টিভি কেনার সময় লাইসেন্স ফি বাধ্যতামূলক করতে চায় সংসদীয় কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০১, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

টেলিভিশন সেট কেনার সময়ে লাইসেন্স ফি আদায়ের বাধ্যবাধকতা চায় সংসদীয় কমিটি। লাইসেন্স ফি পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় প্রতিবছরই অনাদায়ী থাকে উল্লেখ করে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি নতুন করে ধার্য করে তা কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। বৈঠকে কমিটি অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধনের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করারও সুপারিশ করে।
তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে আজ জাতীয় সংসদে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কাজী কেরামত আলী, সিমিন হোসেন (রিমি), মুহম্মদ শফিকুর রহমান, মো. মুরাদ হাসান, সাইমুম সরওয়ার কমল ও মমতা হেনা লাভলী অংশ নেন।
বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে দেখা গেছে, কমিটির গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বৈঠকেও টেলিভিশন সেটের লাইসেন্স ফি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে টেলিভিশন লাইসেন্স ফি আদায়ের ব্যাপারে জানানো হয়, ২০০২ সাল থেকে রঙিন টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি বছরে ৫০০ টাকা আর সাদাকালো টেলিভিশনের জন্য ২৫০ টাকা।
তবে ২০০৪ সাল থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়, প্রতি বছর লাইসেন্স দেয়ার আবশ্যকতা নেই। টেলিভিশন সেট কেনার সময় ক্রেতাকে এককালীন তিন বছরের লাইসেন্স ফি দিলেই হবে। কিন্তু আইন প্রয়োগের অভাবে এককালীন লাইসেন্স ফি আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিক্রেতারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লাইসেন্স ফি আদায়ের রসিদ পূরণ করে রিপোর্ট করলেই টেলিভিশন ফি আদায়ের ব্যাপারে জানা সম্ভব। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় টেলিভিশনের লাইসেন্স ফি আদায় হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মনিটর করার মতো প্রয়োজনীয় কলাকৌশল বাংলাদেশ টেলিভিশনের নেই।
বৈঠকে বলা হয়, সেলস সেন্টারে বিক্রীত টেলিভিশন সেটের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়ের রসিদের মতো লাইসেন্স ফি আদায়ের রসিদ প্রদান এবং সেই রসিদের মাধ্যমে আদায়কৃত লাইসেন্স ফি সংশ্লিষ্ট খাতে জমার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য কেরামত আলী বলেন, টেলিভিশন কেনার সময় এককালীন লাইসেন্স ফি আদায় বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে যেহেতু সাদাকালো টেলিভিশনের সংখ্যা কম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এটি ব্যবহার করে, সেহেতু এর জন্য লাইসেন্স ফি এক বছরের জন্য একশ টাকা করে পাঁচ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হওয়া উচিত। অন্যদিকে রঙিন টেলিভিশনের জন্য লাইসেন্স ফি আকার অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া উচিত। বিক্রেতাকে বিক্রির সময় একসঙ্গে ৫ বছরের লাইসেন্স ফিসহ বিক্রি করতে হবে। এভাবে নতুনভাবে নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করলে বিটিভিসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার করতে হবে। পুরো বিষয়টি এমনভাবে করতে হবে যেন জনগণের ওপর ট্যাক্সের বোঝা না পড়ে।
বৈঠকে সভাপতি বলেন, টেলিভিশন সেট বিক্রির সময় বর্তমানে ধার্যকৃত লাইসেন্স ফির বিষয়ে পুনঃপর্যালোচনা ও আদায় করার পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করে একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে এবং এ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করতে হবে।

/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X