরু হয়, নদীর তলা থেকে উপরের দিকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হয়, তখন তিনি বের হয়ে আসেন।’ হাবীবের এই বক্তব্য ঠিক কিনা পরবর্তীতে জানতে চাইলে সুমন বেপারী সঠিক বলে মঙ্গলবার রাতে জানান।

ব্যবসায়িক পার্টনার হাবীব আরও বলেন, 'সুমন পানির ভেতরে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল লঞ্চটি উদ্ধারে দ্রুত কাজ শুরু হবে। কখনও ভেঙে পড়েন, আবার কখনও নিজেকে নিজেই বুঝ দেন—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।'

এর আগে মঙ্গলবার সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালে বসে বাংলা ট্রিবিউনকে সুমন বলেন, ‘লঞ্চ যখন ডোবে, তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার সময় ঘুম ভাঙে। শুধু বুঝতে পারলাম, লঞ্চটি ধাক্কা খেলো। আর কিছু খেয়াল নেই। কিসের মধ্যে ছিলাম আল্লাহ জানেন, তবে ভেতরে এক জায়গায় খাড়ায় ছিলাম রড ধইরা।'

সুমনকে উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিসের তিন ডুবুরি যা বললেন

যখন লঞ্চটি টেনে তুলতেছিলেন উদ্ধারকারীরা, তখন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের একটি দল টহল দিচ্ছিল নদীতে। সেই দলে ছিলেন—ডুবুরি দলনেতা আবুল খায়ের, ‍ডুবুরি আজিজুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ। তিন জনই সুমনকে ধরে ট্রলারে তোলেন। তিন জনের সঙ্গেই মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের।

ডুবুরি দলের তিন সদস্যডুবুরি আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন রাতে লঞ্চটিকে ভাসিয়ে তোলা শুরু করি অর্থাৎ নিচ থেকে লঞ্চটি আনুমানিক ২০ ফুট ওঠার পরই পানির ভেতর থেকে ভেসে ওঠে এক ব্যক্তি। সে হাত জাগিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলতে থাকে। চিৎকার করে। আমরা লাইটের আলোতে তাকে দেখে দ্রুত ট্রলার নিয়ে তার কাছে যাই। এরপর তাকে উঠিয়ে তীরে নিয়ে আসি। সে ইঞ্জিনের ভেতরে ছিল বলে জানিয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামক ছোট্ট লঞ্চটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। লঞ্চটি দ্রুত ডুবে যাওয়ায় সেটির ভেতরে অনেক জায়গায় বাতাস আটকে থাকে। বাতাসের চাপে সেসব জায়গায় পানি প্রবেশ করেনি। কিন্তু লঞ্চটি উল্টে যাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে যায়, তাই ভেসেও ওঠেনি। অর্থাৎ মুহূর্তেই এয়ার পকেট তৈরি হয়। সম্ভবত সুমন বেপারী একটি এয়ার পকেটে ছিলেন। যেখানে পুরো পকেটিতে পানি প্রবেশ করেনি, এয়ার পকেট থেকে পাওয়া অক্সিজেন নিয়েই বেঁচে ছিলেন তিনি। এটাই একমাত্র কারণ, এছাড়া দ্বিতীয় কোনও কারণ নেই।’

সুমন বেপারী বাড়িতে

সাংবাদিকদের ভিড় বাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়ে দিয়েছে মঙ্গলবার বিকালে। সুমনের ভাই শাহীন বেপারী ও অন্যরা তাকে নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে চলে যান। তার বর্তমানে বড় কোনও সমস্যা নেই। তবে ট্রমায় রয়েছেন। তার মাথা ব্যথা করছে। তিনি বাড়িতে গিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের ছোট লঞ্চটি। সদরঘাটের কাছাকাছি এলে ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চ সেটির ওপরে উঠে যায়। এতে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চটি টেনে তীরে নেওয়া হয়েছে। ফল ব্যবসায়ী সুমন বেপারী অলৌকিকভাবে ঘটনার ১৩ ঘণ্টা পর লঞ্চটি উদ্ধারের সময় ভেসে ওঠেন। এই ঘটনায় ময়ূর লঞ্চের মালিকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ