অনিয়মগুলো প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

Send
বাহাউদ্দিন ইমরান
প্রকাশিত : ২০:৪৪, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৩, অক্টোবর ১৮, ২০২০

এএম আমিন উদ্দিন (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)দেশের দীর্ঘমেয়াদের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ১১ বছর ৮ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি বারবার তার প্রিয় আইন অঙ্গনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তথা দেশের সমগ্র আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতি গত ৮ অক্টোবর মাহবুবে আলমের জুনিয়র আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিনকে বাংলাদেশের ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আসীন হওয়ার আগে থেকেই এএম আমিন উদ্দিন ছিলেন আইন অঙ্গনের প্রিয়ভাজন ব্যক্তিত্ব। পরপর দুটি নির্বাচনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক কিংবা আইনি কোনও বাধা না থাকায় অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার পাশাপাশি বারের সভাপতির দায়িত্বও পালন করে চলেছেন তিনি। নতুন দায়িত্বে নিজ অবস্থান ও কর্মব্যস্ততা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন:  অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলো, নতুন দায়িত্ব কেমন লাগছে?

আমিন উদ্দিন: শুরুতেই আমি বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানাই। বঙ্গবন্ধুর জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কারণেই আমার মতো সাধারণ ঘরের সন্তান অ্যাটর্নি জেনারেল হতে পেরেছি। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সবার প্রতি আমি অপার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

এরপর দায়িত্বভারের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন এবং যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি চেষ্টা করছি—তা পালন করার জন্য। প্রথমেই আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো বোঝার চেষ্টা করছি। এজন্য আমি আমার অফিসারদের (ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করে তাদের সমস্যা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ সম্পর্কে শুনছি। ধারাবাহিকভাবে রিট, ক্রিমিনাল ও সিভিল বেঞ্চের অফিসারদের সঙ্গে মিটিং করেছি।

প্রশ্ন: অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কোন বিষয়টি আপনার কাছে খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?

আমিন উদ্দিন: আমার কাছে মামলার জট নিরসন করাটাই মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে হচ্ছে। মামলার জট কমাতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের যেন কোনও অসহযোগিতা না হয়, কিংবা অ্যাটর্নি অফিসের কোনও কর্মকর্তার কারণে মামলা যেন ঝুলে না থাকে, সেজন্য কাজ করছি। তাই পুরনো যেসব মামলা এখনও ঝুলে আছে, তা খুঁজে বের করতে শিগগিরই দুজনকে দায়িত্ব দেবো। সেই মামলাগুলো শুনানি করে দ্রুত নিষ্পত্তি করবো।

প্রশ্ন: প্রয়াত মাহবুবে আলম বিচার বিভাগের দুর্নীতি দমনে সোচ্চার ছিলেন। এক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কেমন হবে?

আমিন উদ্দিন: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাফিডেভিট ও ফাইলিংয়ে অতিরিক্ত লেনদেনের বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে এনেছিলাম। এখন কিন্তু সেসব সমস্যা আর নেই। আইনজীবীদেরও কোনও অভিযোগ নেই আর। তবে যেখানে যেখানে এখনও সমস্যা বা অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে দেখা করে আইনজীবীদের সেসব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাবো। আর অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনকালে বিচার বিভাগে কোনও অনিয়ম হলে প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে।

এএম আমিন উদ্দিনের সাক্ষাৎকার (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

প্রশ্ন: করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা ভাইভা দিয়ে সনদের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাদের সে দাবির প্রতি আপনার সমর্থন কতটুকু?

আমিন উদ্দিন: বার কাউন্সিলের আইনেই আছে লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। তবে আইনে থাকলেও সেটি কীভাবে বাদ দেওয়া যায়, তা দেখতে হবে। তবে এ বিষয়ে আইন করার দায়িত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের। তবু আমি বার কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।

প্রশ্ন: দেশে অপরাধ প্রবণতা না কমার পেছনে কারণগুলো কী?

আমিন উদ্দিন: পৃথিবীর কোথাও কিন্তু অপরাধ কমে যায়নি। মূলত বিচার করা হয় অপরাধীদের একটি বার্তা দেওয়ার জন্য, যেন তারা অপরাধে উৎসাহী না হয়। আগের তুলনায় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশে অপরাধও বেড়েছে।

প্রশ্ন: আপনার আইনি জীবনের  সফলতার পেছনে কাদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি?

আমিন উদ্দিন:  প্রথমত আমার মা-বাবা, তারপর আমার স্ত্রী। এছাড়াও আমার দুই ছেলে সবসময়ই আমার কাজে উৎসাহ জুগিয়ে থাকে। সব কাজে সঙ্গে থেকে আমার স্ত্রী আমাকে সহযোগিতা করে চলেছেন। এছাড়া আমার সিনিয়র প্রয়াত মাহবুবে আলম স্যারের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ধন্যবাদ।

আমিন উদ্দিন: বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর মৌলভীবাজারে এএম আমিন উদ্দিন জন্মগ্রহণ করেন। প্রয়াত জাহানারা বেগম ওরফে মরিয়ম বেগম এবং প্রয়াত আব্দুল গণির সন্তান তিনি। আমিন উদ্দিনের স্ত্রীর নাম আফসারি খানম। তাদের দুই ছেলে রাইয়ান আমিন ও নাহিয়ান আমিন। তিনি ১৯৮৭ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর ১৯৮৯ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী নিযুক্ত হন। তিনি ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর পদমর্যাদা অর্জন করেন।

আমিন উদ্দিন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী তথা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০০১ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পান। ২০০৬-২০০৭ ও ২০০৭-২০০৮ সেশনের নির্বাচনে পরপর দুবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ সেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X