এসওপি প্রণয়ন করেছে পর্যটন বোর্ড

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১৫:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০০, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডপর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেবা প্রদানের  জন্য এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড। পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চালু করার পর এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। হোটেল-মোটেল ও পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠান ও স্থানে এই গাইডলাইন ও  স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তাও মনিটরিং করা হবে।

স্বাস্থ্যবিধি এবং সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য এসওপি  প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড। সংস্থাটি মনে করছে, এসওপি  প্রতিপালন করা হলে বাংলাদেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সেবা খাতসমূহের ওপর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের পর্যটনের বিকাশ হবে। একইসঙ্গে কোভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার পরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবর্তিত গাইডলাইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তিত স্বাস্থ্যবিধির ভিত্তিতে এই নির্দেশনাসমূহ অনুসরণযোগ্য হবে।

এসওপিতে পর্যটকদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসওপিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আগত পর্যটক এবং দেশীয় পর্যটক যারা বাংলাদেশের ভেতরে ভ্রমণ করবেন তাদের জন্য এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।  কোনও ট্যুরের জন্য অনলাইন বুকিং এবং অনলাইন অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা, আগমনী ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে বিদেশি পর্যটকদের ভিসা নিয়ে আসতে হবে।  ইনবাউন্ড পর্যটকদের ট্যুর বুকিংয়ের পূর্বে ভ্রমণসূচী  এবং স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা প্রতিবেদন, পিসিআর রিপোর্ট, কোভিড-১৯ নেই মর্মে প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গন এড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানো ও গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া ভ্রমণের সময় পরিবহন আসন ব্যবস্থায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা, সেবা গ্রহণের পূর্বে সেবা সরবরাহকারী (হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, গাইড, স্যুভেনির শপ, পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান ইত্যাদি) এর কোভিড-১৯ প্রোটোকল রক্ষার সক্ষমতা জেনে নেওয়া, যে কোন, লম্বা লাইন, ভিড় এবং এড়াতে ট্যুরের সময়সূচী, প্রবেশের টিকিট, সিট, রাইড ইত্যাদি ক্রয় পূর্বেই নিশ্চিত করা। দলগত ভ্রমণের পরিবর্তে ছোট বা পারিবারিক ভ্রমণ করা। সকল প্রকার জরুরি ওষুধ, কাগজপত্র/ যেকোনও জটিল রোগের রিপোর্ট, পর্যাপ্ত নগদ অর্থ, ক্রেডিট কার্ড, পোশাক সঙ্গে রাখা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যটকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ট্যুর ম্যানেজারের সঙ্গে শেয়ার করা।  বুফে খাবার এড়িয়ে শারীরিক দূরত্ব কমপক্ষে সাড়ে ৩ ফিট বজায় রেখে খাবার টেবিলে বসা এবং খাবার গ্রহণ করা।

হোটেল-মোটেল ও পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোভিড ১৯ চলাকালে পর্যটন সেবা প্রদানের এসওপিতে বলা হয়েছে, বিদেশি পর্যটক এবং দেশিয় পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী এবং আন্তর্জাতিক মান বিবেচনা করে পর্যটন সেবা নিশ্চিত করা।  অফিস চালু করার আগে অবশ্যই অফিস জীবাণুমুক্ত করতে হবে।  প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার/ থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে। অফিস পরিবহন অবশ্যই শতভাগ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম ৩ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সকলকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।  সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে, কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। যাত্রার আগে এবং যাত্রাপথে বারবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব ন্যূনতম ৩  ফুট বজায় রাখতে হবে।  প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।  অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কর্মস্থলে সকলকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।  ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।  কোনও কর্মচারীকে অসুস্থ পাওয়া গেলে তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

কোভিড ১৯ চলাকালে পর্যটক পরিবহনের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে এসওপিতে। বলা হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বসা নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রমণের সময় বাধ্যতামূলকভাবে সুরক্ষা মাস্ক ও হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহার করা। পর্যটক ও সেবাকর্মী গাড়িতে উঠার আগে গাড়ির অভ্যন্তরে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোন পর্যটক ও সেবাকর্মী অসুস্থ হলে বা হাসপাতাল বা ডাক্তারের সহায়তার প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিবহনের জন্য পর্যটক ও সেবাকর্মী বহনকারী গাড়ির সাথে পৃথক একটি গাড়ি রাখতে হবে।

পর্যটকদের আবাসন ও খাবার প্রসঙ্গে এসওপিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চেইন হোটেলসমূহকে তাদের অপারেটরের প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে। প্রশিক্ষিত কর্মচারী দ্বারা প্রবেশের সময় আগত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা। উচ্চ তাপমাত্রা পাওয়া গেলে অতিথিকে আলাদা রুমে রাখা এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা।  ডোরম্যান এবং অন্যান্য কর্মীদের অবশ্যই ইউনিফর্মযুক্ত পোশাক ও ফেস মাস্ক পরিধান করা।  সন্দেহজনক অতিথিদের বিষয়ে অবিলম্বে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করা। হোটেলের প্রবেশ পথে জুতা জীবাণুমুক্তকরণের জন্য স্যানিটাইজড ডোর ম্যাট সরবরাহ করা। সমস্ত হ্যান্ডেল এবং টেবিল টপস, ওয়ার্ক স্টেশন, চেয়ারের হাতল এবং হোটেল লবি/ সাধারণ স্থানসমূহ নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কাগজের ব্যবহার যথা সম্ভব কমানো। লবি এবং করিডোর নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা। করিডোরে মুক্ত বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।  দিনের শেষে ডাইনিং, বার এলাকা, দরজা, টেবিল, চেয়ার, সার্ভিস স্টেশন ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করা। নিয়মিত ব্যবহৃত কফি মেশিন, সোডা মেশিন এবং অন্যান্য মেশিনগুলি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। রেস্তোরাঁ কর্মীদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার, হেডকভার ব্যবহার করাসহ ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখা।  ব্যবহারের আগে ও পরে মেন্যু কার্ড এবং বিল ফোল্ডার স্যানিটাইজ করা।  নগদের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন,  পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এসওপি  প্রণয়ন করা হয়েছে।  পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের জন্য এই  একটি সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন তুলে ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন পর্যটন সংশ্লিষ্টদের কাছে এই এসওপি প্রেরণ করা হয়েছে।  যেহেতু কোভিড-১৯ একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা,  তাই আন্তর্জাতিক মান ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নির্দেশনাগুলোও পরিবর্তন করা হবে।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ