স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র প্রত্যাহারের দাবি বিএমএ’র

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০৬, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, আগস্ট ০৬, ২০২০

বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ)করোনা মহামারির শুরুতে অসংখ্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, অনেকে মারা গেছেন। চিকিৎসকদের বড় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ না করার সিদ্ধান্তে সম্প্রতি পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই পরিপত্র প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএমএ।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিএমএ’র সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে এই দুই চিকিৎসক নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘করোনার শুরুতে গত মার্চ মাস থেকে এদেশের চিকিৎসকরা জাতীয় দুর্যোগ মহামারিতে নিজেদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। কিন্তু যখনই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে চলে তখনই আপনার মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) কিছু আকস্মিক ও অবৈজ্ঞানিক আদেশ, পরিপত্র ও নির্দেশনা গোটা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুকৌশলে চিকিৎসকদের জনগণ কিংবা সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রটি আমাদের অবাক ও বিস্মিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অথবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মবহির্ভূত এ ধরনের আদেশে দেশের সব চিকিৎসক ক্ষুব্ধ।’

চিঠিতে তারা আরও লিখেছেন, ‘মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অনেক ভুলের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, ৭০ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এরপরও তাদের করোনাকালীন সময়ের কর্মঘণ্টা ও কোয়ারেন্টিন থাকার অবৈজ্ঞানিক পরিপত্রটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

‘আর এজন্য দ্রুত চিকিৎসকদের একমাত্র জাতীয় সংগঠন বিএমএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায় বের করা কোনও সমস্যা নয়।’

চিকিৎসক নেতারা বলেন, ‘আমরা এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কোনও বিশেষ তারকা চিহ্নিত হোটেল, কোনও ভাতা, কিংবা কোনও বিশেষ খাবার চিকিৎসকদের চাওয়া ছিল না। তাই অবিলম্বে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।’

মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের কারণে আর কোনও চিকিৎসকের সংক্রমণ অথবা মৃত্যু কিংবা এ কারণে তাদের পরিবারের কোনও সদস্যের সংক্রমণ অথবা মৃত্যুর কারণ যেন না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবেও বলেছে সংগঠনটি।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ হোটেলের সুবিধাও বাতিল করে তারা। অথচ, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর ছয় হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

/জেএ/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ