প্রথম নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

দৈনিক বাংলা, ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭২

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

আগামী বছরের মার্চ মাসে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে খবরে প্রকাশ করা হয়। পিবিআই’র খবরে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পরের দিনই মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাসনতন্ত্রের খসড়া গণপরিষদে পেশ এবং নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আলোচনা করেন। একই দিনে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাৎ নেন। দুই দিনে কয়েক দফায় গণপরিষদ অধিবেশন ও নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের খবর বলছে, আগামী মাসের মধ্যেই গণপরিষদে শাসনতন্ত্র পেশ করা হবে বিধায় পর্যালোচনা প্রায় শেষ। ওই মহল থেকে বলা হয়, প্রশাসন যন্ত্রের সব কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। খসড়া শাসনতন্ত্র বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় করা হয়েছে। খসড়ায় সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আওতাবহির্ভূত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার বিধান রয়েছে বলেও আগাম  প্রকাশ করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস এদিন সাধারণ নির্বাচনে ভোটার তালিকা প্রণয়নের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই ঘোষণা রাত আটটায় বেতার এবং টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। ইতোমধ্যে দেশের খসড়া সংবিধান চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেটি পরের মাসে গণপরিষদের অধিবেশনে পেশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭২

বঙ্গবন্ধুর কর্মব্যস্ততা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটান। ১৬ সেপ্টেম্বরও তিনি সারা দিন ফাইলপত্র দেখেছেন এবং বিভিন্ন বিভাগের মন্ত্রী, পদস্থ সরকারি কর্মচারী ও আওয়ামী লীগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু গণভবনে আসেন এবং ১১টার দিকে মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য ও পদস্থ সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। গণভবনেই দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন তিনি। বিকালে বঙ্গবন্ধু নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা ও পার্লামেন্টারি সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ করেন। কাজ শেষে রাত ৮টায় তিনি গণভবন ত্যাগ করেন।

খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিন দেশের বর্তমান খাদ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, তিনি সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং খাদ্যের পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খাদ্যের চাহিদা, সরবরাহ ও খাদ্যশস্যের মূল্যের গতি, যে খাদ্যশস্য আসছে এবং আমদানি করা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশ কর্তৃক প্রতিশ্রুত খাদ্যশস্যের সাহায্যের পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করেন।

১৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু, ১৭ সেপ্টেম্বরের পত্রিকায় প্রকাশিত

ক্ষমা চেয়েছেন ভুট্টো

অলিম্পিকে পাকিস্তানি হকি খেলোয়াড়দের অশোভন আচরণের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো পশ্চিম জার্মানির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। করাচিতে পাকিস্তান অলিম্পিক হকি দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে পশ্চিম জার্মানির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো তার দেশের জনগণকে আগামী দিনের অশুভ পরিস্থিতির জন্য সতর্কও করে দেন। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ভুট্টো করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রত্যাবর্তন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখে যদি তার গণতান্ত্রিক পদক্ষেপগুলো সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।’ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘ন্যাপ নেতা আব্দুল ওয়ালি খান দেশের ঐক্য ও সংহতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তার এই উক্তি দেশকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।’ তিনি আশ্বাস  দিয়ে বলেন যে, ‘বিচ্ছিন্নতার কবল থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ