সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেন বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, অক্টোবর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৩, অক্টোবর ১৬, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।)
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, সরকার দেশে অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ। ১৯৭২ সালের ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় গণভবনে ভাসানীপন্থী ন্যাপ ও কৃষক সমিতি ও বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। তিনি বলেন, যেকোনও মূল্যে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে এসে কাজী জাফর আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব করতে সবকিছু করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কতিপয় রোগ সৃষ্টিকারী দেশে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার কঠোর হস্তে এসব গণবিরোধী লোকদের মোকাবিলা করবে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার কথা উল্লেখ করলে বঙ্গবন্ধু তাদের বলেন, এরূপ গুপ্তহত্যা দেশে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য বিকাশের পথকে বিঘ্নিত করবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশ ও ভারতের নির্যাতিত জনগণের পক্ষে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাসিম আলী, কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেনন, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, হায়দার আকবর খান রনো ও মোস্তফা জামাল হায়দার।


প্রয়োজনীয় সংশোধনী অভিনন্দিত হবে

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের কল্যাণের জন্য শাসনতন্ত্রকে আরও উন্নত করার যেকোনও সংশোধনী প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। এইদিনে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভায় সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে গণপরিষদে পেশ করা খসড়া শাসনতন্ত্র বিলটি খুবই উত্তম। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংশোধনী আনার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। তবু দেশের মঙ্গল ও জাতির কল্যাণের জন্য কোনও সংশোধনীর প্রয়োজন আছে বলে বিবেচিত হলে আমরা তা অভিনন্দিত করবো। শাসনতন্ত্রকে আরও উন্নত করার সংশোধনীর প্রস্তাব দিতে কোনও বাধা নেই। দেশবাসীর কল্যাণে শাসনতন্ত্রকে আরও উন্নত করার প্রস্তাব যেকোনও গণপরিষদ সদস্য, এমনকি বিরোধী দলের সদস্য দিলেও আমরা তা নেবো। খসড়া শাসনতন্ত্রের ধারা-উপধারাগুলো ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব প্রদানের জন্য তিনি গণপরিষদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে পার্টি নেতা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সদস্য ছাড়াও আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা যোগদান করেন। দলের সদস্যদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন যে, আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হলে শাসনতন্ত্র বিলের ওপর আলোচনা শুরু হবে। সকল সদস্য খসড়ার ওপর আলোচনার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। তবে সংশোধনীর প্রস্তাব আনতে হবে সংসদীয় পদ্ধতির মাধ্যমে।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে চিফ হুইপ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সংসদীয় দলের সভায় সাব-কমিটি করা হয়েছে। এই সাব-কমিটির কাছে তিন শতাধিক সংশোধনী প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো বাছাই করে সংসদীয় দলের সভায় পেশ করা হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে পরিষদে শাসনতন্ত্র বিলের ওপর আলোচনাকালে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।

 উত্তরাঞ্চলের সকল অসুবিধা দূর করা হবে

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরবঙ্গের জনগণের যাবতীয় অসুবিধা দূরীকরণের আশ্বাস দেন। এইদিনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সরকার সেসব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। জনগণের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার। তবে সবক্ষেত্রেই সময়ের প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যোগাযোগ, যমুনার ওপর পুল নির্মাণ ও বিভিন্ন নদীর খনন কাজের সমস্যা এই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল। আলোচনার পর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছেন।

/এফএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ