জমির খাজনা এখন অনলাইনে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫০, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫১, অক্টোবর ২৮, ২০২০

vumi-montonaloy

অনলাইনে দেওয়া যাবে জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আয়োজন উদ্বোধন করা হয়। 

‘হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা’ শীর্ষক ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার পাইলটিং (১ম পর্যায়) কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারসহ মামলা সম্পর্কিত তিনটি সফটওয়্যারের পাইলটিংয়ের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৮টি জেলার ৯টি উপজেলাধীন ৯টি পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৯টি মৌজা নির্বাচন করা হয়েছে।

এরমধ্যে ৫টি পৌর ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৩টি মৌজা হচ্ছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও দক্ষিণ মতলব উপজেলার অন্তর্গত মিরপুর, গুদারারচর, নোয়াগাঁও, রুদ্রগাঁও, ভাটিরগাঁও, চরহোগলা, মোবারকদি ও ১৭৬নং ঢাকিরগাঁও মৌজা, মানিকগঞ্জ সদরের বনগ্রাম চক ও গঙ্গাধর পট্টি মৌজা, কিশোরগঞ্জ সদরের করমূলী ও মারিয়া মৌজা এবং জামালপুর সদরের সাতপাকিয়া মৌজা।

৪টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্গত ৬টি মৌজা হচ্ছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলাধীন পাটগাতি ইউনিয়নের অন্তর্গত টুঙ্গিপাড়া মৌজা, ঢাকার সাভার উপজেলাধীন বাগধনিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর ও আনন্দপুর মৌজা, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাধীন খাসখামা ইউনিয়নের হাইলধর ও মালঘর মৌজা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর ইউনিয়নের 'দেওভোগ ‘ম’ খণ্ড' মৌজা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ভূমি অফিসেই অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করা যাবে। তবে ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে সারাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা শতভাগ অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় চলে আসবে।

এ সময় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনও প্রান্ত থেকে জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) প্রদান করা যাবে। ভূমি কর প্রদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশের ৩ কোটি ৬০ লক্ষ জনগণ এ সেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি কমবে ও ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধ হবে।

ভূমিমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রয়াসে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের দূরদর্শী উদ্যোগের ফসল হিসাবে ভূমি মন্ত্রণালয় মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন করেছে।

মৌজা রেট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত ব্যাপার মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। আমরা আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরবো। মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জুলাই মাস নাগাদ দেশব্যাপী অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। 

ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রাজস্ব আদায়ের পাইলটিং কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্বাচিত ভূমি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপ্ত দাখিলার বৈধতা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি পরিপত্র জারি করেছে।

 

/এসআই/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ