অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের ফেরত নিতে মালদ্বীপের চাপ

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১৮:০০, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩১, জুলাই ০২, ২০২০

মালদ্বীপে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের ফেরত আনতে চাপ দিচ্ছে দেশটি। সেখানে প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যার মধ্যে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। ইতোমধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন হাজার ৭৯৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে মালদ্বীপ। অন্যদিকে পর্যটন নির্ভর দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া বৈধ শ্রমিকরাও দেশে ফিরতে চায়। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বৃহৎ সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মালদ্বীপের প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। তারা জানায়, পর্যটননির্ভর দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি কাজ করে বাংলাদেশিরা। এছাড়া মাছ ধরা, নির্মাণ, কারখানায়ও কাজে করেন তারা। করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশিদের প্রবেশ বন্ধ রেখেছে মালদ্বীপ। ফলে পর্যটননির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ছাঁটাই না করলেও নিয়মিত বেতন দিচ্ছে না। কর্মহীন শ্রমিকদের অনেকেই দেশ থেকে টাকা নিয়ে বাসা ভাড়া ও খাবার খরচ চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ফ্লাইট চালু হলে অনেকে স্বেচ্ছায় ফিরবেন মালদ্বীপ থেকে।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে ক্রমাগত মালদ্বীপ সরকার চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশকে। আগে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার ‍সুযোগ দিলেও বর্তমানে তা বন্ধ। বরং অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত পাঠাতে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার বাংলাদেশির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের জন্য সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ‘আমরা মালদ্বীপ প্রবাসী জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ কাদির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মালদ্বীপে ৫০ হাজারের বেশি অবৈধ শ্রমিক আছে। করোনার কারণে অনেকই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খাবার সংকট রয়েছে। নতুন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। মালদ্বীপ সরকারও অবৈধদের দেশে পাঠিয়ে দিতে নিবন্ধন শুরু করেছে।’

আবদুল্লাহ কাদির বলেন, ‘মালদ্বীপে বাংলাদেশিরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশি। কারণ, একটা ঘরে যেখানে পাঁচ থেকে ছয় জন থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ২০ থেকে ২৫ জন করে থাকেন।’

এদিকে শ্রমিক ফেরত পাঠানো ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তার জন্য মালদ্বীপকে ১০০ টন খাদ্য, ওষুধ ও মেডিক্যাল সামগ্রী দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই ত্রাণের মধ্যে ছিল ৪০ টন চাল, ১০ টন আলু, ১০ টন মিষ্টি আলু, ১০ টন মসুর ডাল, পাঁচ টন পেঁয়াজ, পাঁচ টন ডিম এবং পাঁচ টন সবজি। খাদ্য ছাড়াও ওষুধ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পিপিই ও মাস্ক পাঠানো হয়। ওই পণ্য সামগ্রী নিয়ে নৌবাহিনীর একটি জাহাজ মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর ২২ এপ্রিল ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে দুই মাস মালদ্বীপে ছিল সেনাবাহিনীর ১০ সদস্যের একটি দল।

মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মালদ্বীপ সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত নেওয়ার কথা বলেছে। তারা একটি তালিকাও করছে। পর্যায়ক্রমে কিছু বাংলাদেশিকে ফেরতও পাঠানো হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি যেনও তারা সহনশীল হয়।’

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ