দুর্ঘটনায় আহত যেকোনও রোগীকে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারির আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের হাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত মো. ইব্রাহিম টিকাটুলির সালাউদ্দিন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া, একইদিনে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছিনতাইকারীদের হাতে হেলেনা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনা দুটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ পায়। সেসব প্রতিবেদন আদালতে নজরে এনে রিট দায়ের করা হয়।
আদালত সেই রিটের শুনানি নিয়ে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত যেকোনও রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে ভিকটিম মো. ইব্রাহিমের পরিবারকে দশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
পরে মনজিল মোরসেদ জানান, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসারে বেঁচে থাকার অধিকার হলো মানুষের মৌলিক অধিকার। সুতরাং দুর্ঘটনায় বা ছিনতাইকালে কেউ আহত হলে এবং কাছের কোনও হাসপাতালে গেলে ওই হাসপাতাল/ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা দিতে বাধ্য। কিন্তু ওইসব হাসপাতাল/ক্লিনিক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।








