বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়স বাড়াতে বিল পাস

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:১৯, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২০, জুলাই ০৯, ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন (ছবি: ফোকাস বাংলা)বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়স ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ সংক্রান্ত ১৯৭২ সালের ‘দ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধন করতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২০’  পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন।

সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে করিমকে এ পদে নিয়োগ দিতেই আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। তারা বলেন, কোনও একজন ব্যক্তির জন্য এমন আইন করা উচিত নয়। অবশ্য আইন সংশোধনে ফজলে করিমকে রাখা একটি অন্যতম কারণ বলে স্বীকার করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব তোলার সময় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, একজনের জন্য এই আইন করা হচ্ছে। যোগ্য লোককে নিয়োগের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অন্য যারা আছেন তাদের অযোগ্য মনে করছি। হারুন খসড়া আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘গভর্নর পদে বয়স ৬৭ করা হলে সিভিল সার্ভিসের সবাই চাইবে তাদেরও বয়স বাড়ানো হোক। এই দাবি উঠবে। সরকারের এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। আরেকটা কথা, যোগ্য লোক হলেই ভালো গভর্নর হবেন এমন না। একজন গভর্নরের সময় রিজার্ভ চুরি হয়েছিল। এই গভর্নর কী সেই টাকা ফেরত এনেছেন? ঋণ খেলাপিরদের বিষয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা জানি না।  একজন ব্যক্তির জন্য এই আইন করা হলে ঠিক নয়।’

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ আইনের মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে যিনি গভর্নর আছেন তাকে ৬৭ বছর পর্যন্ত রাখা হবে। অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা কীভাবে নিরুপন করবো? রিজার্ভ চুরির টাকা তিনি ফেরত আনতে পারেননি। খেলাপি ঋণ উদ্ধার করতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ের ফাঁকে টাকা কীভাবে পাচার করে? এই পাচার বন্ধ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারি ব্যাংকগুলো মূলধন সরবরাহ করার পরেও এ অবস্থায় উনাকে ৬৭ বছর করার আইন আনা হচ্ছে। ব্যাংক খাতে সংস্কার হওয়া দরকার ছিল তা করতে পারেননি।’

এসব বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনও বক্তির জন্য নয়। গভর্নর পদের জন্য আইন করছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা অনেক যুক্তিসঙ্গত কথা বলছেন। সবচেয়ে বড় যুক্তি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার জায়গা থেকে এই আইন করা হচ্ছে।’

পরে সংশোধনী প্রস্তাব তোলার সময় বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা দেখত চাই এই আইন পাস হওয়ার পর  নতুন কোন ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।’

এর জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে আইনটি করা প্রয়োজন।  কোনও ব্যক্তির জন্য এটা হচ্ছে না। প্রয়োজনের জন্য করা হয়েছে। সামনে কেউ যদি মনে করেন ৭০ করবেন তা করতে পারেন।’

সংসদে কোনও বিল উত্থাপনের পর সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠান। তবে এই বিলের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকা যাবে।

বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে কেউ গভর্নর পদে থাকতে পারবেন না। বিদ্যমান আইনে গভর্নর পদে ফজলে কবিরের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ নেই। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর এই সময়ে ফজলে কবিরকে আরও দুই বছর রাখতে চায় সরকার। মূলত সে কারণেই আইন সংশোধনের প্রয়োজন হল।

গত ২ জুলাই ছিল ফজলে কবিরের শেষ কর্মদিবস। ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাকে পুনঃনিয়োগ দিতে পারেনি সরকার।

খসড়া আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের রাজস্ব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা-মান সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই কারণে উক্ত-প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্যতা ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজন বোধে ওই পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুসারে পুনর্নিয়োগে প্রদান কিংবা ওই ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন।’

 

 

/ইএইচএস/এফএস/

লাইভ

টপ