‘ফিনসেন ফাইলসে’ নাম থাকা তিন ব্যাংকের বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ০৯:০০, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২২, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

ফিনসেন ফাইলসে নাম থাকা তিন ব্যাংক

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) এর ‘ফিনসেন ফাইলস’ শীর্ষক ফাঁস করা নথিতে বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংকের নাম রয়েছে। তবে ব্যাংক তিনটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এমনকি ব্যাংক তিনটির বিষয়টি খতিয়েও দেখা হবে না।

জানা গেছে, ‘ফিনসেন ফাইলস’-এ নাম আসা তিনটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে ব্যাপারে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) থেকেই বারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিনসেন ফাইলসের ফাঁস করা নথিতে বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংকের নাম থাকলেও ব্যাংক তিনটির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এমনকি ব্যাংক তিনটির বিষয়ে আমরা খতিয়েও দেখবো না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে বলা হয়েছে, আমরা যেন এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেই। ফিনসেনের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠন এগমন্ট গ্রুপ থেকেও ব্যাংক তিনটির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে বলা হয়েছে। অনেক পুরনো বিষয়গুলো নিয়ে ফিনসেন যেহেতু তদন্ত করছে, সেহেতু তারাই এর সুরাহা করবে। আমরা আপাতত ব্যাংক তিনটির ব্যাপারে কোনও কিছুই করবো না।’

প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলোর গোপন চুক্তি, অর্থ পাচার এবং আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে এই ফাঁস হওয়া ‘ফিনসেন ফাইলস’ নথিতে। এই নথির তথ্য বলছে, বাংলাদেশের তিন ব্যাংকের মাধ্যমে সন্দেহজনক বিদেশি লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। ব্যাংক তিনটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) কাছে পাওয়া এই তথ্য ফাঁস করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস। গত ১৮ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে রিপোর্টে। ফাঁস হওয়া এই নথিতে দেখা গেছে, দুই লাখ কোটি ডলারেরও (২ ট্রিলিয়ন) বেশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের অনুমতি দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে জার্মানির ডয়চে ব্যাংক। রিপোর্টটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজে। এর আগে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স নামে দুটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি। সেখানে অর্থ পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের ৮৪ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছিল।

‘ফিনসেন ফাইলস’-এর তথ্য অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংক অর্থ পাঠিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও সোশ্যাল ইসলামী (এসআইবিএল) ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোতে আট লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ ডলারের লেনদেন হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ সাত কোটি আট লাখ টাকা। সব লেনদেন হয়েছে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। এসব লেনদেন সংঘটিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলান করপোরেশনের মাধ্যমে।

আইসিআইজের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সব মিলিয়ে আটটি লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং (এএনজেড) থেকে ইসলামী ব্যাংকে আসে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩৩ ডলার।

জানা গেছে, জিএমএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইলহাম সোর্সিংয়ের রফতানি আয়ের অর্থ এসেছিল ইসলামী ব্যাংকে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রেতা কালচার কিং রিচব্যান্ড ওই টাকা পাঠায়। লাটভিয়ার রিজিওয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিলে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসে এক হাজার ৬০০ ডলার। এছাড়া রূপালী ব্যাংক ২০১৬ সালের ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর ডয়চে ব্যাংকে পাঠায় চার লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ ডলার। ব্যাংকগুলোর লেনদেনের মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয় ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলান করপোরেশনের মাধ্যমে ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচটি লেনদেন নিষ্পত্তি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর হিসাবে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের কোনও লেনদেন হলে সন্দেহজনক হিসেবে রিপোর্ট করার বিধান রয়েছে। তবে সন্দেহজনক লেনদেন মানেই অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং নয়।

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ