ভুট্টো যত খুশি বৈঠক করুন কিছু যায় আসে না: বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭, জুলাই ০২, ২০২০

১৯৭২ সারের ৩ জুলাইয়ের দৈনিক বাংলা

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২ জুলাইয়ের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটিতেই পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট যত খুশি সম্মেলনে মিলিত হোন না কেন, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। তিনি বলেন, ‘কোনও সম্মেলন বা কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবে না। যারা বাংলাদেশের নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে।’

১৯৭২ সালের ২ জুলাই কুষ্টিয়ার এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সৈন্যদের বাঁচাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোকে তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধে অপরাধী সৈন্যদের জন্য লজ্জা করা উচিত। নির্লজ্জতার একটা সীমা থাকা উচিত।’

দৈনিক বাংলা, ৩ জুলাই ১৯৭২সিমলায় ভারত পাকিস্তান শীর্ষ বৈঠকে বিনা বিচারে যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে দিতে ভুট্টো আবদার করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বলে ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই দৈনিক বাংলার খবরে প্রকাশ করা হয়। ভুট্টো বলেন, ‘তিনি (ভুট্টো) চান পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে পাকিস্তানের কোনও রকম দর কষাকষি উচিত হবে না।’ ভারতের জনশক্তির অভাব আছে—এই কথা আমি মনে করি না উল্লেখ করে ভুট্টো বলেন, ‘আজ হোক কাল হোক যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে দিতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবন্দিদের পাকিস্তানের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে তবে তারা নিজেরাই বিচার করবে।’ তিনি আটকে পড়া বাঙালিদের পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা সেখানেই বসবাস করতে পারবেন।’ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য থেকেই মনে হয়, বাঙালিদের তিনি দর কষাকষির জন্য আটক রেখেছেন।

ভুট্টোকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলার মাটিতেই যুদ্ধবন্দিদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার কথা আবারও উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধু।

শাসনতন্ত্র প্রণীত হবে শিগগিরই

২ জুলাই কুষ্টিয়ার জনসভায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধুদ্রুত শাসনতন্ত্র প্রণয়ন হবে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু জনসভায় বলেন, ‘শাসনতন্ত্রে জনগণের অধিকারের নিশ্চয়তার বিধান করা হবে। জনগণকে আমি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’ বঙ্গবন্ধু ২ জুলাই কুষ্টিয়ার একটি ময়দানে জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা এলেও জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। তা অর্জনের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।’

খাদ্য পরিস্থিতি

দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য জনসাধারণকে কৃষি বিপ্লব সাধনের আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ টন খাদ্য আমদানি করতে হবে বলে জানতে পেরেছিলাম। পাকিস্তানি কারাগার থেকে বের হয়ে এসে দেখি, কোষাগার শূন্য।’ তিনি বলেন, ‘আগামী মাসের (আগস্ট) মধ্যে ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য এসে যাবে।’

৩ জুলাইয়ের দৈনিক উত্তেফাকদুর্নীতি

ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে আসছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকার কঠোর হস্তে তা দমন করবে।’ তিনি বলেন, ‘মুনাফাখোর, কালোবাজারি, চোরাকারবারি ও সমাজবিরোধীদের সংশোধনের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করে অবৈধ দ্রব্যাদি ও অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করা হচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘গণতন্ত্র আছে, তাই বলে গণতান্ত্রিক অধিকারের অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’ দুর্নীতিবাজদের বের করে দিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ নেতা এবং কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিপরায়ণ লোকদের বহিষ্কার করুন। শুধুমাত্র নিঃস্বার্থ লোকেরা পার্টিতে স্থান পাবেন।’

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ