আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে ওইদিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন আদালত। মালিকরা হলেন- দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ।
বৃহস্পতিবার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এই স্থগিতাদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আসামিদের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা। এর মধ্যে তিন মামলায় দিলদার আহমেদসহ আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাকি দুই মামলা মুলতবি রাখেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। আজ ওই তিন মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করলেন চেম্বার আদালত।
গত ২২ নভেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা হওয়ার কথা না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ করা হয়েছিল। এছাড়াও তাদেরকে (তিন মালিক) একটি দোকানের বিষয়ে শুল্ক আইনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একটি রিট মামলাও চলমান রয়েছে। অথচ এসব প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচারিক আদালতে আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের পক্ষে আবেদন করা হলেও তাদের জামিন মেলেনি। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি কার্যতালিকায় এলে রাষ্ট্রপক্ষে এ নিয়ে শুনানি করতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে রুলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন দেন। তবে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামীদের সেই জামিন আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত আসামিদের জামিন স্থগিত রাখা হয়। তবে আজ পুনরায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।’
আরও পড়ুন:
গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছেন না শিক্ষকরা, মান নিয়ে প্রশ্ন








