গ্রিনহাউসের সামনের দরজাটা খুলতেই নাকে ধাক্কা দেয় তীব্র দুর্গন্ধ। ঘরটিতে ঢুকতে ঢুকতে সেই গন্ধ এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠলো যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। অনেকটা পঁচা মাংস বা মরা পশুর গন্ধে ভারী হয়ে আছে চারপাশ। তবে এই পঁচা গন্ধে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে মানুষ পালাচ্ছে না, বরং ভিড় জমাচ্ছে অদ্ভুত এক ফুল দেখতে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজের ট্যালকট গ্রিনহাউসে ফুটেছে এক ‘শবফুল’ (কর্পস ফ্লাওয়ার), যার নাম রাখা হয়েছে ‘প্যাঙ্গি’।
অ্যামরফোফ্যালাস টাইটানাম বৈজ্ঞানিক নামের এই উদ্ভিদটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার রেইনফরেস্টের বাসিন্দা। এটি অত্যন্ত দুর্লভ এবং খুব কম ফোটে। এই ফুলটির বৈশিষ্ট্যই হলো, এটি ফুটলেই পঁচা মাংসের মতো দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা মূলত মাছি ও পোকামাকড়কে পরাগায়নের জন্য আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।
প্যাঙ্গি নামের এই গাছটি সর্বশেষ ফুটেছিল ২০২৩ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে গত ছয় সপ্তাহে এটি দিনে কয়েক ইঞ্চি করে বেড়ে অবশেষে প্রস্ফুটিত হয়েছে। সোমবার রাতভর ফোটার পর মঙ্গলবার সকালে গ্রিনহাউসের কর্মীরা প্রথম এর অস্তিত্ব টের পান। গ্রিনহাউসের পরিচালক টম ক্লার্ক বলেন, সামনের দরজা দিয়ে ঢোকার সময়ই আমরা গন্ধটা পেয়েছিলাম। ভেতরে গিয়ে দাঁড়ানোই প্রায় অসম্ভব ছিল। কেউ এই উদ্ভিদের কথা না জানলে ভাবতেন, গ্রিনহাউসের ভেতর বুঝি কিছু মরে পচে গেছে!
ফুলটি দেখতে আসা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নিক্স ডেলপ্রাডো বলেন, আমি জানতাম গন্ধটা খারাপ হবে, কিন্তু এটা যে সত্যিই পঁচা মাংসের মতো গন্ধ ছড়াবে তা ভাবিনি। এর নামটা সত্যিই সার্থক।
আরেক শিক্ষার্থী মাহিন সিদ্দিকী আবার এই গন্ধে খুঁজে পেয়েছেন পচা ডিম বা সালফারের ঘ্রাণ।
গ্রিনহাউসের ভেতর এক দীর্ঘ স্তম্ভের মতো স্পাডিক্স বা পুষ্পবিন্যাস দেখা যায়, যার গোড়ায় রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট ফুল। এর বাইরের পাতাটি গাঢ় বেগুনি রঙের। বিশাল এই পুষ্পবিন্যাস টিকে থাকে মাত্র কয়েকদিন। এই উদ্ভিদ নিজে নিজে পরাগায়ন করতে পারে না, তাই অন্য উদ্ভিদের পরাগরেণুর প্রয়োজন হয়। টম ক্লার্কের মতে, এই বিরল ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্ভিদের বৈচিত্র্য বোঝার এক চমৎকার সুযোগ।
দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতায় এই গন্ধের রয়েছে বিভিন্ন বৈচিত্র্য। কেউ এর তুলনা করেছেন কম্পোস্টের স্তূপের সঙ্গে, কেউ বা খামারবাড়ির সারের গন্ধের সঙ্গে। আবার মাইকেল ব্রেটন নামের একজন দর্শনার্থী তো দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ছুটি নিয়ে এসেছেন এই ফুল দেখতে। তার কাছে এই গন্ধ মনে হয়েছে ‘রোদে পড়ে থাকা দুর্গন্ধময় ডায়পারের’ মতো। তবে গন্ধ যা-ই হোক, প্যাঙ্গির উজ্জ্বল রং ও বিশালত্বে তিনি মুগ্ধ।
দুপুরের দিকে গ্রিনহাউসের ভেন্ট বা বাতাস চলাচলের পথ খুলে দেওয়ায় গন্ধের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। শিক্ষার্থী নামুনা নেগি মনে করেন, এই ফুলের অল্প আয়ুই মানুষকে বেশি টানে। তিনি বলেন, মানুষ সবসময় চলমান কোনও ঘটনার অংশ হতে চায়। যখন কেউ শোনে যে কোনও কিছু খুব দ্রুত মরে যাবে, তখন তারা শেষবারের মতো তা দেখতে চায়, যাতে পরে তা নিয়ে গল্প করতে পারে।
সূত্র: এপি নিউজ









