বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্যবান হিসেবে গড়ে তুলতে ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তাদের পরিবার সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। এই প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী স্পেশাল অলিম্পিকসের সহায়তায় গড়ে উঠেছে ন্যাশনাল ফ্যামিলি ইনপুট কাউন্সিল (এনএফআইসি)। বাংলাদেশেও যাত্রা শুরু করেছে এনএফআইসি। এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে সংগঠনটির আটটি শাখা। স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের এই অঙ্গ সংগঠনটির গ্রুপ লিডার মমতাজ সুলতানার প্রত্যাশা―দ্রুতই এই সংগঠনটি হবে বিশেষ শিশুদের অভিভাবকদের আস্থার জায়গা, অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিটি বিশেষ শিশু এক সময় হয়ে যাবে স্বাস্থ্যবান খেলোয়াড় এবং অধিকার সচেতন নাগরিক। সমাজে অবদানও রাখতে পারবে তারা।
বুধবার (৪ অক্টোবর) ন্যাশনাল ফ্যামিলি ইনপুট কাউন্সিল (এনএফআইসি)-র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত ভাষণে সংগঠনটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজধানীর উত্তরার বিউটিফুল মাইন্ড স্কুলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ড. শামীম মতিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থাটির ন্যাশনাল ডিরেক্টর ফারুকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফাহমিদা তুলি এবং বাংলা ট্রিবিউন-এর জয়েন্ট নিউজ এডিটর তানজিমুল নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ডা. শামীম মতিন চৌধুরী স্পেশাল অলিম্পিকসের গবেষণামূলক কর্মসূচি থেকেই এনএফআইসি গঠনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে বলে জানান। তিনি বলেন, বিশেষ শিশুদের অভিভাবকরা দূর থেকে নানা কাজে সাহায্য সহযোগিতা করছেন, অনেকে পৃষ্ঠপোষকতাও করছেন কিন্তু সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকায় তারা স্পেশাল অলিম্পিকসের সম্পদ হিসেবে তৈরি হচ্ছেন না। তাই এ ধরনের শিশুদের পরিবারকে ‘রিসোর্সফুল’ করে তুলতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে এনএফআইসি গঠন করা হয়েছে। শৈশব থেকেই এ ধরনের শিশুদের স্বাস্থ্যবান হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের পরিবারকে আরও মনোযোগী করতেই এই সংগঠনটি কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ফারুকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ শিশুদের আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দরকার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং অংশগ্রহণ। এজন্য সবচেয়ে ভালো সেবা ও সহযোগিতা করতে পারে তার পরিবার। তাই এসব শিশুর পরিবারকে এই বিশেষ কার্যক্রমে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে স্পেশাল অলিম্পিকস। সংস্থাটির অঙ্গ সংগঠন এনএফআইসি ভবিষ্যতে সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্পেশাল অলিম্পিকসের এসব কর্মসূচি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলা ট্রিবিউনের জয়েন্ট নিউজ এডিটর তানজিমুল নয়ন। এছাড়াও এনএফআইসি’র সাফল্য কামনা করে বক্তব্য রাখেন ডা. ফাহমিদা তুলি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে অংশ নিয়ে বিশেষ শিশুরা চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। পরে সুর মূর্চ্ছনা দিয়ে দর্শকের মাতিয়ে তোলে ব্যান্ডদল ‘ঈ’।








