প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন আজ বৃহস্পতিবা (৩০ নভেম্বর)। সকাল ১১টায় দেশের এই প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র বাসসকে এ কথা জানায়।
সূত্র জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন রাশিয়ার স্টেট এটমিক এনার্জি করপোরেশন, রোসাটামের মহাপরিচালক এলেসি লিখাচেভ ও দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের যোগান দেবে। রোসাটমের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ও জেএসসি অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্ট-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্ট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন।
রোসাটম নিযুক্ত রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্ট-এর ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে দেশের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণ চুক্তি এবং ২০১১ সালে রোসাটম-এর সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে।
২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সূত্র: বাসস








