করোনাকালে কেমন চলছে সংসদীয় কমিটি

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ১৩:০০, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৭, অক্টোবর ২৩, ২০২০

দেশে করোনা সংক্রমণকালে (২২ অক্টোবর পর্যন্ত) সংসদীয় কমিটির মোট ৬৭টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ৩৪টির বৈঠক হয়েছে। তারা বৈঠক করেছে ৫৯টি। অপরদিকে সংসদ সম্পর্কিত ১১টি কমিটির মধ্যে চারটির বৈঠক হয়েছে চলমান কোভিড-১৯ কালে। এই চার কমিটি চারটি বৈঠক করেছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মাসে অন্তত একটি বৈঠক করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অর্থ, স্বাস্থ্য, পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ, বাণিজ্য, শিল্প, ধর্ম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এ সময়ে কোনও বৈঠক করেনি। এদের মধ্যে পরিকল্পনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটি চলতি অক্টোবরে বৈঠক আহ্বান করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের মোট ৫০টি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সম্পর্কিত ১১টি এবং মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টি। সংসদ বিষয়ক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানে কোনও ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও কার্যপ্রণালী বিধিতে তিন মাসে সংসদ সম্পর্কিত অনন্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
চলতি একাদশ সংসদের যাত্রা শুরুর পর কমিটির বৈঠক মোটামুটি নিয়ম মেনে চললেও ছন্দপতন হয় দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর। গত মার্চে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই মহামারির সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। এর আগে ও পরে বেশ কয়েকটি সংসদীয় কমিটির বৈঠকের সিডিউল থাকলেও তা বাতিল করা হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সরকারি ছুটি ঘোষণার দুই দিন আগে ২৪ মার্চ কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিতদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিআই) সরবরাহে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, আইসোলেশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও আইসিইউ সুবিধার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর গত সাত মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি আর কোনও বৈঠক করেনি। এ সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অর্থের অপচয়, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্বাস্থ্যের মহাপরিচালককেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেও অনিয়মে সংশ্লিষ্টদের তলব করে। তবে এ সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত,গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকলেও স্বাস্থ্যসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু ছিল।
সম্প্রতি পেঁয়াজ, আলু, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও এ খাতের ওয়াচডগ হিসেবে পরিচিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কোনও তৎপরতা নেই। দেশে করোনা সংক্রমণের পর এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কোনও বৈঠক করেনি। তবে করোনা সংক্রমণের আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে এ কমিটি দুটি বৈঠক করে। অবশ্য আগামী ২৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
করোনা সংক্রমণকালে পরিকল্পনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি কোনও বৈঠক করেনি। চলতি অক্টোবরে এ দুটি কমিটি বৈঠক আহ্বান করলেও পরে তা বাতিল করা হয়। অবশ্য চলতি বছরে পার্বত্য বিষয়ক কমিটির কোনও বৈঠক হয়নি। এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি করোনাকালে কোনও বৈঠক তো করেইনি, এমনকি চলতি বছরে তাদের কোনও বৈঠকই হয়নি।
করোনা সংক্রমণকালে সংসদীয় কমিটির বৈঠকের সূত্রপাত ঘটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সরকারি ছুটি থাকাকালে গত ১৭ মে এ কমিটি বৈঠক করে। এটি ছিল ১৩তম বৈঠক। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর ১৭তম বৈঠকসহ করোনায় সময় এই কমিটি মোট ৫টি বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কার্যপ্রণালী বিধিতে প্রতিমাসে একটি করে বৈঠক অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যে কারণে আমরা নিয়মিত বৈঠকের চেষ্টা করেছি।’
করোনাকালে বৈঠক শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন, করোনাযুক্ত বিশ্বে পররাষ্ট্রনীতি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে আমরা আলোচনা জরুরি মনে করে মে মাসে বৈঠকের উদ্যোগ নেই। ওই সময় স্পিকারের কাছে বৈঠকের অনুমতি চাইলে তিনি স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে, কার্যপ্রণালী বিধিতে থাকা প্রতিমাসে একটি বৈঠকের বিষয়টি জানালে তিনি অনুমতি দেন। আমরা স্পিকারের পরামর্শে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব বৈঠক করছি। প্রতিটি বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি।’
করোনাকালে বৈঠকের সংখ্যার হিসাবে পররাষ্ট্রের পরেই রয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এ কমিটি করোনাকালে চারটি বৈঠক করেছে। এ পর্যন্ত কমিটির মোট ২৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও করোনার সময় ৪টি বৈঠক করেছে।
এছাড়া করোনার সময়ে তিনটি করে বৈঠক করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, মুক্তিযুদ্ধ, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
দুটি করে বৈঠক করেছে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, রেলপথ, সাংস্কৃতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রতিরক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি হিসাব ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিট।
একটি করে বৈঠক করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, ভূমি, তথ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি, যুব ও ক্রীড়া, খাদ্য, কৃষি, বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এছাড়া চলতি অক্টোবর মাসে আরও ১১টি বৈঠকের সিডিউল রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সাতটি এবং সংসদ সম্পর্কিত চারটি।

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ