রাজধানীর মৎস ভবন মোড় থেকে বিআরটিসির দোতলা বাসে ওঠেন ফার্মগেট এলাকার বেসরকারি এক কোম্পানির কর্মচারী ফয়সাল উদ্দিন। বাসটি থেমে যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটের কাছে। প্রায় ৫০ মিনিটেও জ্যাম ছাড়েনি। বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি। তার সঙ্গে এক এক করে মেনে পড়েন সব যাত্রীই। শুন্য হয়ে যায় পুরো বাস।
মৎস্য ভবন থেকে বাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রধান গেট পর্যন্ত পৌঁছুতে ৫০ মিনিটের মতো সময় লাগে ফয়সাল উদ্দিনের। এরপর সেখান থেকে হেঁটে ফার্মগেটে অফিসে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসে মাত্র ৩০০ গজ পথ আসতে সময় লেগেছে ৫০ মিনিট। এ পথটি পায়ে হেঁটে আসলে লাগতো দুই মিনিট। এখন চিন্তা করলাম বাসে বসে না থেকে বরং হেঁটেই অফিসে যাই।’
শুধু ফয়সাল উদ্দিন নন, যানজটে বিরক্ত হয়ে প্রায় সবকটি বাসের যাত্রীরা নেমে পড়েন রাস্তায়। হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ সড়কে দেখা গেছে, তীব্র যানজট। কিন্তু গণপরিবহনগুলোতে নেই কোনও যাত্রী। যানজটের কারণে সবাই নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছেন। আর চালকরা যানবাহনের ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে আছেন। যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে নেমে পড়লেও চালকদের কেউ কেউ আসনেই ঘুমিয়ে পড়েন।
এদিকে, সড়কে এমন পরিস্থিতি দেখে যাত্রীরা বাসে ওঠার পর পরই ভাড়া আদায় করে নেন হেল্পাররা। ফলে গন্তব্যে না পৌঁছেও ভাড়া দিতে হয়েছে যাত্রীদের। এ নিয়ে যাত্রী ও হেল্পারদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডাও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রাজধানী জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এতে অধিকাংশ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টির পর জলজটের পাশাপাশি দেখা দেয় তীব্র যানজট। সড়ক জুড়ে থৈ থৈ পানি। এতে নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশকেও।
বিকেল ৫টার দিকে গ্রীণ রোডে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক জুড়ে হাঁটু পানি। এর মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত যানবাহন। ট্রাফিক সিগন্যালও প্রায় অকার্যকর। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব ছেড়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তীব্র জ্যামে আটকা পড়ে, হৈ চৈ করতে থাকেন সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাফিক সদস্য সাইফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কি করবো? হাঁটু পরিমাণ পানি। সবাই এক সঙ্গে যেতে চায়। একটু জায়গা খালি হলে কার আগে কে যাবে প্রতিযোগিতায় নামে। কেউ কমান্ড মানতে রাজি না। আর কতো সহ্য হয়।’
পরে এই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যের সামনেই নিজের মাইক্রোবাস দাঁড় করিয়ে রেখে হাতে লাঠি নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন একজন চালক। পরে উপস্থিত যাত্রীদের চাপের মুখে ট্রাফিক সদস্যকে আবার তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের বৃষ্টিতে নগরীর পল্টন, মতিঝিল, গুলিস্তান, সচিবালয়, বঙ্গভবন এলাকা, আরামবাগ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মালিবাগ, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, নাজিম উদ্দিন রোড, গ্রীণ রোড, কলাবাগান, কাঁঠাল বাগান, ধানমণ্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, কালশী, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, কুড়িলসহ অধিকাংশ সড়কে জলজটে যান চলাচল গতি হারায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও এসব সড়কে যানবাহন চলাচলে গতি ফিরছে না। ফলে নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।
চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরীর নিম্নাঞ্চলবাসীকে। বিশেষ করে নগরীর জুরাইন, মধ্য জুরাইন, ডিএনডি বাঁধ, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও বসিলাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী কোনও সমাধান না হওয়ায় এ নিয়ে চিন্তিত তারা।
এদিকে, বঙ্গভবন ও সচিলায় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার সব সেবা সংস্থাগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা ওয়াসা, ডেসা, বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঢাকা ওয়াসাকে জরুরি ভিত্তিতে এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ইমার্জেন্সি টিমকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকার ড্রেন ও ম্যানহোলগুলো খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে এই টিম।
/এসএস/এসএমএ/








