বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু আরও বেড়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের একটি জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ বছর ৬ মাসে। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু ৭০ বছর ৩ মাস এবং নারীদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর ৯ মাস। দেশে এখন নারীদের বর্তমান গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে বেশি।
এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর ৯ মাস। ২০১৪ সালের হিসাবে গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর ৭ মাস। এর আগের বছর ২০১৩ সালে ছিল ৭০ বছর ৪ মাস। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রটিতে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ স্ট্যাটিসটিকস: মনিটরিং হেলথ ফর দ্য এসডিজিস’ -এর ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনু্যায়ী বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ৮ মাস। এর মধ্যে মহিলাদের গড় আয়ু ৭৩ বছর ১ মাস ও পুরুষদের গড় আয়ু ৭০ বছর ৬ মাস। অর্থাৎ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের চেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বাংলাদেশে আরও ওপরের দিকে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ১৫ বছরের (২০০০-২০১৫) মধ্যে গত পাঁচ বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গড় আয়ু বৃদ্ধির হার। এর অন্যতম কারণ হলো এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও শিশু মৃত্যুরোধে সাফল্য।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এগুলোর পাশাপাশি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার কারণে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কমিউনিটি হাসপাতাল অন্যতম একটি উদ্যোগ। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ইন্টারনেটকে ভিত্তি করে চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছেছে, সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সে জন্য চিকিৎসাক্ষেত্রের ডিজিটালাইজেশন জরুরি হয়ে উঠেছে।
সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যদি চিকিৎসাক্ষেত্রের ডিজিটালাইজেশন সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশ গড় আয়ুর দিক থেকে আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইতিমধ্যে সাধারণ জনগণকে ঝামেলাহীন উপায়ে চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসতে ডক্টরোলা ডট কম নামের ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগ চালু রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি একটি শর্টকোড নম্বর (১৬৪৮৪) ও ওয়েব সাইটের (Doctorola.com) মাধ্যমে মানুষকে ডাক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এমনকি সেখান থেকে গ্রাহক তার সবচেয়ে কাছের স্বীকৃত ডাক্তারের সিরিয়াল নিতেও সক্ষম হবেন। এক কথায় বলতে গেলে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা কোনও ধরনের নাজেহাল না হয়েই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন।
তাছাড়া ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন থাকছে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান। এ রকম ইন্টারনেটভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে প্রযুক্তিবিদরা আশা করছেন।
/এইচএএইচ/







