বাংলাদেশের বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে পাকিস্তান, অন্যদেরও প্ররোচিত করছে

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, আগস্ট ১২, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১২ আগস্টের ঘটনা।)

বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান তাদের রাজনীতি অব্যাহত রেখেছিল। ১৯৭২ সালের আগস্টের মাঝামাঝির এই সময়টা প্রতিদিনই এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমগুলো। ১৯৭২ সালের ১২ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, আমরা যে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব শক্তিতে আমরা যে এই ভূখণ্ডে আমাদের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করছি এতে কোনও সন্দেহের বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকা উচিত কিনা? ‍উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গ ঘোষণা করেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনও বিদেশি সৈন্যের অস্তিত্ব নেই। ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ এ কথা ঘোষণা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব কার্যকর না করার প্রশ্ন তুলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭১ সালের ২১ ডিসেম্বরের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি এবং সংঘর্ষের এলাকায় সর্বপ্রকার শত্রুতার অবসান কড়াকড়িভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রস্তাব উল্লেখ করে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব কার্যকর না করার জন্য যদি কেউ অপরাধী হয় তবে সে পাকিস্তান। তিনি বলেন, উপমহাদেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করার জন্য পাকিস্তানই দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা পরিষদের সম্মুখে বর্তমান মৌলিক প্রশ্ন থেকে দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্যই স্বার্থান্বেষী মহল প্রশ্নটি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দায়িত্বের ওপর সবসময় অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। কিন্তু সেইসঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা ও গণহত্যা কনভেনশনের মতো পবিত্র দলিলকে অস্বীকার করতে পারে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডন থেকে পরিবেশিত বিদেশি বার্তা সংস্থার সংবাদ উল্লেখ করে বলেন, ওই সংবাদে বলা হয়েছে পাকিস্তান তার বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশেষ করে আরব রাষ্ট্রসমূহ ও গণচীনের মধ্যে এমন এক ধারণা সৃষ্টি করেছে যে বাংলাদেশের জনগণ এখনও নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের আশা রাখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ থেকে নিঃসন্দেহে একথা প্রমাণিত হয় যে পাকিস্তান শুধু যে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে তা নয়; বরং বাংলাদেশের বাস্তবতা অস্বীকার করতে অন্যদেরও প্ররোচিত করছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আগামী ১৪ আগস্ট তিনি লন্ডন ক্লিনিক ত্যাগ করলেও আরও কিছু দিন তাকে লন্ডনে থাকতে হতে পারে। লন্ডন ক্লিনিকে অবস্থান করেই বর্তমানে তিনি কিছু কিছু সরকারি কাজকর্ম সম্পাদন করেছেন এবং সীমিত পরিসরে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সাক্ষাৎও দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, এই দিনে বঙ্গবন্ধু কারও সাহায্য ছাড়া কিছুটা হেঁটেছেন। বুলেটিনে আরও বলা হয়, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু তার স্বাভাবিক দৈহিক শক্তি এখনও ফিরে আসেনি।

অস্থায়ী  প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের সহযোগিতায় একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৭২ সালের এই দিনে চাঁদপুরের পুরানবাজার উচ্চবালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।  তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পসমূহ সমাপ্ত হবার পূর্বে শীত মৌসুমের ফসল উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ