হামিদুর রহমানের শোক প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধা নিবেদন

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, অক্টোবর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৯, অক্টোবর ২১, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২১ অক্টোবরের ঘটনা।)

পরলোকগত এমসিএ হামিদুর রহমানের গৌরবময় রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, হামিদুর রহমান এ দেশের জনগণের অর্থনৈতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বর্বর পাক বাহিনী তার যথাসর্বস্ব ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু তিনি নতি স্বীকার করেননি। তিনি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। হামিদুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে পরিষদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাব সম্পর্কে বক্তৃতা করতে গিয়ে পরিষদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু বলেন, বাল্যকাল থেকে তিনি আমার সঙ্গে কাজ করতে থাকেন। তিনি একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে বাঁচানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। তিনি বলেন, আমরা তার মৃত্যুতে অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত। পরিষদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বলেন, হামিদের নামাজে জানাজা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এই জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য এক ঘণ্টা পরিষদের বৈঠক মুলতবি করতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন। এক ঘণ্টা পর পুনরায় পরিষদ বসলে চিফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন পরিষদের পক্ষ থেকে স্পিকারকে সেদিনের কার্যক্রম মুলতবি রাখার অনুরোধ জানান।

স্পিকারের যে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন তাতে হামিদুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমী সমাজসেবী ও মুক্তিযোদ্ধাকে হারালো।

অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে কোটি টাকা ক্ষতি

অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ঘোড়াশাল শিল্পাঞ্চলে একশ দিনে পাটকলগুলো প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। তাছাড়া দুটো সুতাকল ও অন্যান্য চরিত্রে শিল্প-কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো। স্বাধীনতার পর থেকেই এই শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত। কিন্তু গত জুলাই মাস থেকে এই অবস্থা চরম অবনতি ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিনের বেলায় হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাতে চালু হয়। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক বাংলা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ১৯৭২-এর জুলাই মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ৩০ ঘণ্টার বেশি, আগস্ট মাসে ২৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ সময়সীমা ৫০ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে।

সীমান্ত নিয়ে পরিকল্পনা সফল হতে চলেছে

সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিতকরণ ও সীমান্তে সেনাবাহিনী নিয়োগের পর যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া জেলার ৩২০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর চোরাচালান কমে গেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই সম্পূর্ণ সীমান্ত এলাকাটি সে সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৭ অক্টোবর থেকে সীমান্তের দুই মাইল এলাকায় সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। বাংলাদেশে বাহিনীর কর্মীরা চোরাচালানিদের প্রতিটি জানা পথে পাহারা দেয়। তাছাড়া সীমান্তে ৫ মাইল এলাকায় খাদ্য চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরমধ্যে চাল, মাছ, ডিম ইত্যাদির দাম হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এযাবৎ শতাধিক চোরাচালানি গ্রেফতার হয় এবং তাদের বিচারের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়।

এবার চিনি ও তেলের তেলেসমাতি

একশ্রেণির অসাধু লোক রেশন দোকানে নিয়মিতভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য হ্রাস করতে নেওয়া কোনও উদ্যোগই সফল হচ্ছিল না এদের কারণে। এদের সঙ্গে অশুভ সহযোগিতার হাত মিলিয়েছে কিছুসংখ্যক সরকারি আমলা। ফলে রেশন কার্ডধারীদের অনেক সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিশেষ করে চিনি। অনেক দিন ধরেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অভিযোগ আছে, ঢাকা শহরের অনেক রেশন দোকানে এই অপসংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত করার পরেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি। যদিও বঙ্গবন্ধু বারবারই চোরাকারবারি, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিচ্ছিলেন, বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছিল। তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ