করোনা সংক্রমণ: সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, কম রংপুরে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:০৪, আগস্ট ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৮, আগস্ট ০৭, ২০২০

করোনাভাইরাসবাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিচুয়েশন রিপোর্ট-২৩ অনুযায়ী দেশে করোনা ‘অ্যাটাক রেট’ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে। গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত করা হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের ‘অ্যাটাক রেট’ এক হাজার ৪২১ দশমিক ৫।  দেশের ৬৪ জেলাতেই কনফার্ম কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।  শুক্রবার (৭ আগস্ট) কোভিড-১৯ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে তিনি এ তথ্য জানান।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে পাওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ অ্যাটাক রেট ঢাকা বিভাগে, ১০ লাখে তিন হাজার ৬৩৭ জন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটিতে ১০ লাখে সর্বোচ্চ অ্যাটাক রেট ১৪ হাজার ৮২৪ দশমিক ২। তারপর রয়েছে– ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ঢাকা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ।  ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম অ্যাটাক রেট ৩৯৬ দশমিক ৫ টাঙ্গাইল জেলায়।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাটাক রেট হিসেবে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ১০ লাখ মানুষের মধ্যে অ্যাটাক রেট এক হাজার ৪০ দশমিক ৭। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলাতেই কনফার্ম কোভিড আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম জেলা, এখানে অ্যাটাক রেট এক হাজার ৬০৯ জন, তারপর কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর। এই বিভাগে সবচেয়ে কম অ্যাটাক রেট ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে, ৫৭৯ দশমিক ৭ জন।

এরপর ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৬৬৪ দশমিক তিন জন নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ অ্যাটাক রেট সিলেট বিভাগে। এই বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ সিলেট জেলাতে। এখানে সংক্রমণের হার এক হাজার ২৮ দশমিক ৫। তারপর রয়েছে– সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার।

চতুর্থ হিসেবে রয়েছে খুলনা বিভাগ। যেখানে ১০ লাখ মানুষের মধ্যে অ্যাটাক রেট ৬৬৩ দশমিক ৫। এই বিভাগে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঝিনাইদহে, এখানে সংক্রমণের হার এক হাজার ২৪৪ দশমিক ৮। এরপর রয়েছে– মাগুরা, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়াতে সবচেয়ে কম ৩০৭ দশমিক দুই সংক্রমণের হার।

এরপর রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। অ্যাটাক রেট ৬০৮ দশমিক ৯। এই বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ অ্যাটাক রেট বগুড়ায়। এখানে সংক্রমণের হার এক হাজার ২২৯ দশমিক তিন। এরপর রয়েছে– রাজশাহী, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর। সর্বনিম্ন নাটোরে সংক্রমণের হার ২৪০ দশমিক ৪।

এরপর ৬০৮ দশমিক আট অ্যাটাক রেট নিয়ে ষষ্ঠ বরিশাল বিভাগ। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরিশাল জেলা। এরপর রয়েছে বরগুণা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর এবং সবচেয়ে কম ৫৫০ দশমিক নয় নিয়ে ভোলা জেলা।   পরের অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এখানে অ্যাটাক রেট ৩৫৩ দশমিক আট প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে। ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ময়মনসিংহ জেলাতে। এরপর রয়েছে জামালপুর, নেত্রকোণা এবং শেরপুর।

দেশে সবচেয়ে কম অ্যাটাক রেট রংপুর বিভাগে। যেটা হচ্ছে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৩৪৭ দশমিক তিন জন। রংপুর বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুর জেলাতে । এরপর রয়েছে দিনাজপুর, নীলফামারি, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁ, গাইবান্ধা এবং সবচেয়ে কম কুড়িগ্রামে। এখানে অ্যাটাক রেট ২০৮ দশমিক নয় প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে।

আরও পড়ুন- দেশের ৪ জেলায় করোনায় মারা যায়নি কেউ!

করোনা রোগী শনাক্তে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

 

/জেএ/এমএএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ