গাবতলী বাস টার্মিনালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর গোটা এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনও ধরনের যানবাহন চলাচল না করায় গাবতলীর আশপাশের এলাকায় আটকা পড়েছেন কয়েকশ মানুষ।
ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকা থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে আটকা পড়া বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তাদের একজন এনায়েত। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ এসেছেন গোপালগঞ্জ থেকে। আমিন বাজারে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাদের। এরপর আর কোনও যানবাহন পাননি তারা। এনায়েত বলেন, ‘আগারগাঁওয়ে যাব। কিন্তু আমিন বাজারে নামার পর আর কিছুই পাইনি। হেঁটে এসেছি। হেঁটেই যেতে হবে বউ-বাচ্চাসহ।’
এদিকে, খিলগাঁও থেকে পায়ে হেঁটে ও কিছুদূর রিকশায় চড়ে মাজার রোড পর্যন্ত এসেছেন রিকশাচালক আব্দুল মাজেদ। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও পাঁচ-ছয় জন। তারা প্রত্যেকেই গ্রামের বাড়ি যাবেন। তাদের কারও বাড়ি ঝিনাইদহ, কারও ফরিদপুর, কারও কুষ্টিয়া। কিন্তু কোনও ধরনের যানবাহন না থাকায় এখন ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছেন মাজার রোডের সামনে। তারা বুঝতে পারছেন না কী করবেন।
আব্দুল মাজেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ঢাকায় রিকশা চালাই। আমরা জানতাম না যে গাড়ি চলতেছে না। এক মাস হলো বাড়ি থেকে এসেছি। এখন বাড়ি যাওয়ার জন্য সবাই এসেছি। সেই খিলগাঁও থেকে হেঁটে, রিকশায় এতদূর এসেছি। এখন বাড়ি যেতে না পারলে আবার হেঁটে হেঁটে খিলগাঁও ফিরতে হবে।’
মাজেদের সঙ্গে থাকা শরিফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাড়ি ফরিদপুর। আমি মধুর ব্যবসা করি। ব্যবসার কারণে তিন দিন ধরে হাঁটতেছি। এখন বাড়ি যাওয়ার জন্য গাবতলী আসছিলাম। মনে করেছিলাম, বাস না গেলেও ট্রাকে করে বাড়ি যেতে পারব। এখন এখানে এসে দেখি কোনও উপায় নেই। এখন কী করব, বুঝতে পারতেছি না।’
একই পরিস্থিতি পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া শ্রমিক শাহজাহান ও আশরাফুলের। তাদের মধ্যে শাহজাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন তো অনেক রাত হয়ে গেছে। কোথায় যাব? সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করি।’
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সাইফুল ও আলী আহসান এসেছেন মাগুরা যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারাও গাড়ি না পেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মাজার রোডে।
একই ধরনের পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন আরও শতাধিক যাত্রী। তারা প্রত্যেকেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন বাড়ি যাওয়ার পথে।
আরও পড়ুন: লাশবাহী গাড়িও যেতে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা
/এআরআর/সিএ/টিআর/এমএনএইচ/








