নেতৃত্বে সবাইকে ছাড়িয়ে শেখ হাসিনা

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ০৭:০০, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৫, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের অন্য যেকোনও রাজনীতিকের নেতৃত্বকে ছাড়িয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এমনকি নেতৃত্বের দিক থেকে তিনি পিতা বঙ্গবন্ধুকেও  ছাড়িয়ে গেছেন।  উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭১ বছরের ইতিহাসে টানা ৩৯ বছরই শেখ হাসিনা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অসংগঠিত ও ব্র্যাকেটবন্দি দলকে সুংগঠিত ও শক্তিশালী করেছেন।  তার নেতৃত্বে দল অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বলে দাবি দলটির।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও মনে করে  দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা হলেন ঐক্যের প্রতীক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে বিদেশে থাকাকালে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিলে  সভাপতি নির্বাচিত হন।  বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তখন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও প্রকট আকার ধারণ করে। দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে দল। ব্র্যাকেটবন্দি হয়ে একাধিক খণ্ডে পরিণত হয় বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলটি। এই পেক্ষাপটে নির্বাসিত জীবনে ভারতে অবস্থানকালে দলের  সভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে এ পর্যন্ত টানা ৩৯ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় তিনি কাউন্সিলরদের ভোটে ৯ বার দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বের গুণে দলে নিজের একক অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। দলে এখন তার বিকল্প তিনিই।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলের নেতৃত্বের দিক থেকে শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে বেশ আগেই ছাড়িয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম বঙ্গবন্ধু  প্রতিষ্ঠাকালে (১৯৪৯ সালে) দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৩ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে টানা ১৩ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করে ১৯৬৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ হিসাবে তিনি ২৫ বছর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদিকে বঙ্গবন্ধু চার টার্মে বছর বছর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা ৯ টার্মে টানা ৩৯ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের দিক থেকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সংসদে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর আগে খালেদা জিয়ার রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি কোনও সম্পৃতা ছিল না। জিয়াউর রহমানে মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান। পরের বছর ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন ও ১৯৮৪ সালের ১০ মে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তারপর থেকে টানা চেয়ারপারসনের দায়িত্বে আছেন তিনি। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ও সরকারের নির্বাহী আদেশে অস্থায়ী জামিনে থাকা খালেদা জিয়ার সব মিলেয়ে নেতৃত্বের সময়কাল ৩৬ বছর। অপরদিকে এইচএম এরশাদ  ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির  প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমৃত্যু (১৪ জুলাই ২০১৯) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পার্টির প্রধান হিসেবে তার নেতৃত্বের বয়স ৩৩ বছর।

বয়সে শেখ হাসিনার চেয়ে এক বছরের ছোট বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাত্র রাজনীতিতে শেখ হাসিনার থেকে এগিয়ে থাকলেও মূলধারার রাজনীতিতে পিছিয়ে আছেন। আজীবন কমিউনিস্ট মতাদর্শী সেলিম ১৯৯৩ সালে বিশেষ কংগ্রেসে পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সেই থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা এ পদে থাকার পর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত দশম কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন। এখনও পর্যন্ত তিনি এ পদে রয়েছেন। অবশ্য সিপিবির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি পার্টির অন্যান্য পদে ছিলেন। ছিলেন পার্টির গণসংগঠন খেত মজুর সমিতির শীর্ষ পদেও।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ১৯৯২ সালে গণফোরাম গঠন করার পর থেকে টানা ২৮ বছর পার্টির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অবশ্য এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্বে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি দল ত্যাগ করে নতুন দল গঠন করেন।

দুই জাসদের নেতৃত্ব দেওয়া আ স ম আবদুর রব ও হাসানুল হক ইনু রাজনীতিতে শেখ হাসিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। হাসানুল হক ইনু ১৯৮৬ সালে জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি এ পদেই আছেন। আ স ম রবের নেতৃত্বকালও প্রায় একই। তবে, তিনি মাঝে কয়েকবছরের জন্য দলের সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে প্রধান সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের দিক থেকে শেখ হাসিনা যেমনটি এগিয়ে রয়েছেন, সরকার পরিচালনায় এগিয়ে রয়েছেন তার চেয়েও বেশি।  বতর্মানে  তিন টার্মে টানা ১১ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকাল ১৬ বছর। বর্তমান মেয়াদে তার আরও তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি ১৯৮৬ সালে সালে দুই বছর এবং ১৯৯১ সাল থেকে ৫ বছর এবং ২০০১ সাল থেকে ৫ বছর মোট ১২ বছর সংসদে বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

অপরদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়া ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী ও ৫ বছর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। আর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৯ বছরের মতো দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শেখ হাসিনা সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হলেও এটা তার রাজনীতির হাতেখড়ি ছিল না। স্কুলজীবনেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে স্কুলের ছাত্রী হয়েও  আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজিমপুর গার্লস স্কুল থেকে তার নেতৃত্বে মিছিল গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যায়নকালে ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে শুরু তার রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা। ‘৬৬ সালের ৬ দফা ও '৬৯-এর গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের ফলেই আওয়ামী লীগ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে। তার নেতৃত্বে দল টানা তিনবারসহ চারবার ক্ষমতায় এসেছে। একইসঙ্গে তার নেতৃত্বে তিনবার সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসন আমলেই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনার হাত দিয়েই দেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দল ও সরকারের নেতৃত্বে থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বড় বড় অর্জন বয়ে এনেছেন তিনি। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই দিয়েছেন। সর্বশেষ বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলো যখন করোনা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখার নীতি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। যে কারণে করোনার সময়েও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আআসম আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এ ভূখণ্ড থেকে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র চক্রান্ত চলছিল, ঠিক তখনই শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন। তিনি দীর্ঘদিন দলের পাশাপাশি সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ’

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নেতা, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তিনি সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর একজন দেশপ্রেমিকের কাজই এটা। শেখ হাসিনা দলীয় নেতা ও সরকার প্রধান হিসেবে সব সংকীর্ণতার নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শেখ হাসিনা আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনি দেশে ফিরে বলেছিলেন— ‘আমি এসেছি আপনাদের মুক্তি দিতে। ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে।’ ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর বহু বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এই ২০২০ সালে যে জায়াগায় দেশকে নিয়ে এসেছেন, তাতে আমরা স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি— বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলায় আমরা পৌঁছাবো।’’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘করোনা সংকটকে মোকাবিলা করে দেশবে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাতে শেখ হাসিনা এখন অবিকল্প নেতৃত্ব। তার নেতৃত্বের কোনও বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন দ্বারা প্রভাবিত শেখ হাসিনা জাতির পিতার অসম্পূর্ণ কাজগুলোই সম্পূর্ণ করছেন। ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা নি:সন্দেহে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী। গুণে, মেধায়, যোগ্যতা এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি নিজেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছেন। তার দৃঢ়চেতা মনোভাব তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। নেতৃত্বদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলে এবং রাষ্ট্রে তার সঙ্গে তুলনার মতো দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তিত্ব নেই। তিনি জানেন কী করতে হবে। তিনি স্পষ্টবাদী। তিনি এককভাবে করোনা মোকাবিলা করছেন। তার সঙ্গে চলার মতো কাউকে দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি আমাদের শিখিয়েছে বাংলাদেশ একটি ছোট রাষ্ট্র হলেও করোনার মতো মহামারি মোকাবিলার ক্ষমতা রাখে। তবে এটাকে ধারণ করে আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

করোনা পরবর্তী নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাকে দরকার। এখন একটি শিক্ষিত, দক্ষ একুশ শতকের উপযোগী নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। এটা তার দলের জন্যও দরকার। সরকার পরিচালনার জন্যও দরকার।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তিনি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেননি। তার দলের অনেক কর্মীকে তিনি গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে আছেন। কিন্তু তার দলে অনেক দুর্নীতিবাজ ঢুকে গেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করছে। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে আরও শক্তিশালী ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে যারা দুর্নীতি করছে, তাদের চিরদিনের জন্য সমাজ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X